বালিয়াডাঙ্গী কৃষি সম্প্রসারণ অফিস এখন দুনীতির আখরায় পরিনত , হুমকির মুখে কৃষি রাজস্ব

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি : গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব প্রকল্প খাত থেকে আউস ধানের বীজ উৎপাদনের জন্য কৃষক পর্যায়ে ব্রি ধান -৪৮ এর বীজ সরবরাহ করার কথা থাকলেও তা করা ঠিক সময়ে করা হয়নি, ঠাকুরগাঁও জেলা পাঁচটি উপজেলাতে সঠিক সময়ে বিতরণ হলেও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস আউস ধানের বীজ বিতরণ করেছে ফসল উঠার সময়।

সরকারের রাজস্ব প্রকল্পের উদ্যেশ্য ছিল এ বীজ থেকে চাষী পর্যায়ে বীজ উৎপাদন করা।সঠিক সময়ে বীজ বিতরণ না করায় সরকারের এ কৃষি প্রকল্পটি এখন হুমকিতে পরেছে। জানা গেছে, প্রতিকেজি ব্রি ধান -৪৮ থেকে বীজ উৎপাদ হবে প্রায় তিন মন। এতে দেখা যায় এক হাজার কেজি(১ মেট্রিক টন) ধান বীজে ৩হাজার মন ধান বীজ উৎপাদন হওয়ার কথা।

কিন্ত অসময়ে বীজ বিতরণ হওয়ার কারণে ধান বীজ উৎপাদন কার্যক্রম তথা সরকারের উদ্যেশ্য ব্যহত হবে। ঠাকুরগাঁও জেলা বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সময় ও নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে আউস ও আমন ধানের বীজ একই সংগে বিতরণ করছে। আমনের বীজের সংগে কেন আউস ধানের বীজ বিতরণ করা হচ্ছে এমন প্রশ্ন এখন কৃষকদের মুখে মুখে।

বাংলাদেশের ফসল পুন্জিকা অনুযায়ী ফসলের মৌসুম তিনটি।যেমন- রবি মৌসুম,খরিফ-১ ও খরিফ-২। রবি মৌসুমের সময় হচ্ছে ১৬ অক্টোবর হতে ১৫ মার্চ পর্যন্ত,খরিফ-১ হচ্ছে ১৬ মার্চ হতে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ও খরিফ-২ হচ্ছে ১৬ জুলাই হতে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, আউস ধানের বীজ বপন থেকে কাটার সময় ১৬ মার্চ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত এবং আমন ধানের বীজ বপন থেকে কাটার সময় ১৬ জুলাই হতে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। অথচ ফসল কাটার সময় কৃষকদের বীজ বিতরণ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় দুটি ফসলের (আউস ও আমন) ধান বীজ একই সংগে বিতরণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে পাশ্ববর্তি উপজেলাগুলোর মধ্যে রানীশংকৈল উপজেলায় ধান বীজ বিতরণ করা হয়েছে জানুয়ারীতে। ঠাকুরগাও সদর,পীরগন্জে ও হরিপুরে বিতরণ করা হয়েছে মার্চ মাসে।জেলার সকল উপজেলায় ঠিক সময় বীজ বিতরণ করা হলেও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা য় তা করা হয়নি। অসময়ে ধান বীজ পাওয়া পাড়িয়া ইউনিয়নের মাছখরিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন জানান, এখন আউস ধান লাগালে ফলন হবে অর্ধেক। গত বছরও দেরিতে বীজ দিয়েছিল।

কৃষক সাইফুল ইসলাম,তুষার চৌধুরী, নাজমুল হক ও জিল্লুরসহ কয়েক জনের অভিযোগ আউস ধানের এক মেট্রিকটন ধান বীজ গোপনে বিক্রির জন্য রেখেছিল। এ বিষয়ে গত ১৪ জুন ধান বীজ পাচার করার সময় স্থানীয় ৬/৭ জন যুবক হাতে নাতে ধান বীজগুলো আটক করে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে অভিযোগ দেয় তারা।

এ বিষয়ে ইউএনও এখনএ কোন ব্যবস্থা নেন নি বলে জানান অভিযোগ কারীরা। কৃষক সাইফুল ইসলাম আরো বলেন ঠাকুরগাও কৃষি উপ পরিচালকেও বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। গত বছর ৫ জুলাই কৃষক তোফাজ্জ্বল হোসেন ওই অফিসারের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে মাল্টা প্রদর্শনী প্লটের ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দিলেও তার কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।

কৃষক তোফাজ্জ্বল হোসেন জানান উপজেলা কৃষি অফিসার ফাঁকা মাস্টারোলে স্বাক্ষর নেওয়াসহ অনিয়ম ও দুনীতি গুলো হাতে নাতে ধরে দিলেও ইউএনও এখন পর্যন্ত কোন তদন্ত করেন নি। এ দিকে ঠাকুরগাও সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ আনিসুর রহমান জানান, বর্তমানে আমন ধানের বীজ বিতরনের মৌসুম চলছে। এখন আউস ধানের বীজ ব্রি -৪৮ জাত বিতরণের কোন সুযোগ নেই।

হরিপুর উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা আব্দুল খালেক জানান, ব্রি ধান -৪৮ এর বীজ বিতরণের এখন কোন সুযোগ নেই। কয়েকদিন পরেই এ ধান পাকবে। হরিপুরে এ ধান মার্চে রিতরণ করা হয়েছে। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবীদ শাফিয়ার রহমান জানান,আষাঢ় মানে আউসের মৌসুম। আউসের বীজ বিতরণ খুব বেশী দেরি হয়নি।ফলন মৌসুমের থেকেও বেশী হতে পারে এ মৌসুমে। বিএডিসি দেরিতে বীজ দেওয়ায় বীজ বিতরণে বিলম্ব হয়েছে।

ঠাকুরগাও জেলা কৃষি উপ-পরিচালক কৃষিবীদ আফতাব হোসেন জানান, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় আউস ধানের বীজ দেরিতে বিতরণের সংবাদ আমি পেয়েছি। ওই কৃষি অফিসারকে সর্তক করে দেয়া হয়েছে। সে বলেছে ভবিষৎতে এ রকম ভুল আর করবে না।ভুলতো ভুলই।তাঁকেতো আর ফাঁসি দেওয়া যায় না।