পাবনা ৩ আসন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী

সাব্বির হোসেন শুভ: পাবনা চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে পাবনা-৩ আসন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনসংযোগ ও প্রচারণা ততই বাড়ছে। এ আসনে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্য দলগুলোর দুই ডজনেরও বেশি মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে রয়েছেন। তারা ছুটে চলেছেন ভোটার থেকে শুরু করে নেতাকর্মীদের দ্বারে দ্বারে। সরকারদলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকা-ন্ডের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিভিন্ন দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে ঝোলানো ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে চারদিক।

পাবনা-৩ আসনের ভোটার সংখ্যা সাড়ে ৪ লাখেরও বেশি। তাই এ আসনে বড় দুই দলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সংখ্যাও অনেক বেশি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নবীন-প্রবীণ মিলে অন্তত দুই ডজনেরও বেশি নেতা তৎপর রয়েছেন। ভোটযুদ্ধে নামতে সবাই চাইছেন দলীয় প্রতীকে। এ আসনে ২০০১ সালে বিএনপির কেএম আনোয়ারুল ইসলাম এবং ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মকবুল হোসেন নির্বাচিত হন। এখন আওয়ামী লীগ চাইছে আসনটি ধরে রাখতে আর বিএনপি চায় পুনরুদ্ধার করতে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজেদের পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টায় উপজেলা সদরের পাড়া-মহল্লা ছাড়াও গ্রাম-গঞ্জে ছুটে চলেছেন।

উঠান বৈঠক থেকে শুরু করে মোটরসাইকেল শোডাউন চলছে সমানতালে। তবে এ আসনের তরুণ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রচারণায় ঘাম ঝরাচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। এদিকে দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের মধ্যে রয়েছে দ্বন্দ্ব। বিশেষ করে চাটমোহর উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত। জাতীয় ও দলীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান নেতারা তাদের অনুসারী নিয়ে পৃথকভাবে পালন করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। এতে বেকায়দায় পড়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

দ্বন্দ্ব-সংঘাতে আ.লীগ –
বর্তমান সংসদ সদস্য মো. মকবুল হোসেন এবং তার ছেলে ভাঙ্গুড়া পৌর মেয়র গোলাম হাসনাইয়েন রাসেলের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ করছে প্রতিপক্ষ। স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বর্তমান সংসদ সদস্য মো. মকবুল হোসেনের সঙ্গে অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের এবং দলীয় নেতাকর্মীদের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমান সংসদ সদস্য মকবুলের বিরুদ্ধে নেতা কর্মীদের অবমূল্যায়ন, উপজেলা ও পৌরসভার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করা, দলীয় কোন্দল সৃষ্টিসহ নানা অভিযোগ আছে। পৌরসভা নির্বাচনে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে নিজের ছেলেকে প্রার্থী করায় ব্যাপক সমালোচনায় পড়েছেন তিনি। এছাড়া নানা কারণে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন। মনোয়ন প্রত্যাশীরা এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ২৪ জন স্বাক্ষরিত সংবাদ সম্মেলন তার বিরোধী অবস্থান প্রকাশ করে। উঠান বৈঠক, মিছিল, মিটিং, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে মকবুল বিরোধীরা। দীর্ঘদিন রাজনীতি সম্পৃক্ত থাকায় মকবুল হোসেনের রয়েছে তিন উপজেলায় শক্ত অবস্থান এবং কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক। তিনিই যোগ্য প্রার্থী বলে মনে করেন তার সমর্থকরা।

আবার এ নির্বাচনি এলাকায় রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক উন্নয়নও হয়েছে। শুধু তাই নয়, নির্বাচনি এলাকায় অসহায়, দুস্থদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে তিনি প্রশংসিত। এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আবদুল হামিদ মাস্টার নিবেদিত ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি এলাকায় নিয়মিত জনসংযোগসহ জনসেবামূলক কাজ কর্ম করছেন। পাবনা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের তুখোড় নেতা অ্যাডভোকেট শাহ আলম জনসংযোগ করছেন দীর্ঘদিন ধরে। এ আসন থেকে নৌকার মাঝি হতে জোর প্রচার চালাচ্ছেন স্বাধীনতা পরবর্তী পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা আ স ম আ. রহিম পাকন।

৩০ বছর ভিয়েনায় বিশ্ব পরমাণু সংস্থায় চাকরি করার সুবাদে রূপপুর আনবিক শক্তি প্রকল্প বাস্তবে রূপ দিতে তার অসামাণ্য অবদান রয়েছে। তবে তরুণ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রচারণায় ঘাম ঝরাচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। এদের মধ্যে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বাকি বিল্লাহ অন্যতম। নির্বাচনের মাঠে মানুষের সঙ্গে মিশে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন তিনি। তিন উপজেলার দলীয় এবং সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে। রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়ায় এবং নিজের কাজকর্ম দিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগের তরুণ প্রার্থীদের মধ্যে তিনিও একজন যোগ্য প্রার্থী বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা।

তরুণ প্রজন্মের এ নেতা এলাকার মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে তাদের সুখ-দুঃখে পাশে রয়েছেন। উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরছেন। তিনি তৃণমূল নেতাদের অত্যন্ত কাছের একজন প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
এছাড়া আওয়ামী লীগের উল্লেখযাগ্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুল আলিম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফুল কবীর, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সরকার এছাড়াও আওয়ামী লীগ নেতা বায়েজিদ দৌলা বিপু ও আমির হোসেন।

বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে –
অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও ব্যাপকভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা চাইছেন আসটি পুনরুদ্ধার করতে। তারা প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার সাধারণ ভোটারের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, দলীয় কর্মসূচি ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আলহাজ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও জিয়া সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি মো.হাসানুর রহমান রাজা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয়সহ সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, ফরিদপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম বকুল, ফখরুল আজম রনী সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান, হাসাদুল ইসলাম হীরা সাধারন সম্পাদক চাটমোহর উপজেলা বিএনপি, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও পাবনা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকারের নাম শোনা যাচ্ছে বেশ জোরেশোরে। এছাড়া পাবনা জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক নেতা জহুরুল ইসলামের প্রার্থীতার ব্যাপারেও গুঞ্জন রয়েছে।

অন্যান্য দল –
এদিকে এ আসনে জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের কোনো প্রভাব নেই। তবে শোনা যাচ্ছে জাতীয় পার্টি থেকে এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন অ্যাডভোকেট আবদুস ছাত্তার। এছাড়া জামায়াত এ আসনে ফরিদপুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমানকে এরই মধ্যে দলীয় প্রার্র্থী ঘোষণা করেছেন।