নরসিংদীতে ভেজাল মেশানো দুধের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ- লাভবান হচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা

নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীতে ডিটারজেন্ট পাউডার, সোডা, সয়াবিন তেল, লবণ, চিনি, স্যালাইন, নিম্নমানের গুড়া দুধসহ মারাত্মক সব কেমিকেল মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ। বিষাক্ত এই নকল দুধের ক্রিম থেকে তৈরি হচ্ছে খাঁটি গাওয়া ঘি। এসব দুধের ছানা থেকে তৈরি হচ্ছে রসনা বিলাস বাহারী সব মিষ্টান্ন।

আবার এই ভেজাল দুধ কৌশলে স্থানীয় বিভিন্ন নামী দামী ব্রান্ডের কোম্পানির মাধ্যমে প্যাকেটজাত হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে পুরো জেলায়। দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে ভয়ংকর এই অপকর্ম করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা।

এই দুধ ও তার তৈরি মিষ্টি, ঘিসহ মিষ্টান্ন খেয়ে মারাত্মক সব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে নরসিংদীর সাধারণ মানুষ। প্রকাশ্য এই ভয়াবহ অবৈধ কর্মকান্ড চলে আসলেও অজ্ঞাত কারণে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন রয়েছে নির্বিকার। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য গা শিউরে ওঠার মত ভয়ংকর এমন কর্মকান্ড হচ্ছে নরসিংদীর বিভিন্ন উপজেলায়।

সরেজমিনে তথ্যনুসন্ধানে জানা যায়, নরসিংদীর বিভিন্ন উপজেলায় এখন পানি মিশ্রিত ও নকল দুধের রমরমা ব্যবসা চলছে। এই ভেজাল দুধে নানা প্রক্রিয়ায় প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হচ্ছে ঘি, ছানা, প্যাকেটজাত দুধ। বাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এটি এখন শিল্পে পরিণত হয়েছে।

গবাদিপশু পালন ও তা থেকে দুগ্ধ উৎপাদন করে বিক্রি করে অনেক খামারী এবং বেকার যুবক-যুবতি সাবলম্বি হলেও হঠাৎ করে ভেজাল দুধ উৎপাদনকারী একটি সিন্ডিকেটের কারণে মুখ থুবড়ে পড়তে চলেছে এই শিল্প। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খাঁটি দুগ্ধ উৎপাদনকারী খামারীদের এই সিন্ডিকেটের কারণে এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

তথ্যের সূত্র ধরে সরেজমিন যায় এই প্রতিবেদক নরসিংদীর জেলার বিভিন্ন উপজেলা অনুসন্ধান চালায়। পশু পালন এবং তা থেকে দুগ্ধ উৎপাদন করে গ্রামের সিংহভাগ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এই খামারীদের কাছ থেকে দুগ্ধ সংগ্রহের জন্য কাজ করছে ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা। এই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভেজাল দুধ তৈরির অভিযোগ পাওয়ায় যায়।

সূত্র ধরে জানা যায়, বিলিন্ডার মেশিনে হাফ কেজি খাঁটি দুধ নিয়ে তার সাথে পরিমান মত ডিটারজেন্ট পাউডার, সোডা, হাফ কেজি সয়াবিন তেল, চিনি, স্যালাইন, লবণ, গুড়া দুধসহ বিভিন্ন মাত্রায় কেমিকেল মিশিয়ে ১৫ মিনিট বিলিন্ডার মেশিনে বিলিন্ডার করেন। বিলিন্ডার মেশিনে দুধের সাথে সব কেমিকেল পদার্থগুলো ভালো ভাবে মেশানো হয় ।

এরপর সব দুধ একটি পাতিলে ঢেলে তার সাথে ১ মণ সাদা পানি মিশিয়ে তৈরি করেন ভেজাল দুধ। এভাবে এক মণ দুধ তৈরি করতে খরচ হচ্ছে প্রায় ২শ’থেকে আড়াই শ’টাকা। যার বাজার মূল্য প্রায় দুই হাজার থেকে ২৪’শ টাকা। ৩ মণ ভালো দুধের সাথে ১ মণ ভেজাল দুধ মিশিয়ে পুরোটাই ভালো দুধ দেখিয়ে সে সরবরাহ করছে নামী-দামী বিভিন্ন দুধ ক্রয়কারী কোম্পানী, ঘি ক্রিম এবং ছানা তৈরি কারখানার কাছে।

এভাবে তিনি প্রতিদিন প্রায় দুই মণ ভেজাল দুধ তৈরি করে ৬ মণ খাঁটি দুধের সাথে বিক্রি করেন। অন্যদিকে এই জালিয়াতির কারণে ভালো দুধ দেয়া খামারী এবং ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এতে উচ্চ মূল্যে গো খাদ্য কিনে গবাদিপশুকে খাইয়ে দুধ উৎপাদন করে লাভবান হওয়ার পরির্বতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খামারীরা।