বগুড়ার অলিগলিতে অনুমোদন বিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার

খালিদ হাসান, বগুড়া প্রতিনিধিঃ উত্তর বঙ্গের রাজধানী খ্যাত বগুড়া জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে নামে বেনামে অলিগলিতে গড়ে উঠেছে নাম সর্বস্ব ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অার এসব অনুমোদনবিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রায়ই ভুল চিকিসায় রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। এছাড়াও মাত্র ৬০০ টাকার জন্য রোগী ও স্বজনকে নির্যাতনের অভিযোগ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান নিয়ে সাধারন মানুষের মনে অভিযোগ উঠছে হরহামেশায়। সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজরদারির অভাবকে দুষছেন ভুক্তভোগীরা।

সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য মতে, এ জেলায় ১৮০ টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিবন্ধন থাকলেও এ জেলায় প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা প্রায় পাঁচ শতাধিক। অনুমোদনবিহীন এসব ক্লিনিকে প্রায়ই ঘটছে মৃত্যুর মত দুর্ঘটনা। গত ১৮ই জুলাই শহরে গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন ডলফিন ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যাপেন্ডিসাইটের অপারেশন করতে গিয়ে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রের মৃত্যু হয়।

এর আগে শহরে এবং শেরপুর উপজেলার দুটি ক্লিনিকে দুজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া টাকার জন্য রোগীকে মারপিটের ঘটনাও রয়েছে এক ক্লিনিকের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি জেলার মোকামতলা এলাকার মোকামতলা ক্লিনিক & ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এ ভুল অপারশনে প্রাণ হারান ঐ এলাকার কাশিপুর গ্রামের সুলতানা বেগম নামের অার এক গৃহবধু। তাই স্বজন এবং সচেতন মহল দাবি জোর দাবি তুলেছে সরকারের নজরদারির।

আর ডাক্তার নেতারা বলছেন, ডাক্তারদেরও অনুমোদনবিহীন ক্লিনিকে চিকিসা দিতে যাওয়া ঠিক নয়। বগুড়ার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জি এম সাকলায়েন বিটুল বলেন, অবৈধ কিংবা মানহীন ক্লিনিকগুলোকে ‍শুধুমাত্র জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়। আমার মতে এগুলো বন্ধ করে দেয়া উচিত।

বগুড়ার স্বাধীনতা চিকিসক পরিষদের সভাপতি ডাঃ মোঃ সামির হোসেন মিশু বলেন, চিকিসকদের সঙ্গে আমরা একাধিকবার বৈঠক করেছি। তাদের বলে দেয়া হয়েছে যাতে তারা অননুমোদিত কোনো ক্লিনিকে না যান। সেখানে গেলে তার দায়-দায়িত্ব তাদের। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্যবিভাগ যৌথভাবে অনুমোদনবিহীন এবং মানহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছেন।