এক যুগের অপেক্ষা সিলেটের ‘শেখ হাসিনা পার্ক’

আবুল হোসেন, সিলেট: উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল ২০০৫ সালে। পরের বছর শুরু হয় কাজ। এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় এক যুগ সময়। এই সময়ে বদলে গেছে নামও। ‘এম সাইফুর রহমান শিশু পার্ক’ থেকে বদলে হয়েছে ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক’। কিন্তু এখনও শেষ হয়নি পার্কটির নির্মাণ কাজ। কবে শেষ হবে, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। সিলেট নগরীতে বিনোদনের পর্যাপ্ত স্থানের অভাব। বুক ভরে নিঃশ্বাস নেয়া কিংবা নিখাদ বিনোদনে মেতে ওঠার স্থান মাত্র কয়েকটি। এই বিষয়টি বিবেচনা করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৫ সালে সিলেট মহানগরীর মধ্যে একটি আধুনিক পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়।

সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমার আলমপুরে সুরমা নদীর তীরবর্তী এলাকায় পার্কের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দেয় ১৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। ওই সময়কার অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাংসদ এম সাইফুর রহমানের নামে পার্কটির নামকরণ করা হয় ‘এম সাইফুর রহমান শিশু পার্ক’। তবে বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে পার্কটির নাম বদলে গেছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের এক ডিও লেটারের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আদেশে পার্কটির নাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক’ করা হয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পার্কটির প্রায় ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এখনও বেশ কিছু কাজের জন্য দরপত্রই আহবান করা হয়নি। দরপত্র আহবান করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পুরো কাজ শেষ করতে আরো কয়েক মাস লাগবে বলে জানা গেছে। তবে ঠিক কবে নাগাদ কাজ শেষ করে পার্কটি দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হবে, তা অনিশ্চিত। এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনা শিশু পার্কের প্রায় ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পার্কের সীমানা দেয়ালের উচ্চতা বাড়াতে হবে, সবগুলো রাইডও এখনও বসানো হয়নি। এছাড়া আলোর (লাইটিং) ব্যবস্থা করা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য সাবস্টেশন নির্মাণ, অবকাঠামোগত কাজ বাকি রয়েছে। আমরা কিছুদিনের মধ্যে কাজের দরপত্র আহবান করবো।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন। সবমিলিয়ে কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে, তা এখনই পরিষ্কারভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে আমরা আশা করছি, কয়েক মাসের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।’ পার্কটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে এটি সিসিকের ব্যবস্থাপনায় চলবে নাকি লিজ দেয়া হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন নুর আজিজুর রহমান। এছাড়া পার্কে প্রবেশের ক্ষেত্রে দর্শনার্থীদের জন্য ফি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সিসিক সূত্রে জানা গেছে, পার্কের জন্য দক্ষিণ সুরমার হবিনন্দী মৌজায় ৩ দশমিক ৭৭ একর জমি গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে জায়গা বরাদ্দ পাওয়ার পর ২০০৬ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় নির্মাণ কাজ। জমি অধিগ্রহণ, মাটিভরাট, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ, টিকেট কাউন্টার নির্মাণ প্রভৃতি কাজে ব্যয় হয় ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। রাইড স্থাপনের জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ১২ কোটি টাকা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ২০০৮ সালের জুলাইয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ফেরত নেয়।

এরপর বন্ধ হয়ে যায় পার্কের নির্মাণ কাজ। পরিত্যক্ত অবস্থায় প্রায় এক দশক পড়ে থাকে অসম্পূর্ণ পার্কটি। এ সময়ে পার্কটি বখাটে আর মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়। গেল বছর অসম্পূর্ণ পার্কটি পরিদর্শনে গিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ বরাদ্দও দেন তিনি। ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ফের পুরোদমে কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল নির্মাণ কাজ। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, গেল বছর অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ পাওয়ার পর পার্কে স্থাপনের জন্য বিভিন্ন ধরনের রাইডের নাম পাঠানো হয়। অনুমোদন পাওয়ার পর শুরু হয় রাইড কেনার কাজ। সিসিক কর্মকর্তা নুর আজিজুর রহমান বলেন, ‘পার্কে রাইড স্থাপনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। এরপর চীন থেকে রাইড কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়।

পার্কে মনোরেল, ম্যাজিক প্যারাসুট, টুইস্টার, বাম্পারকার, ফ্রুট ফ্লাইং চেয়ার, ক্যারসেল, জাম্পিং ফ্রগ, ভিজিটিং ট্রেন, পাইরেটশিপ প্রভৃতি রাইড বসানো হচ্ছে। ম্যাজিক প্যারাসুটে একসাথে ১৮ জন ৭০ ফুট উঁচুতে ওঠানামা করতে পারবেন, মনোরেলে ১৫ ফুট উচ্চতায় এক হাজার ৩৬১ ফুট দূরত্ব অতিক্রম করা যাবে। এছাড়া ভিজিটিং ট্রেন দিয়ে একসাথে ২৬ জন ৪২০ ফুট ঘুরতে পারবেন।