রোগীর জীবন বাঁচাতে নিজেই চালিয়ে নিয়ে গেলে অ্যাম্বুলেন্স

তোফায়েল পাপ্পু,শ্রীমঙ্গল,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: রোগীর জীবন বাচাতে নিজেই ড্রাইভারের আসনে বসলেন ৪৬ বিজিবি’র অধিনায়ক কর্ণেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন। ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিজিবি ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন টিটু জানান, গত শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩ টার দিকে যখন অফিস প্রায় শেষের দিকে তখন হাসপাতালে একটি এম্বুলেন্স প্রবেশ করে ৫৫ বছরে একজন মুমুর্শ রোগীকে নিয়ে তা দেখে আমি এগিয়ে গেলাম। রোগীকে পরীক্ষা করা শুরু করলাম।

তার এষধংমড়ি ঈড়সধ ঝপধষব-এর মাত্রা নেমে ছয় এ (ঙৎড়ঢ়যধৎুহী) ফেনা জমছে। তার হাত পায়ে মোচড়ানো শুরু হয়ে গেছে। পিউপিলদ্বয় সংকুচিত হয়ে আছে। রোগীর সাথে থাকা এক তরুনের সাথে কথা বলে বুঝতে পারলাম এটা স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী। তাকে দ্রুত সিলেটে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করলাম। ঠিক তখন বিজিবির একটি পাজেরো জিপ হাসপাতালে প্রবেশ করল। ৪৬ বিজিবি’ও কমান্ডিং অফিসার লে. কর্ণেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন।

গাড়ী থেকে নেমে আমার দিকে এগিয়ে আসলেন চেহেরা দেখেই বুঝতে পারলাম জানতে চাচ্ছেন কি হচ্ছে তাই প্রশ্নের অপেক্ষা না-করেই আমি বললাম, খুব সম্ভবত রোগী ব্রেইন স্ট্রোক করেছে দ্রুত থাকে সিলেট পাঠাতে হবে। এবং আমি রেফার করে দিয়েছি লে. কর্ণেল সাহেব তার সহকর্মী সৈনিকদের জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার কোথায়? জবাব এল, তিনি এখনও আসেননি পোষাক পরছেন।

লে. কর্ণেল সাহেব কোন কথা না বলে ড্রাইভিং সিটে বসে অ্যাম্বুলন্স স্টার্ট দিলেন ড্রাইভারের অনুপস্থিতিতে তিনি নিজেই অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এগিয়ে চললেন। লে.কর্ণেল আব্দল্লাহ আল মোমেন বলেন বলেন, ডাক্তার যখন জানান রোগীর অবস্থা খুব খারাপ তখন বুঝতে পারছিলাম প্রতিটা মিনিট এই রোগীর জীবন বাচানোর জন্য খুব দামী তাই আমাদের চালক আসতে যে সময় লাগবে তা আমি নষ্ট করতে চাইনি। রোগী এখন সিলেট আছে। আগের থেকে ভালো আছে।