হবিগঞ্জে যুবতীর ইজ্জ্বত ও নব-জাতকের লাশের মূল্য ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করলো গ্রাম্য মোড়লগন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবীগঞ্জের নবীগঞ্জ পলীতে হাসিনা নামের এক যুবতীর ইজ্জ্বতের মূল্য ও নব-জাতকের লাশের মূল্য ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছেন স্থানীয় গ্রাম্য মোড়লগন। পরকিয়া প্রেমিক সিরাজুলের চাপে ৫ মাসের অন্তস্বত্তা হাসিনার গর্ভপাত নষ্ট করে হত্যা করা হয় নব জাতক শিশু পুত্রকে, তড়িগড়ি করে পুলিশকে না জানিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আঃ মন্নাফ এর মধ্যস্থতায় নবজাতককে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের সমরগাও গ্রামে। এনিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃস্টি হয়েছে ও সমালোচনার ঝড় বইছে। নির্যাতিত হাসিনা বেগম (২০) নামের যুবতী জানায়, তার পিতার নাম মোঃ আঃ মালিক তিনি পেশায় একজন মৎস্যজীবি, তাদের অভাবের সংসারটি পিতার হাড় কাপাঁনো পরিশ্রমেই কোন রকম চলছে।

প্রায় ৪ বছর পূর্বে হাসিনা বেগমের প্রতি কুনজর পড়ে একই গ্রামের হিরা মিয়ার পুত্র সিরাজুল মিয়ার। এক পর্যায়ে উভয় পরিবারের সম্মতিক্রমে তাদের বিবাহ হয়। তবে এই ভালবাসার বিয়ে তাদের মধ্যে বেশি দিন ঠিকেনি, এক মাসের মাথায় তাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়, এমনকি হাসিনাকে তালাক দেয় সিরাজুল। পরে পিত্রালয়ে অবস্থান করে হাসিনা। সিরাজুল পাড়ি জমায় মধ্যপ্রাচ্যর ওমান দেশে, সেখান থেকে প্রায় সময়ই হাসিনার সাথে সে যোগাযোগ রাখতো, এরই সূত্রধরে তাদের মধ্যে আবারো পোমের সখ্যতা গড়ে ওঠে।

তবে সিরাজুল কয়েক মাস পূর্বে দেশে ফিরেন, সে দেশে আসার পর একই উপজেলার কায়স্থ গ্রামে আরেকটি বিবাহ করেন। বিবাহ করার পরেও তার পূর্বের প্রেমিকার সাথে চলে পরকিয়া সম্পর্ক এরই সুবাদে প্রায় সময়ই হাসিনাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করতো সিরাজুল এমনকি প্রায়ই প্রেমিকজুটি গোপন অভিসারে লিপ্ত হতো।

এক পর্যায়ে হাসিনা গর্ভবতী হয়ে পড়লে তাকে গর্ভ নষ্টের জন্য বার বার চাপ প্রয়োগ করতো সিরাজুল, তবে হাসিনা সিরাজুলের কথা মানতে নারাজ এক পর্যায়ে তাকে নানা হুমকি দেয়ার তাকে নানা প্রলোভন দিয়ে তার গর্ভপাত নষ্ট করার জন্য এবং নগদ কিছু টাকা দিয়ে হাসিনাকে পাঠানো হয় নবীগঞ্জ সদরে। সেখানে জনৈক ডাক্তারের মাধ্যমে তার গর্ভপাত ঘটানো হয়, এবং প্রায় ৫ মাস বয়সী শিশু পুত্রকে হত্যা করা হয়।

পরে একটি ব্যাগের মধ্যে করে নব-জাতকের লাশ বাড়িতে নিয়ে আসলে পাড়া প্রতিবেশীর নজড়ে আসে এই বিষয়টি। পরে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে গভীর রাতে হাসিনাদের বাড়িতে চলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মন্নাফের মধ্যস্থতায় সামাজিক বিচার। এই বিচারে উপস্থিত ছিলেন, গ্রাম্য মাতব্বর আব্দুর রাজ্জাক, নানু মিয়া, শরিয়ত উল্লাহ্, মনু মিয়া, আব্দুল্লাহ মিয়া সহ গ্রামের আরো অনেকই।

এতে সর্ব সম্মতিক্রমে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মন্নাফ রায় ঘোষণা করেন এবং হাসিনার প্রেমিক সিরাজুল মিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে ৩০ ত্রিশ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়। তবে হাসিনা এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেনি সে তার প্রেমিক সিরাজুলকেই স্বামী হিসেবে পেতে চায় বলে জানালে অবশেষে প্রভাবশালী মাতব্বরদের হুমকিতে তার স্বপ্ন অথবা প্রেমিককে স্বামী হিসেবে পাওয়া ধুলিষ্যাৎ হয়ে যায়।

পরে রাতেই নবজাতক শিশুর লাশকে রাতেই মাটিচাপা দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে ইউ পি সদস্য আব্দুল মন্নাফের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন মেয়েটি গরীব তাই ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে বিষয়টি মিমাংসা করে দিয়েছি। নির্যাতিত হাসিনা সাংবাদিকদের জানায় এ বিচারে সে সন্তুষ্ট নয় সে এই ৩০ হাজার টাকা চায়না সে তার প্রেমিক সিরাজুলকে স্বামী হিসেবে চায়।

তার গর্ভজাত পুত্র সন্তানকে হত্যার জন্য তার প্রেমিক সিরাজুলকেই দায়ী করেন। সিরাজুলের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সে জানায়, গ্রাম্য মাতব্বরদের চাপে সে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে রাজি হয়েছে তবে সে এই ঘটনার সাথে জড়িত নয়। সে ওমান থেকে ৩ মাস পূর্বে দেশে এসেছে, হাসিনার সাথে অন্য পুরুষের সম্পর্কের এই অবৈধ গর্ভপাত তার উপর চাপানো হয়েছে।