রাজশাহীতে শতাব্দী পেরল ‘বৈষ্ণব সভা’

হাসান মাহমুদ, রাবি: দেখতে দেখতে কেটে গেল দীর্ঘ এক শতাব্দী। শুরু হয়েছে নতুন করে পথ চলা। শতাব্দী ধরে শরতের শুভ লগ্নে পরম বৈষ্ণব সভা। বলছিলাম রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ‘বৈষ্ণব সভা’ মন্দিরের কথা। যেটি শতবর্ষ পেরিয়ে এখন ১০১ এ পা দিয়েছে।
১৯১৭ সালে এ মন্দিরটি নির্মিত হয়েছেল। তকালীন সময়ে মালদার জমিদার শশিভূষণ রায় চৌধুরী দান করেছিলেন ‘বৈষ্ণব সভা’ মন্দিরের জমি।

তখন থেকেই বৈষ্ণব সভা মন্দিরে শুরু হয় মায়ের অকাল বোধন। কিন্তু দেশের সামাজিক রাজনৈতিকসহ নানা কারণে প্রায় ১৯৬২ সাল থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত বন্ধ ছিল মায়ের পূজোর এই মহা আয়োজন। কিন্তু সকল বাঁধা কাটিয়ে যোগেন্দ্রনাথ সিং এর আমল থেকে নতুন করে শুরু হয় বৈষ্ণব সভা মন্দিরে মহিষাসুর মর্দিনীর আর্চনা।

১৯৯৭ সালের দিকে রাজশাহী মহানগর পূজা কমিটি গঠন করা হলে ২০০০ সাল থেকে মহা আয়োজনে জমজমাট হয়ে উঠে শরতের শারদীয় উৎসব। সেই পথ চলাতেই শতবর্ষ পার করে গত রোববার মহা ষষ্ঠি পূজো করা হয় রাজশাহী নগরীর গনকপাড়ার এই বৈষ্ণব সভা মন্দিরে।

মন্দিরের সংস্কারের দাবি জানিয়ে বৈষ্ণব সভা পরিচালনা কমিটির সদস্য সাগর সরকার বলেন, মন্দিরটি প্রায় পরিত্যাক্তই হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে তুলে আনা হয়েছে। জনগণের সহযোগিতায় প্রতিবছর মাহা ধুমধামে আমরা এই পূজোর আয়োজন করতে পারি। কিন্তু প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই ইচ্ছা মন্দিরটি যেন সংস্কার করা হয়।

বৈষ্ণব সভা মন্দিরের মৃশিল্পী অরুন কুমার পাল বলেন, ১৮ বছর ধরে এই মন্দিরে মায়ের মূর্তি গড়ি এবার ১০১ বছর পূর্তিতে মায়ের মূর্তি গড়তে পেরে খুব ভালো লাগছে আমার। বৈষ্ণব সভা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহেষচন্দ্র সরকার বলেন, সকল বাঁধা-বিপত্তি উপেক্ষা করেই প্রতি বছর আমরা এই পূজোর আয়োজন করি।

১০১ বছর উপলক্ষে কি কি আয়োজন করা হয়েছে এমনটা জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি অশোক কুমার সাহা জানান, কমিটির সাধারণ সম্পাদক অসুস্থ থাকায় তারা পূজোর আনন্দটা একটু সীমিত রাখছে। যদি সব কিছু ঠিক থাকে তবে বিজয় দশমী বিসর্জনের সময় ১০১টি ঢাক নিয়ে র‌্যালি করার ইচ্ছা আছে বলে জানান তিনি।