নড়াইলে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপিত হওয়ায় পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে নড়াইল জেলা পূজা উদযাপন কমিটি

নড়াইল প্রতিনিধি: আজ-শনিবার (২০,অক্টোবর) নড়াইলে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয় নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পিপিএমকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছে নড়াইলের সর্বস্তরের জনগণ। সবার ধারণা পুলিশ সুপারের সঠিক দিকনির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করার কারণে এবারের দুর্গাপূজায় কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শনিবার (২০ অক্টোবর) সকালে নড়াইল জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অশোক কুমার কুন্ডু নড়াইল জেলা অনলাইন মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি উজ্জ্বল রায়ের নিকট এসব কথা বলেন।

জানা গেছে, ধর্ম যার যার, উসব সবার- এই আদর্শে বিশ্বাসী নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পিপিএম। আর তাই সাম্প্রদায়িকতা পরিহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পূজা চলাকালীন সময়ে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের জন্য কড়া নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশ পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দলে দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন পূজা মন্ডপে দায়িত্ব পালন করে। এ বছরের দুর্গাপূজায় নড়াইলের বেশ কয়েকটি পূজা মন্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। পূজা মন্ডপের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পূজারী, ভক্ত ও দর্শকের সংখ্যা ছিল এবার দেখার মতো। এতো মানুষ এক সঙ্গে থাকলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে ভেবে নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পিপিএম বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশেরাও ছিল বিভিন্ন পূজা মন্ডপে উপস্থিত। তাদের উপস্থিতির কারণে কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সেই সাথে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রাণের দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পেরেছে সফলভাবে। নারীরাও নিরাপদে পূজা মন্ডপ পরিদর্শনসহ সিঁদুর খেলায় অংশগ্রহণ করতে পেরেছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। আর নড়াইলেল পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পিপিএম এর এ ধরনের মহতী উদ্যোগে এবারে নড়াইলে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হওয়ায় তাঁকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছে নড়াইলবাসী। নড়াইলের বেশ কয়েকজন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জানান, নড়াইলের বর্তমান পুলিশ সুপার একজন ভালো মানুষ।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য তিনি যে সকল উদ্যোগ গ্রহণ করেন সেগুলি সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। যার প্রমাণ এবারের দুর্গাপূজায় পাওয়া গেছে। নিজে গিয়ে বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন, অসহায়-দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নারীদের সুরক্ষার মতো মহৎ কাজ করায় সকলে প্রাণভরে আশীর্বাদ করেছে তাঁকে। নড়াইল জেলার মানুষ এমন একজন মহৎপ্রাণ মানুষের সান্নিধ্য পেয়ে গর্বিত বলেও মনে করছেন অনেকে। নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, পিপিএম বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রাণের উৎসব দুর্গাপূজা। আর এই দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কিছু চক্র বিভিন্ন ঝামেলা ও গ-গোল পাকানোর চেষ্টা করে। এবার যাতে এ ধরনের কাজ কেউ না করতে পারে এ জন্য পুলিশ বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এছাড়াও আমি বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করে সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা উপলব্ধি করেছি। ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এরূপ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান। নড়াইল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অশোক কুমার কুন্ডু আমাদের নড়াইল প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে জানান, এ বছর জেলায় ৫শ ৬৩টি ম-পে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যান্য বছরের মতো এবারও সুষ্ঠু ও সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী নড়াইলবাসী সব সময়েই ধর্মীয় উসব ও সামাজিক কর্মকান্ডে পরষ্পর সহযোগিতা করে চলে।

মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্মালম্বীদের সকল উসবে আমরা পরস্পর সহযোগিতা করে যাবো এই প্রত্যাশা করি। নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম বলেন, জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় উসব সম্পন্ন করতে পেরে সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। জেলার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ধর্মীয় সব উৎসব যাতে নির্বিঘ্নে করতে পারে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সহকারি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ মেহেদী হাসান, সহকারি পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার্স) মোঃ জালাল উদ্দিন, সহকারি পুলিশ সুপার (প্র.বি.) মোঃ ইশতিয়াক আহম্মেদ, নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন, ডিবি পুলিশের ওসি আশিকুর রহমান, এস আই নয়ন পাটয়ারী, এস আই তাহিদুর, এস আই সেলিম, এ এস আই রাজ্জাক,এ এস আই সোহেল,এ এস আই জহির, এ এস আই হাবিব ও সঙ্গীয় ফোর্স বায়েজিদসহ।