নড়াইলে রাতভর জারিগানের মধ্যদিয়ে শেষ হলো মোসলেম মেলা

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: আজ (২৩,অক্টোবর) জারিসম্রাট মোসলেম স্মৃতি পরিষদের আয়োজনে কবির জন্মস্থান নড়াইল সদর উপজেলার তারাপুর গ্রামে গত সোমবার এ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম। আমাদের নড়াইল প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, দু’দিনব্যাপী মেলায় গ্রামীণ খেলাধূলা, কবিতা পাঠের আসর, মোসলেম সঙ্গীত, নাটক, জারিগান, দোয়া মাহফিল, কবির জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মোসলেম ভক্তদের আগমনে মেলা প্রাঙ্গণ মিলন মেলায় পরিণত হয়। বাংলাদেশের জারিগানের অন্যতম পুরোধা চারণকবি মোসলেম উদ্দীনের ১১৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে দু’দিনব্যাপী ‘মোসলেম মেলা’ শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) রাতভর জারিগানের মধ্যদিয়ে এ মেলা শেষ হয়।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন-জারিসম্রাট মোসলেম স্মৃতি পরিষদের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা শরীফ হুমায়ুন কবীর, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম নবী, ঢাকাস্থ নড়াইল সমিতির সভাপতি শিক্ষানুরাগী প্রকৌশলী শৈলেন্দ্রনাথ সাহা, জারিসম্রাট মোসলেম স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুর রহমান হিলু, সদস্য সচিব মলয় কুমার কু, চারণকবি বিজয় সরকার ফাউন্ডেশনের যুগ্ম সম্পাদক আকরাম শাহীদ চুন্নু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শরফুল আলম লিটু, সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়ের, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেত্রী সাংস্কৃতিককর্মী চৈতী রানী বিশ্বাস, মোসলেম উদ্দীনের ছেলে জারিগানের শিল্পী রওশন আলী প্রমুখ। মোসলেম উদ্দীন ২০টি জারি গানের পালাকাহিনী, প্রশ্নোত্তর, ব্যঙ্গ কিংবা উপদেশ, ধুয়া গান, ভজন, বিচ্ছেদ, ভাব, ভাটিয়ালি, অষ্টক, কীর্তন, হালুই, সারি, হামদ, নাত-এ-রাসুল, দেশাত্ববোধক, শে¬ষাত্মক, রণসঙ্গীত, কৃষিগানসহ বিভিন্ন ধরণের জারিগান রচনা করেছেন।

কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৬৯ সালে চারণ কবি মোসলেম উদ্দীন ‘জারি সম্রাট’ উপাধি লাভ করেন। এছাড়া ১৯৭৬ সালে ফররুখ আহমেদ সাহিত্য স্বর্ণপদকসহ (গীতি কবিতায়) অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেছেন। জারিগানের খ্যাতিমান শিল্পী মোসলেম উদ্দিন ১৯০৪ সালের ২৪ এপ্রিল নড়াইল সদর উপজেলার তারাপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ১৯৯০ সালের ১৯ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।