পুলিশের সহযোগিতায় মায়ের কোল ফিরে পেলো শিশু জাবেদ

নুর উদ্দিন সুমনঃ পুলিশে এমন সত কর্মকর্তাও রয়েছেন, যারা লক্ষ টাকার অফারও ফিরিয়ে দিতে পারেন অনায়াসে। লক্ষ টাকার লোভ সংবরণ করে দেশের স্বার্থে নিজের পেশাগত দায়িত্বকেই প্রাধান্য দেন। স্বামীর বন্ধিশালা হতে দেড়বছরের শিশুকে মায়ের খুলে ফিরিয়ে দিয়ে ব্যতিক্রমী উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন শায়েস্তগঞ্জ থানার ওসি আনিছুর রহমান। প্রচলিত ধারণা পাল্টে দিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আনিছুর রহমান দেখিয়ে দিলেন, ঘুষ দিয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করা সম্ভব নয়।

তিনি পুলিশ বাহিনীতে সততার এমন উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। সমগ্র পুলিশ আনিছুর রহমানের সততায় গৌরবান্বিত পুরো পুলিশ বাহিনী। শায়েস্তাগঞ্জ থানাধীন যৌতুক লোভী স্বামী তার স্ত্রীকে মারপিট করে তার দুগ্ধপূশ্য বাচ্চাকে আটক রেখে স্ত্রীকে বাবার বাড়ি তাড়িয়ে দেয়, পরে মায়ের অভিযোগের ৪০ মিনিট এর মধ্যে ওসি আনিছুর রহমান শিশুর মায়ের কোলে ফিরে দেন। অবুঝ শিশু জাবেদ তার মাকে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা। জানা যায়, গতকাল বাচ্চার মা জেসমিন আক্তার শায়েস্তাগঞ্জ থানায় অভিযোগ দেন অভিযোগ পেয়ে ৯নং ওয়ার্ড বিরামচর অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০মিনিটের মাতায় উদ্ধার করেন শিশুকে।

অবুঝ শিশু জাবেদ তার গর্ভধারিনী মা জেসমিন বেগমকে দেখে ঝাঁপটে ধরে মায়ের কোলে আনন্দে মেতে উঠে। গর্ভধারীনি মা তার বুকের ধন কলিজার টুকরা জাবেদকে কোলে পেয়ে আনন্দে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। জানা যায়, প্রায় ৪ বছর পূর্বে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড বিরামচর গ্রামের মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়ার (২৯) নিকট সামাজিকভাবে চুনারুঘাট উপজেলার ওসমানপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের মেয়ে জেসমিন আক্তারের সাথে। বিয়ের বেশকিছু দিন পর তাদের কোল জুড়ে জন্ম নেয় ফুটফুটে একটি পুত্র সন্তান।

কিন্তু স্বামী যৌতুকের জন্য জের ধরে জেসমিন বেগমের স্বামী জুয়েল মিয়া তাকে মারপিট করে অবুঝ শিশু তানহাকে জোরপূর্বক রেখে ফাহিমা বেগমকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দিলে ফাহিমা বেগম তার বাবার বাড়ী চুনারুঘাট আশ্রয় নেয়। সামাজিক প্রচেষ্টা চালিয়ে শিশু পুত্রকে ফিরে না পেয়ে জেসমিন বেগম মেয়েকে ফিরে পেতে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে ওসি মোঃ আনিছুর রহমানের নেতমত্বে একদল পুলিশ তাক্ষনিক শিশু জাবেদ কে তার পিতার বাড়ী থেকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন।