ঝিনাইদহে দারোগার নারী কেলেঙ্কারি, ধরা পড়ে জুতা মানিব্যাগ ফেলে পলায়ন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার রামচন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শিবু হালদারের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ তদন্তে মাঠে নেমেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শিবুপদ হালদারের অনৈতিক কর্মকান্ডে সহযোগিতার অভিযোগে রামচন্দ্রপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মো. রিয়াজ হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ করায় ঝিনাইদহ ও শৈলকুপার একাধিক সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন এএসআই শিবু হালদার।

এলাকাবাসী জানান, পুলিশের এএসআই শিবু হালদার গত ৯ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে শৈলকুপা উপজেলার মহিষগাড়ি গ্রামে এক ছাত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েন। রামচন্দ্রপুর কিসমত আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মুসলিম পরিবারের ওই ছাত্রীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। হিন্দু হয়েও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিকভাবে শারিরীক সম্পর্ক গড়ে তোলে শিবু।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এমন কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ হন গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ঘটনার দিন ৯ জুলাই রাতে পুলিশের এমন অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ জানান গ্রামবাসী। ওই গ্রামের দুলু মন্ডলের ছেলে লাল মিয়া, হেলাল মন্ডলের ছেলে মধু মিয়া, মোশারফ মন্ডলের ছেলে সুমন, ইজাল মন্ডলের ছেলে জাহাঙ্গীর, ইখলাস মন্ডলের ছেলে মিন্টুসহ ২০/২৫ জন গ্রামবাসী ওই কিশোরীর ঘরে এএসআই শিবু হালদারকে আটকে ফেলেন।

একপর্যায়ে উত্তেজিত গ্রামবাসী শিবুকে মারধর শুরু করলে কোমরে থাকা পিস্তল উঠিয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যায় শিবু। কিন্তু কিশোরীর ঘরে তার জুতা, মানিব্যাগ ও গায়ের জামা ফেলে রেখে যায়। পুলিশের নারী কেলেঙ্কারীর এ ঘটনা মহিষগাড়ি, মাইলমারি, শেখপাড়া, রামচন্দ্রপুরসহ কয়েক গ্রামের হাজার হাজার মানুষের মুখে মুখে ঘুরে ফিরছে। তারা এর তদন্ত সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে শিবু ও তার সহযোগীরা। ঘটনার পর একাধিকবার ওই কিশোরীর বাড়িতে গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি। এএসআই শিবু হালদার মেয়ের পরিবারকে গ্রামছাড়া করেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। দফায় দফায় তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ স্থানীয় মির্জাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমানের মাধ্যমে মেয়ের পরিবারকে ৩ লাখ টাকা চেক দিয়েছে এএসআই শিবু। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মেয়ের পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এএসআই শিবুপদ হালদার। তবে শৈলকুপা থানার ওসি কাজী আইয়ুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।