ইবিতে জঙ্গিবাদ বা মৌলবাদের কোন আলামত আজও পাওয়া যায়নি-ভিসি

ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গিবাদ বা মৌলবাদের কোন আলামত আজও পাওয়া যায়নি। সরকারের জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রম সবথেকে সবথেকে বেশি অনুসৃত হয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। দেশের সর্ববৃহৎ জঙ্গিবিরোধী মিছিল ইবিতেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশাসনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে ভিসি প্রফেসর ড.মো: হারুন-উর-রশিদ আসকারী এসব একথা বলেন।

এছাড়াও তিনি বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সকল ধরনের দুর্নীতি, মাদকের কারবার সমূলে মূলৎপাটন করতে চাই। দূর্নীতি, মাদক-সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত ক্যাম্পাস গড়াই আমার মূল লক্ষ্য। সাংবাদিকদের সম্পর্কে ড. আসকারী বলেন, বর্তমান উন্নয়নে সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সাংবাদিকরা অতীতে প্রশাসনের সাথে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

রোববার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩ টা থেকে প্রশাসনিক ভবনের ভিসির কনফারেন্স রুমে প্রায় চার ঘন্টা ব্যাপী ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফের পরিচালনায় সভাপতিত্ব করেন ভিসি প্রফেসর ড.মো: হারুন-উর-রশিদ আসকারী। এসময় প্রো-ভিসি প্রফেসর ড.মো: শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো: সেলিম তোহা ও প্রক্টর প্রফেসর ড.মো: মাহবুবর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

২০১৬ সালের ২১ আগস্টে বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণ করে। দুই বছর পর প্রশাসনের সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনার জন্য সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় সভার আয়োজন করেন বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিগত দুই বছরের নানামুখী কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে ৪র্থ সমাবর্তন, ৮টি নতুন বিভাগ, ৫৯ জন শিক্ষক নিয়োগ, সেশন জট হ্রাস, সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধ, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’, সততা ফোয়ারা, মাদক বিরোধী অভিযান, অগ্রানোগ্রাম প্রণয়ন উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও প্রায় ৫শ কোটি টাকার বাজেটে নতুন ৯ টি দশ তলা ভবন, ১৯ টি ভবনের উর্ধমুখী সম্প্রসারণের কাজও হাতে নিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিকতার আওতায় আসবে। একই সাথে ভাড়ায় চালিত পরিবহনের উপর নির্ভরতা কমে যাবে। মত বিনিময়কালে সাংবাদিকরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠনমূলক সমালোচনা করেন।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত গবেষণা, পরিবহন বৃদ্ধি, ছাত্র কল্যাণ তহবিল বৃদ্ধি, অফিস সময় যথাযথ কার্যকর করা, বিদেশী ছাত্র ভর্তির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন, দূর্নীতি দমন, মাদক দূরীকরণ, শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ প্রদান ও অভ্যন্তরীন বিভিন্ন সমস্যা সমাধনসহ নানামুখী পরামর্শ দেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।