নরসিংদীতে ধর্ষণের অপমান সইতে না পেরে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদী বেলাব উপজেলার বাঙ্গাল পাড়া এলাকার নদীর পাড় গ্রামের কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্রী সুমা আক্তার (১৯) ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সে আবুল কাশেমের মেয়ে।

ধর্ষিত ওই ছাত্রী অপমান সইতে না পেরে মরণব্যাধি ঔষধ স্যাভলন খেয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে। সে রাত্র অনুমান ১১ টার দিকে পুরো এক কৌটা স্যাভলন খেয়ে যখন আহত অবস্থায় মাটিতে কাতরাচ্ছিল ঠিক তখনই তার পাশের বাড়ির চাচি শাহিনূর বেগম (৩৩) তার ঘরের জানালা দিয়ে ঘটনাটি লক্ষ্য করে। পরে সে বুঝতে পারে যে, সুমা আত্মহত্যা করার চেষ্টা করছে।

পরে শাহিনূর তাৎক্ষনিক ঘর থেকে বের হয়ে সুমা আক্তারের বাবা মা সহ আশে পাশের সকলকে উক্ত বিষয় জানালে তারা সকলে মিলে সুমা আক্তারকে ঘর থেকে উদ্ধার করে সিএনজি যোগে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্যপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রায় দেড় ঘন্টা যাবৎ চিকিৎসা চালিয়ে তার পেটের ভিতর থেকে সবকিছু ওয়াশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। বর্তমানে সে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি আছে।

এদিকে স্থানীয় এক বিশেষ সূত্রে ও তার নানি কুলসুমনাহার (৬৫) এর বক্তব্যে জানা যায় যে, দীর্ঘ দিন যাবৎ ধরে তার পাশের বাড়ির এনামুল হকের (২৬) সাথে সুমা আক্তারের গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এনামুল সুমা আক্তারকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষন করেছে।

এক পর্যায়ে সুমা আক্তার এনামুলকে বিয়ের কথা বললে সে তাদের সম্পর্ক অস্বীকার করে। ফলে সুমা আক্তার অনেক কষ্ট পায় এবং সে আত্মহত্যার রাস্তা বেছে নেয়। অন্যদিকে তার পরিবার চক্রান্ত করে ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ধর্ষনের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার রফাদফা করে।

এ বিষয়ে বেলাব থানার মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কে গন্যমাধ্যম কর্মীরা অবহিত করলে তাৎক্ষনিক ঘটনা শুনে তিনি বেলাব স্বাস্থ্য উপজেলা কমপ্লেক্সে গিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করেন এবং সুমা আক্তার যদি কোন আইনগত সহযোগিতা চান তাহলে অবশ্যই অপরাধীরা শাস্তি পাবে।