বাগমারায় নিখোঁজ আ.লীগ নেতার সন্ধান চেয়ে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায় নিখোঁজ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সালামের সন্ধান চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। সোমবার দুপুরে উপজেলার চেউখালিতে এই বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে নিখোঁজ আব্দুস সালামের পরিবারের সদস্যসহ এলাকার কয়েক হাজার নারী-পুরুষ অংশ নেয়। নিখোঁজ আব্দুস সালামের ছবি হাতে নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে দ্রুত তার সন্ধান দাবি করে।

এদিকে, নিখোঁজ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সালামকে একটি কালো মাইক্রোবাসে জোরপুর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহমেদ। তবে কে বা কারা তাকে তুলে নিয়ে গেছে তা এখনো জানা যায়নি বলে জানান তিনি।

ওসি বলেন, দুপুরে ভবানীগঞ্জ পল্লী বিদ্যু অফিসে কাজ সেরে মোটরসাইকলে যোগে আব্দুস সালাম বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় পলাশী গ্রামের মাঠে মধ্যে তার মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি একটি কালো মাইক্রোবাসে তাকে জোরপূনর্বক তুলে নেয়া হয়। এর পর মাইক্রোবাসটি দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। ওই ব্যক্তিদের একজন সালামের মোটরসাইকেল চালিয়ে ওই মাইক্রোবাসের পিছন পিছন যায়। মাইক্রোবাসটি আত্রাইয়ের দিকে গিয়েছে বলে জানান ওসি নাছিম আহমেদ।

রোববার দুপুর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সালামের কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে রাতে নিখোঁজ আব্দুস সালামের স্ত্রী আফরোজা বেগম থানায় সাধারণ ডায়রি করে। নিখোঁজ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সালামের বাড়ি উপজেলার চেউখালি গ্রামে। তিনি বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক এবং গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের সহ-সভাপতি। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এছাড়াও আব্দুস সালাম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। পল্ট্রি ও মাছের খাবার এবং আলু মজুদের ব্যবসা রয়েছে তার।

আব্দুস সালামের ছোট ভাই আবু সায়েম বলেন, তার ভাই সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে চেউখালি বাজারে তার দোকানে যান। সেখান থেকে দুপুর ১২টার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে উপজেলার ভবানীগঞ্জ চান। ভবানীগঞ্জে একটি স্টলে তার তিন ভায়রার সঙ্গে চা খান। এর পর তিনি আবু তালেব নামের এক ব্যবসায়ীর পল্ট্রির খাবারের দোকানে যান। সেখান থেকে তিনি পল্লী বিদ্যু অফিসে যান। এর পর থেকে তার ফোন বন্ধ এবং তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। এমনকি তার ব্যবহৃত মোটরসাইলেরও কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।