বালিয়াডাঙ্গী-লাহিড়ী সড়কের বেহাল দশা

মোঃ মজিবর রহমান শেখ ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী-লাহিড়ী সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও মেরামতের অভাবে এখন বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কের বেশিরভাগ ভাঙাচোরা। রাস্তার পাথর উঠে গিয়ে বেশির ভাগ স্থানে হয়েছে ছোট বড় অনেক গর্ত। ভাঙাচোরা এ রাস্তা চলাচল করতে গিয়ে পথচারীদের প্রতিনিয়ত হতে হচ্ছে ভোগান্তির শিকার এবং পড়তে হচ্ছে নানা দুর্ঘটনার কবলে।

স্বাধীনতার পর হতে ঠাকুরগাঁও জেলার মধ্যে ঐতিহ্যবাহী পশুর বিক্রির হাট হিসেবে পরিচিত লাহিড়ী হাট। সপ্তাহের শুক্রবার দিনে এ হাটে প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার গরু কেনা-বেচা হয়। এসব গরু আনা-নেয়া করতে শুধুমাত্র শুক্রবারের দিনে ঠাকুরগাঁও, নেকমরদ, হরিপুর, রাণীশংকৈল, ভেলাজান, মোলানী, চুনিহারী, কালমেঘসহ আশপাশের প্রায় ১৫-২০ হাজার মানুষের চলাচলের জন্য একমাত্র রাস্তা এটি।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও এলাকাবাসীদের কাছ থেকে গেছে, বালিয়াডাঙ্গী-লাহিড়ী রাস্তাটির দুরত্ব প্রায় ৭ কিলোমিটার। এ রাস্তা দিয়ে ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও পঞ্চগড় জেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে।

গোয়ালকারী গ্রামের ৭০ বয়সের বৃদ্ধ দিল মোহাম্মদ জানায়, ‘ভোটের সময় হামার বাড়িলাত খোজ খবর লিবা অসচে মেম্বার, চেয়ারম্যান ও এমপি’র লোকজন, ভোট চলে গেলেই খবর লওয়া শেষ। ১০ বছর পার হয় গেল, রাস্তাডা বড় করিবে, ঠিক করিবে কহে গেইজিল এমপি’র লোকজন। ফের ভোট অসিজে, এলাও কুন খবর নাই’।

অটোচালক মজিবর রহমান বলেন, এ রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে পরিবারের জন্য রুজি রুটি জোগাড় করি। রাস্তাটি পাথর উঠে বড় বড় গর্তে পরিণত হওয়ার কারণে প্রতিনিয়তই গাড়ীর সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যাত্রীরা গাড়ীতে বসে লাহিড়ী বাজারে যেতে যেমনি ভাবে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে অন্যদিকে গাড়ী ঠিক করতে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে আমাদের।

গোয়ালকারী গ্রামের যুবক আব্দুস সবুর বলেন, এমপি, মেম্বার চেয়ারম্যানরা এসে বলে গেছেন রাস্তাটি খুব শ্রীঘ্রই সড়ক থেকে মহাসড়কে উন্নীত করা হবে। আমরা সেই আশায় আছি।

উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটির অবস্থা আসলেই খুব খারাপ। আমি ইতিমধ্যে কয়েকবার পরিদর্শন করেছি। চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তাটি নতুন মহাসড়ক করার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলা হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী নির্বাচনের আগেই এ রাস্তাটির কাজ শুরু হবে।