তেতুলিয়ায় দুর্বৃত্তদের হাতে নবনির্মিত মাদরাসা স্থাপনা ভাংচুর ঘটনায় ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী

তেতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় কতিপয় দুর্বৃত্তদের হাতে ভাংচুর হয়েছে নবনির্মিত এক হাফেজি মাদরাসা। শনিবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দর্জিপাড়ার বাগানবাড়ীর এলাকায় নতুন স্থাপনা মসজিদ ও কাম হাফেজি মাদরাসার ওয়াল, খুটি ভেঙ্গে পালিয়ে যায় কতিপয় দুস্কৃতিকারী ব্যক্তি। এতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গার কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে প্রতিষ্ঠানটির কমিটি জানান।

জানা যায়, অনেক দিন ধরেই বেশকিছু ভূমিদস্যুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। সম্পত্তি বেদখলসহ নানান হয়রানি করে আসছে এসব ভূমিদস্যুরা। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে নিজের কেনা জমি ভোগ দখল করে আসছেন দর্জিপাড়া গ্রামের আফসার আলী (মাষ্টার)। গত ২০০৩ সালের ২৬ এপ্রিল তেঁতুলিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১৪৪৪ নং দলিলমূলে মসজিদ ও কাম মাদরাসার নামে ১৫ শতক জমি দানপত্র করে দেন তিনি। কিন্তু আফসার আলীর ভোগদখলীয় এ জমি অন্যের নামে রয়েছে এরকম ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে এলাকার কতিপয় ভূমিদস্যু। এ জমি নাকি বনবিভাগ কিংবা তাদের এরকমই হুমকি দিয়ে আসছেন ভূমিদস্যূরা। এরই সূত্র ধরে গত সপ্তাহে বনবিভাগের এক কর্মী জমিসংক্রান্ত ত্রুটির অভিযোগ টেনে তিন/চারদিন মাদরাসাটির কাজ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়। এতে কাজ বন্ধ রাখাও হয়। কিন্তু চারদিন না যেতেই কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভাড়াতে গুন্ডা দিয়ে মাদরাসটির নির্মাণ স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।

এলাকার ভূমিদস্যুদের মধ্যে মামলাবাজ হবিবর রহমান (হইবুল) নামের এক ভূমিদস্যুর নাম জানা যায়। স্থাপনা ভাঙ্গার সময় হইবুলকে ঘটনাস্থলে নেতৃত্ব দিতে দেখতে পান বলে জানিয়েছেন কতিপয় নারী প্রত্যক্ষদর্শী। তারা আরও জানান, দুর্বৃত্তকারীরা মাথায় হেলমেট পরে সন্ত্রাসী কায়দায় স্থাপনাগুলো ভেঙ্গে দ্রুত চলে যায়।

এলাকার বেশ কয়েকজন যুবকের উদ্যোগে গত দুই মাস আগে মসজিদ ও কাম হাফেজি মাদরাসা নির্মাণ কাজ শুরু হয়। উদ্যোক্তাদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম জানান, ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যেই হাফেজি মাদরাসার উদ্যোগ নেয়া হয়। এ ভাংচুরে দুই লক্ষ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি হাফেজিয়া মাদরাসা হবে দেখে এলাকাবাসীও বাড়িয়ে দিয়েছেন সহযোগিতার হাত। কিন্তু এভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাদরাসাটির নির্মাণ স্থাপনা সন্ত্রাসী কায়দায় ভেঙ্গে ফেলে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করায় চরম ক্ষুদ্ধ হয়েছেন এলাকার সর্বসাধারণ। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়ার টানটান উত্তেজনা।

এ বিষয়ে রবিবার বিকেলে মাদরাসার জমি দাতা আফসার আলী মাষ্টার জানান, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে এ জমি কিনে ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু এতোদিন তো জমির অধিকার দাবি নিয়ে কেউ আসেনি।

এলাকাবাসীর মধ্যে আকবর আলী জানান, এলাকার কিছু ভূমিদস্যুদের অত্যাচারে আমরা খুব অতিষ্ঠ। তারা আজ যেহেতু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ভাংতে পেরেছে, যেকোন সময় মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদেরকেও বিপদে ফেলতে পারে। এরকমই আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসীও।

এ বিষয়ে সদর ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আনিছুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার সাথে ফরেস্ট অফিসারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, জমিটার কাগজপত্র নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্য কয়েকদিন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। তবে কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই মাদরাসার কার্যক্রম ভেঙ্গে ফেলায় আমিও অবাক হয়েছি।

এ ব্যাপারে মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ জহুরুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে আমরা এখনো এরকম কোন অভিযোগ পাইনি। পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।