নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচীতে উত্তাল বগুড়া

মোঃ ফাহিম আহম্মেদ রিয়াদ (বগুড়া প্রতিনিধি): নিরাপদ সড়কের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়ার বিভিন্ন সড়কে এবং শহরের সাতমাথায় শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছে বগুড়ার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টা থেকে প্রায় ঘন্টাখানিক ধরে শহরের জিরোপয়েন্ট সাতমাথা বীরশ্রেষ্ঠ স্কয়ারে কয়েক শত শিক্ষার্থী একত্র হয়ে বিক্ষোভ দেখায়।

বিক্ষোভকারীরা একটু পর পরই ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ এবং ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে শ্লোগান দেয়। স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো জিরোপয়েন্ট এলাকা। এ সময় ওই এলাকায় যান চলাচলে ধীর গতি দেখা দেয়। ফলে কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সাতমাথায় অবস্থান করলেও তাদেরকে শান্ত দেখা গেছে। তবে কোন কোন পুলিশ কর্মকর্তা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তুলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়েছেন।

বিক্ষোভ কর্মসূচী চলাকালে শুধু শিক্ষার্থীই নয় তাদের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরকে একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তৃতা করতে দেখা যায়। ঢাকার কুর্মিটোলায় গত রোববার একটি বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ দিন ধরেই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে।

দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকদের ফাঁসি, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল এবং লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি চালনা বন্ধ করাসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছে। তারই ধারাবাহিকতায় বগুড়ায় এ বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করা হয় হয়। সমাবেশ থেকে বিক্ষোভকারীরা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকদের ফাঁসি, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল এবং লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি চালনা বন্ধ করাসহ ৯ দাফা দাবী উত্থাপন করেন।

তারা জানান, নিরাপদ সড়কের দাবিতে তাদের এই আন্দোলন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টা থেকেই একে একে শিক্ষার্থীরা সাতমাথায় জমায়েত হতে শুরু করে। তবে এর আগেই বিপুল সংখ্য পুলিশ সাতমাথা এলাকায় অবস্থান নেয়। বেলা ১১টা নাগাদ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের কয়েক শ’ শিক্ষার্থী সাতমাথার বীরশ্রেষ্ঠ স্কয়ার চত্বরে এসে একত্র হয়।

তাদের প্রায় সবার পরণে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম বা ড্রেস ছিল। সমাবেশ থেকে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ এবং ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে ঘন ঘন শ্লোগান দেওয়া হয়। বগুড়ায় পুলিশের মিডিয়া বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, স্কুল- কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ উষ্কানিমূলক শ্লোগান দিয়ে পরিস্থিতিতে অশান্ত করার চেষ্টা করেছে।

তবে পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্য্য নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিক্ষোভ চলা কালে তাকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সেলফি তুলতেও দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার একমাত্র বড় বোন ২০০১ সালের ৮ ডিসেম্বর সড়ক দূর্ঘটনায় মারা গেছেন। স্বজন হারানোর ব্যাথা আমিও বুঝি। তাই শিক্ষার্থীদের মত আমিও নিরাপদ সড়ক চাই।