শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ : এমপি ফারুক

রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সাংসদ, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরী সোমবার দিনব্যাপী তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নৌকার পক্ষে উঠান বৈঠক, কর্মীসভা ও পথসভার মাধ্যমে ব্যাপক গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। তানোরের চাঁন্দুড়িয়া ইউপি, সরনজাই ইউপি, তালন্দ ইউপি, বাধাইড় ইউপি, পাঁচন্দর ইউপি, কামারগা ইউপি ও কলমা ইউপির বিভিন্ন এলাকায় ফেয়ারপ্রাইস কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণ পরিদর্শন ও উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তানোর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও কলমা ইউপি চেয়ারম্যান লুফর হায়দার রশিদ ময়না, সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের ইসলাম, গোদাগাড়ী উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুল সরকার, তালন্দ ইউপি আওয়ামী লীগ সভাপতি নাজিমুদ্দীন বাবু, ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম রবিউল মাস্টার, ও ইউপি সদস্য হাসান আলী প্রমূখ।

এছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা ও কর্মী-সমর্থকগণ উপস্থিত ছিলেন। এমপি ফারুকের গণসংযোগে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচা ল্যর সৃষ্টি হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতা ও কর্মী-সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের উদ্দেশ্যে এমপি ফারুক চৌধূরী বলেন, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ এই প্রতিবাদ্য সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফেয়ারপ্রাইস কর্মসূচির মাধ্যমে মাত্র ১০ টাকা কেজি দরে পরিবার প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল সরবরাহ করছেন। তিনি বলেন, আগামিতে দেশে কোনো গৃহহীণ থাকবে না, কোনো বেকার থাকবে না, থাকবে না কোনো ক্ষুধার্ত মানুষ সবার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এমনকি তার সরকারের ভিক্ষুকদের ভাতা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, তার সরকার সূখি-সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলার পাশপাশি দেশের মানুষ যেনো ভালভাবে মাথা উচু করে বসবাস করতে পারে সেই চেস্টায় করছে। তিনি বলেন, এমব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে হবে এবং তাকে আবারো রাস্ট্রিয় ক্ষমতায় নিয়ে আসতে হবে এ জন্য আগামিতে কারো কোনো অপপ্রচার-প্রলোভণের ফাঁদে পা না দিয়ে আবারো আপনাদের নৌকা প্রতিকে ভোট দিয়ে নৌকার বিজয় ঘটাতে হবে তাহলেই জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

অপরদিকে তালন্দ ইউপির এক পথসভায় গোদাগাড়ী উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুল সরকার রাজশাহী-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন এমপি ওমর ফারুক চৌধূরী এটা নিয়ে কারো কোনো শংসয়ের অবকাশ নাই। তিনি বলেন, যারা এমপি মনোনয়নের খোয়াব দেখছেন তারা ষড়যন্ত্রবারী এরা কোনো ভাবেই মনোনয়ন পাবেন না এটা নিশ্চিত হয়েও কেবলমাত্র এমপি ফারুকের বিজয় ঠেকাতে গোপণে জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে আতাত করে আওয়ামী লীগের অত্যন্ত সম্ভবনাময় গোছানো ভোটের মাঠ নস্ট করছে। তিনি বলেন, রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের আজকের যেই জয়জয়কার অবস্থান সেটি এমপি ফারুকের রাজনৈতিক দূরদর্শীতা ও নেতৃত্বে তার হাত ধরেই হয়েছে সেই অবদানের কথা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না আওয়ামী লীগে তার আশার আগের ও পরের অবস্থান বিশ্লেসণ করলেই এই সত্য সকলের কাছে দৃশ্যমান হবে।

তিনি বলেন, রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হবার অনেক আগেই এমপি ফারুক চৌধূরী সিআইপি মর্যাদা অর্জন করেছেন হয়েছেন রাজশাহীর প্রথম স্বচ্ছ আয়কর দাতা হয়েছেন রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এছাড়াও তিনি শহীদ পরিবারের সন্তান ও জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান হেনার ভাগ্নে, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে সম্পাদক ও সভাপতি হয়ে রাজশাহী আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি দু’বার সাংসদ ও একবার প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। তিনি বলেন, যেই রাজনৈতিক নেতার এতো অর্জন তাদের কথা অনুযায়ী যদি তিনি মনোনয়ন বি ত হয় তাহলে যারা মনোনয়নের স্বপ্নে বিভোর তারা কিসের ভিত্তিত্বে মনোনয়ন পাবেন তারা, তাদের কি এমন অবদান রয়েছে যেটা এমপি ফারুকের অবদানের থেকেও বেশি এই প্রশ্ন তাদের কাছে রইল আপনারা উত্তর নিবেন।

