পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বড় দুর্গা পূজা

পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় কবুতরখালী গ্রামের হালদার বাড়ির রাজ মন্দিরে এবার ১৫৭ টি দেব-দেবীর প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগের সর্ববৃহ দূর্গা পুজার এ মন্ডপে দেবদেবীর মূর্তি দিয়ে চারহাজার বছরের পুরানো পৌরাণিক কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবছর দুর্গোসবে হালদার বাড়ি ব্যতিক্রমী পূজা মন্ডপ তৈরি করে থাকে। গত বছর ৪৭টি প্রতিমায় পূজার আয়োজন করা হলেও এবছর এখানে ডা. সুদীপ কুমার হালদার ও ডা. স্নিগ্ধা চক্রবর্তী দম্পত্তির ব্যক্তিগত আয়োজনে রাজ মন্দিরের আশপাশ জুড়ে প্রায় এক একর জমিজুড়ে ২৪ টি মন্দিরে ১৫৭টি প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে।

হালদার বাড়ির দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির দাবি এটি বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বড় পূজামন্ডপ। ১৫ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে এখানে শুরু হয়েছে দুর্গা পূজা। আজ কুমারী পূজা। টানা পাঁচদিন ধরে চলবে এ পূজা এবং পূজা প্রাঙ্গনে বসছে গ্রামীন মেলা।
এ মন্ডপে পূজার বিশাল প্যান্ডেল জুড়ে বিভিন্ন দেবী দূর্গাসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কয়েকটি সারিতে মূল প্যান্ডেলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে প্রতীমা। ৩০ জন কারিগরের ৩০ দিনের পরিশ্রমে তৈরি করা ১৫৭টি প্রতীমা। প্রতিদিন এখানে কয়েক হাজার মানুষ প্রতীমা দর্শনে আসছেন।

এ রাজ মন্দিরের পুজা মন্ডপের সব থেকে বড় আকর্ষণ হলো মন্ডপে প্রতিমার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে মহাভারতের কাহিনী। এখানে সর্বমোট ১৫৭টি প্রতিমার মধ্যে শিবের বিবাহ, দোযজ্ঞ, হনুমান, দশানন রাবন, রাধাকৃষ্ণ, মা-যশোদা ও শ্রী কৃ, লক্ষ্মী নারায়ণসহ কলিযুগের বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা দর্শকদের কাছে উপস্থাপন করতে চলছে নানা কারুকাজ। হালদার বাড়ির দুর্গাপূজা উদযাপনের ডা. সুদীপ কুমার হালদার বলেন, বর্তমানে এটি এ অ লে বৃহ দুর্গা মন্ডপ। এলাকারলোক এভাবে ধর্মীয় সংস্কৃতি উপভোগ করার সুযোগ কম পায়। আমাদের এখানে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে নারী-পুরুষসহ উসবে সমবেত হবেন।

ডা. স্নিগ্ধা চক্রবর্তী বলেন, আমরা প্রতি বছরই ব্যাক্তিগত ভাবে বাড়িতে এ পূজার আয়োজন করি। দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা দর্শর্ন্থীরা এখানে পূজা দেখতে আসে। এখানে আমরা এলাকার গরীব মানুষদের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাপ করে থাকি কারন আমি ও আমার স্বামী আমরা দুজনেই ডাক্তার। এভাবেই আমরা এলাকার মানুষদের পাশে থেকে তাদের সেবা করার চেষ্টা করছি।