ঠাকুরগাঁওয়ে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি সংযোগের নামে উৎকোচ আদায়ের লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা

মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য এলাকার মানুষের কাছ থেকে ‘অবৈধভাবে’ উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুত সমিতি অফিসের ফরহাদ হোসেন ও তা দুই সহযোগীসহ স্থানীয় নাইবুুল হকসহ বেশ কয়েক জনের বিরুদ্ধে।

এব্যাপারে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যূতায়ন বোডের চেয়ারম্যান ও ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার বরাবর এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুত সমিতি অফিসের ফরহাদ হোসেন জানন না বলে দাবি করেছেন।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর পাড়িয়া তিলকড়া গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগে বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা বলে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুত সমিতি অফিসের ফরহাদ হোসেন নির্দেশে লক্ষিডাঙ্গী গ্রামের নাজির হোসেনের ছেলে নাইমুল হক, উত্তর পাড়িয়া তিলকড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে মিলন, আমিরুল ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলাম মানারুল ও বেলাল উদ্দীনের ছেলে রুবেল, উত্তর পাড়িয়া তিলকড়া গ্রামের ৬০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে সাত হাজার থেকে সাড়ে সাত হাজার করে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা উৎকোচ আদায় আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

কিন্তু বেশ কিছুদিন গড়িয়ে যাওয়ার পর আজ (১১ আগস্ট/২০১৮) শনিবার সন্ধ্যায় ৬টি গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলেও বাকী ৫৪জন গ্রাহকের এযাবত সংযোগ না দেওয়ায় এলাকার জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকটি বিদ্যুতের পিলার পুঁতে রাখা হয়েছে। দেখে বোঝা যায় বেশ আগেই পোঁতা হয়েছে। তবে এখনও বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে নইমুল হকের সঙ্গে তাদের কয়েক দফা বৈঠকে প্রত্যেক সংযোগ বাবদ ছয় থেকে সাত হাজার টাকা দিতে বলা হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক মিলন ও মানারুল, রুবেল মিলে নাইমুল ও ঠাপবিস ফরহাদের পক্ষে গ্রামের ৬০টি পরিবারের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা তোলেন।

ওই গ্রামের কৃষক আনারুল ইসলাম বলেন, দুই মাস আগে ফসল বিক্রি করে স্থানীয় মিলন ও রুবেলের কাছে ৭হাজার ৩শ টাকা দিলেও এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ পাইনি। একই অভিযোগ করে মনোয়ার বলেন, অনেক কষ্টে সাত হাজার টাকা জোগাড় করিয়ে, ওই ৭হাজার ৩শ টাকা মিলন ও রুবেলের কাছে দিয়েও আজ বিদ্যুত সংযোগ পাইনি।

দুই মাস চলে গেল, ওমরা এলাও হামার বাড়িত কারেন্ট দেয়নি। কারেন্টের কাথা কহিলে আইজ হবে কাইল হবে কহে দিন পার করেছে। এছাড়া ওই গ্রামের গৃহবধূ জসনা এবং আজম রহমান জানান বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য টাকা দিলেও সংযোগ পাচ্ছেন না বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি অফিসের অধিনস্থ্য ফরহাদ হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনে ইঞ্জিনিয়ারের খরচ, পিলার ও মিটার স্থাপন ও ঠিকাদারের খাওয়া-দাওয়া ও থাকার খরচ বাবদ এলাকাবাসীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে।

নাইমুল হক বলেন, এলাকার মানুষ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় আমরা নিজেরাই এলাকাবাসীর কাছ থেকে টাকা আদায় করেছি। এসব টাকা পল্লী বিদ্যুতের পরিচালকের কাছে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে মিলন বলেন, টাকা তোলার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার বলেন, বিদ্যুতের প্রতিটি নতুন সংযোগের জন্য অফেরতযোগ্য আবেদন ফ্রি ১০০ টাকা দিতে হয়। এর বাইরে সদস্য ফি হিসেবে ৫০ টাকা ও মিটার জামানত হিসেবে ৬০০ টাকা নেওয়া হয়, যা ফেরতযোগ্য। (চলমান)।