তিনি বলেন, প্রায় কুড়ি বছরের রাজনৈতিক জীবনে এমপি ফারুক তানোর-গোদাগাড়ী শুধুমাত্র যেই দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছেন সেটা আপনারা দেখছেন। আর যিনি মনোনয়ন পাবেন বলে একশ’ ভাগ আশাবাদি তিনি দুই মেয়াদে ইউপি চেয়ারম্যান ও দুই মেয়াদে পৌরসভার মেয়র তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের উন্নয়নের একটি মাত্র উদাহারণ আপনারা দেখান তো দেখি, তিনি তো এখানো প্রায় সাত বছর মেয়রের দায়িত্বে রয়েছেন এই সাত বছর সময়ে পৌরসভায় সাত কোটি টাকার দৃশ্যমান উন্নয়নের কোনো চিত্র রয়েছে কি না সেটা আপনারাই খোঁজ নিয়ে দেখুন তো-? তাহলে উনি কিভাবে এমপি হয়ে তানোর-গোদাগাড়ীর উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেন তার হাতে কি আলাদিনের সেই জাদুর চেরাগ আছে। তিনি বলেন, এছাড়াও যিনি এমপি ফারুকের জন্যই দুবার উপজেলার সভাপতি ও পৌর মেয়র হয়েছেন, আবার দুবার দলীয় মনোনয়নে উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির দুর্বল প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন অথচ এখন তিনি এমপি ফারুককে টেক্কা দিয়ে এমপি হবার খোয়াব দেখছেন আপনারা জনগণ আপনারই বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে দেখুন তো আসলেই তিনি এমপি নির্বাচন করার জন্য এসব করছেন না কি বিশেষ মহলের কাছে থেকে বিপুল অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে এমপি ফারুকের বিজয় ঠেকাতে ষড়যন্ত্র করছেন।

তিনি বলেন, আপনাকে আর কেউ বিশ্বাস করে না আপনি ইতমধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে ভোট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন আপনি কত বড় আদর্শিক আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, আপনার এমপি ফারুকের বিরুদ্ধে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের চাকরি দেয়ার যে অভিযোগ এসেছেন সেটাও ডাহা মিথ্যা কারণ এমপি তো সব প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন না। আপনারা চাকরির জন্য প্রার্থী নিয়ে গিয়ে তদ্বির করেছেন এমপি তাতে সুপারিশ করেছে মাত্র তাহলে দায় কার-? আজ আপনি নিজেকে আদর্শিক দাবি করে এমপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন অথচ সেদিন কেনো উপজেলা কমিটির সভা ডেকে এমপির বিরুদ্ধে এসব নালিশ করেননি কেনো জেলা বা কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবগত করেননি সেই সক্ষমতা তো আপনার ছিল আসলে ঠাকুর ঘরে কে আমি কলা খায়নি।

তিনি বলেণ, এমপি ফারুকের প্রায় কুড়ি বছরের রাজনৈতিক জীবনে প্রায় আঠারো বছর আপনি ঘনিষ্ঠভাবে তার সঙ্গে থেকে ষোল কলার পনের কলা পুরুণ করে এক কলা পুরুণ না হওয়ায় আপনি রাতারাতি তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে উঠে তার বিরুদ্ধে জামায়াত-বিএনপিপ্রীতির অভিযোগ করছেন তাহলে এতোদিন চুপ ছিলেন কোনো। তিনি বলেন, মানুষ এখন এতো বোকা নয় সব বুঝে এসব অপপ্রচার করে এমপি ফারুকের বিজয় আপনারা ঠেকাতে পারবে না। তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, আওয়ামী লীগ উন্নয়ন ও সুস্থধারার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে, উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে ও অসমাপ্ত উন্নয়ন কর্মকান্ড সমাপ্ত করতে আগামীতেও আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় নিয়ে আসার জন্য দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। এ সময় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।