বাংলাদেশ দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে - হানিফ জাকারিয়া
The news is by your side.

বাংলাদেশ দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে – হানিফ জাকারিয়া

হানিফ জাকারিয়া রিজেন্ট এয়ারওয়েজ এর চীফ কমার্শিয়াল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।তিনি বিমান পরিবহন ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা খাতে প্রায় ৩৫ বছর ধরে কাজ করছেন । তিনি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের সৌদি আরব অফিসের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর সৌদি পর্যটন ও ভ্রমণ ব্যুরোর শাখা ম্যানেজারের দায়িত্বও পালন করেন। এরপর আমিরাত এয়ারলাইনসে যোগ দেন। সেখানে বাণিজ্যিক পরিচালনা খাতে ২০ বছর কাজ করেন। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় বিমান পরিবহন সংস্থা ইতিহাদ এয়ারওয়েজের মহাব্যবস্থাপক পদে যোগ দেন। সম্প্রতি তিনি তার ক্যারিয়ার ও তারুণ্যশক্তি নিয়ে আমাদেরকে এক সাক্ষাতকার দিয়েছেন। তার সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হলো –

তিনি বলেন, একটা সময় ছিল যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে সবাই ছুটতো কর্পোরেট হাউসের লোভনীয় চাকরির পিছনে। সময় বদলেছে, আর সেই সঙ্গে বদলে গেছে তারুণ্যের আগ্রহের গতিপথও। তাই এখন কর্পোরেট অফিসের চার দেয়ালের মধ্যে বন্দী হতে অনাগ্রহ তরুণনা। মেধা-মনন আর সৃজনশীলতার বিনিময়ে তরুণরা কর্পোরেট ভাবাপন্ন স্বপ্নময় সুন্দর ক্যারিয়ার গড়তে চায়। যেখানে থাকবে রোমাঞ্চ, স্বকীয় পরিচিতি এবং নিজস্বতা। আর এ ধরনের পেশার ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ পেশায় ক্যারিয়ার অতুলনীয়।তিনি বলেন, কেবিন ক্রু বা এয়ার হোস্টেস তরুণ প্রজন্মের কাছে স্বপ্নময় এক পেশা। এ পেশায় উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে বর্তমানে অনেক তরুণ তরুণীরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হবেনই-বা না কেন! শুধু আর্থিক ভাবেই মর্যাদার নয়, বরং ভিন্ন রকম অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদও মেলে এই পেশায়। পাখির মতো ‘উড়াল দেয়া যায় আকাশে’। বিমানে করে দেশে বিদেশে ঘুরে বেড়ানো যায়। এ পেশাটায় নিজেকে যুক্ত করতে চাইলে গ্ল্যামার থাকা চাই। তবে শুধু গ্ল্যামারই এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়। ইচ্ছাশক্তি, আত্মবিশ্বাস, আর ঝুঁকি নেয়ার মানসিকতাও সমান প্রয়োজনীয়। স্মার্টনেস, যোগাযোগ দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান সর্বোপরি মনের ভেতরে একটা সৌন্দর্যবোধ থাকা চাই এ পেশায় আসতে চাইলে। উদ্যামীদের ঝোঁক বাড়তে থাকায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই পেশা। আর স্বভাবতই, এখানে বাড়ছে প্রতিযোগিতাও।

এই প্রতিযোগিতায় নিজেকে সমবেত করার জন্য যে সুদীর্ঘ প্রস্তুতি অনিবার্য- তাও নয়। বরং কিছু প্রশিক্ষণ কোর্স করেও বাংলাদেশ বিমান ও বেসরকারি দেশী-বিদেশী এয়ারলাইন গুলোতে চাকরির সুযোগ পেতে পারে। এটি এমনই এক আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্র, যার ফলে শুধু বাংলাদেশ নয়; বিশ্বের অন্যান্য দেশের এয়ারলাইন্স গুলোতেও সফল ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনা অবারিত যেমনটি জানান হানিফ জাকারিয়া। ‘এয়ারলাইন্সে কাজ করা যেমন মর্যাদার তেমনি অ্যাডভেঞ্চারাস। এখানে রয়েছে গ্লোবাল ক্যারিয়ার। আপনি এ কাজের যোগ্যতা অর্জন করতে পারলে গোটা বিশ্ব হবে আপনার কর্মক্ষেত্র। সেই সঙ্গে রয়েছে অবারিত সুযোগ-সুবিধা।

এয়ার হোস্টেস বা কেবিন ক্র হিসেবে ক্যারিয়ার বেছে নিতে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে ভালো। সেই ক্ষেত্রে প্রতি বিষয়ে ন্যূনতম বি গ্রেড এইচএসসি কিংবা ‘এ’ লেভেল উত্তীর্ণ হতে হবে। এ হল ন্যূনতম যোগ্যতা। তবে গ্র্যাজুয়েশন আর মাস্টার্স করা থাকলে তো সোনায় সোহাগা। কেননা, কোনো কোনো এয়ারলাইন্স কোম্পানি শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ন্যূনতম মাস্টার্সও চেয়ে থাকে। বয়স হতে হবে ন্যূনতম ১৮ বছর। হানিফ জাকারিয়া এ বিষয়ে বলেন, স্মার্টনেস ও ভালো ইংরেজি বলার দক্ষতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে এয়ার হোস্টেস বা কেবিন ক্র পেশার প্রতিযোগিতায়। এছাড়া, উপস্থিত বুদ্ধি, ধৈর্য ও সহনশীলতা, সুন্দর আচরণ, যে কোনো পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা, বিরক্তিকর মুহূর্তেও নিজেকে স্বাভাবিক রাখার ক্ষমতা- এ পেশায় এগুলো মৌলিক গুণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, নভো এয়ারওয়েজ, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ইত্যাদি এয়ারলাইন্স রয়েছে। এছাড়া বিশ্বের সকল এয়ারলাইন্স কোম্পানিতে রয়েছে এয়ার হোস্টেজদের জন্য কাজ করার লোভনীয় সব অফার। এশিয়া মহাদেশের মালয়েশিয়া, থাই এয়ার ও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স এবং মিডল ইস্টের সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ইতিহাদ, এমিরেটস ও গালফ এয়ার এবং ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে কেবিন ক্রুদের এত বেশি চাহিদা যে, অন জব ট্রেইনিং করার সময়েই ভালো চাকরির অফার পেয়ে থাকেন ডিগ্রিধারীরা।

বাংলাদেশি পর্যটকদের থাইল্যান্ড ভ্রমণ সহজসাধ্য করার পাশাপাশি সেই দেশ থেকেও পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বেসরকারি বিমান সংস্থা রিজেন্ট এয়ারওয়েজের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (সিসিও) হানিফ জাকারিয়া। হানিফ জাকারিয়া বলেন, আমরা এখানে থাইল্যান্ডকে প্রমোট করি, আমরা ওখানে ট্যুরিজম ফেয়ারে অংশগ্রহণ করি। ওখান থেকেও পর্যটকদের আমরা নিয়ে আসতে চাই। অর্থাৎ আমরা ট্যুরিজমকে প্রমোট করছি। বাংলাদেশ থেকে থাইল্যান্ড এবং থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে।”