দুদকে হস্তান্তর শিবচরে গ্রেপ্তারকৃত নারী মেম্বার, রিমান্ডে হবে বিস্তর জিজ্ঞাসাবাদ

মাদারীপুর প্রতিনিধি: পদ্মা সেতুর ক্ষতিপূরনের চেক জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা লোপাটের ঘটনায় শিবচরে গ্রেপ্তারকৃত ইউপি সদস্য ছালমা বেগমকে বুধবার বিকেলে দুদুকে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। ছালমা বেগম তার নিজের নামে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা লোপাট করেছে বলে নথিপত্র থানায় সরবরাহ করেছে সেতু বিভাগ। টাকা লোপাটের ঘটনায় ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন (ইসডো) এরিয়া ম্যানেজার জাকির হোসেন ও কাদির ফকিরকে খুজছে পুলিশ। এদিকে দুদকের পরিচালক জানিয়েছেন গ্রেপ্তারকৃত ইউপি সদস্যকে রিমান্ডে নিয়ে বিস্তর জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হবে।

থানা পুলিশ, সেতু বিভাগ ও মামলার বিবরনীতে জানা যায়, পদ্মা সেতুর ক্ষতিপূরনের অতিরিক্ত অনুদান ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন (ইসডো) নামের একটি বেসরকারি এনজিওর মাধ্যমে প্রদান করা হয়। সম্প্রতি ওই এনজিওর জাজিরা শাখার এরিয়া ম্যানেজার জাকির হোসেন, শিবচরের মাদবরচরের নারী ইউপি সদস্য ছালমা বেগম ও কাদির ফকিরসহ ১০-১২ জনের একটি প্রতারক চক্রের যোগসাজসে গত ৮ অক্টোবর জাজিরা উপজেলার নাওডোবা পূর্নবাসন কেন্দ্র-৪ এর অফিস কক্ষে শিবচরের চরজানাজাত মৌজার ১৬১৮ নং খতিয়ানের ৯৭৪৪ নং দাগের ৩০৭.০৮ শতাংশ সম্পত্তির অতিরিক্ত অনুদান বাবদ কাদির ফকিরের নামে ৩৯ লাখ ৩ হাজার ৬শ ৪৬ টাকা ছিয়াত্তর পয়সার একটি চেক প্রদান করা হয়।

চক্রটি নিজেদের নামে করে অন্যের জমির ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রাপ্ত সিসিএল জালিয়াতি করে ছালমা ও কাদিরের নামে অতিরিক্ত অনুদানের জন্য পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর আবেদন করেন। যাচাই বাছাই শেষে সেতু কর্তৃপক্ষ কাদির ফকিরের নামে ৩৯ লাখ ৩ হাজার ৬শ ৪৬ টাকা ছিয়াত্তর পয়সার ও ছালমা বেগমের নামে ৩৯ লাখ ৩ হাজার ৭ শ ৮৪ টাকা ৩১ পয়সার পৃথক দুটি চেক প্রদান করেন। প্রতারক চক্রটি ৭৮ লাখ টাকার পৃথক দুটি চেক এনজিওটি থেকে হাতিয়ে নিয়ে চেকের মাধ্যমে গত ৮ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে মিডল্যান্ড ব্যাংক পাঁচ্চর শাখা ও সোনালী ব্যাংক শিবচর শাখা থেকে ৭৮ লাখ ৭ হাজার ৪ শ ৩১ টাকা ৭ পয়সা টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করে।

গত ২২ অক্টোবর তল্লাশিতে দুটি চেকের সিসিএল এর নম্বর একই হওয়ায় সেতু কত্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয় জালিয়াতির ঘটনা। ২৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সেতু কত্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে জালিয়াতির বিষয়টির নথিপত্র ঘেটে চক্রটির হোতাদের চিহিৃত করে। মঙ্গলবার বিকেলেই সেতু কত্তৃপক্ষ শিবচর থানা পুলিশকে নিয়ে মাদবরচরে ইউপি সদস্য ছালমা বেগমের বাড়িতে গিয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের (নদী শাষন ও পূর্নবাসন) নির্বাহী প্রকৌশলী শারফুল ইসলাম বাদী হয়ে গভীর রাতে শিবচর থানায় মামলা দায়ের করেন।

এনজিওর জাজিরা শাখার এরিয়া ম্যানেজার জাকির হোসেন পলাতক রয়েছেন। বুধবার বিকেলে দুর্নিতী দমন কমিশনের ফরিদপুর অ লের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ, সহকারী পরিচালক মোঃ নাসিরউদ্দিন শিবচর থানায় আসলে ওসি জাকির হোসেন গ্রেপ্তারকৃত ছালমাকে তাদের কাছে হস্তান্তর করেন। ছালমাকে মাদারীপুর আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। দুর্নিতী দমন কমিশনের ফরিদপুর অ লের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ছালমাকে মাদারীপুর আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে চক্রের বাকি সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। ছালমাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশাবাদ করছি।