চুয়াডাঙ্গাতে সরকারী নিষেধাজ্ঞা অবমাননা করে চলছে কোচিং বাণিজ্য

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ স্থানীয় প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চুয়াডাঙ্গাতে আবারও চলছে কোচিং বাণিজ্য। স্থানীয় প্রশাসন যখন তপর ভুমিকা ধারণ করে তখন কৌশল পরিবর্তন করে শিক্ষকেরা জেলার প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত বীরদর্পনে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের পুরাতন এই শিক্ষার নামে কোচিং বাণিজ্য। এমন অবস্থা ধারণ করেছে যে শিক্ষার্থীরা এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছে শিক্ষকদের কাছে। আর অভিভাবকেরাও যেন অসহায় হয়ে পড়েছেন। সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তা মাথায় রেখে এটা কে নিয়ম হিসেবেই মেনে নিয়েছেন।

চলতি বছরের প্রথম দিকে চুয়াডাঙ্গায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা শিক্ষার নামে কোচিং বাণিজ্যের লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন। শিক্ষকদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করে ক্লাস চলাকালীন সময়ে সব ধরনের কোচিং বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। নির্দেশ দেওয়ার পর কিছু দিন পুরোদমে বন্ধ থাকলেও আবারো নতুন করে কৌশল পরিবর্তন করে চালিয়ে যাচ্ছেন কোচিং বাণিজ্য। অনেকে আবার বাড়িতে গিয়ে পড়ানো বন্ধ করে ক্লাস রুমেই নতুন কৌশলে খুলে বসেছেন কোচিং।

শহরের বিভিন্ন জায়গায় সাইনবোর্ড লাগিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন রমরমা এই কোচিং বাণিজ্য। তবে কোচিং শিক্ষকদের দাবি সরকারী নিয়ম নীতি মেনেই তারা কোচিং চালাচ্ছেন। শিক্ষকেরা দাবি করেছেন অভিভাবকদের লিখিত অনুমোদন নিয়েই তারা কোচিং খুলেছেন। এমন কি সম্প্রতি কোচিং নিষেধাজ্ঞার কথা জানেন না অনেক শিক্ষকই। আর এভাবেই সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন কাড়ি কাড়ি টাকা।

জেলার বিভিন্ন স্কুলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের চাইতে কোচিংয়ে ক্লাস করাতে শিক্ষকেরা বেশি উৎসাহী। অনেক সময় পরীক্ষার খাতায় কম নাম্বার দেওয়ার হুমকি দিয়ে কোচিংয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আছে বেশ কয়েকজন শিক্ষককের বিরুদ্ধে। তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত শিক্ষকদের দায় নিতে নারাজ স্কুলের প্রধান শিক্ষকেরাও।

জেলার শিক্ষাবিদদের মতে, বর্তমান সরকার শিক্ষা কে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে সব ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। শিক্ষকদের বেতন ভাতা বাড়াচ্ছেন। তারপরও এভাবে কোচিং বাণিজ্য করা সত্যিই দুঃখজনক। তবে জেলা প্রশাসক বলছেন, সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এখনো যারা কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।