হাজারো মানুষের ভালবাসা ও শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়ে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন তরিকুল ইসলাম

এবিএস রনি, যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ হাজার হাজার মানুষের ভালবাসা আর শ্রদ্ধায় ফুলের শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়ে চীর বিদায় নিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামম। সোমবার বাদ আছর যশোর ঈদগাহ মাঠে তৃতীয় বার জানাজার নামাজ শেষে কারবালা কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে সোমবার সকাল ১০টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সোয়া ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজার দ্বিতীয় নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। ৭২ বছর বয়সী এই রাজনীতিকের মৃত্যুতে যশোরে বিভিন্ন মহলে শোক নেমে আসে। গভীর শোক ও শোকাহত স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বিবৃতি দেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের শেষ নামাজে জানাজায় দলমত-নির্বিশেষে মানুষের ঢল নামে। এদের মধ্যে ছিলেন জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনীতিক, পাশাপাশি ছিলেন বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষও। জানাজায় অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে মরহুমের কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে দলটির স্থায়ী কমিটির সনদ্য মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায়, যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য, জেলা পরিষদের প্রশাসক শাহ সাইফুল ইসলাম পিকুল, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার,

ন্যাপের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল হক, জেলা সভাপতি মাস্টার নূরজালাল, জাসদের (ইনু) কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি রবিউল আলম, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ, পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, প্রেস ক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সম্পাদক এস এম তেীহিদুর রহমান, যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব কবির, যুগ্ম সম্পাদক এবিএম আখতারুজ্জামানসহ আরো অনেকে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক অ্যাড. হাজী আনিছুর রহমান মুকুল, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আজম,

নগর বিএনপি নেতা খায়রুল বাশার শাহীন, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মকবুল হোসেন, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এস এম মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক মুন্না, বর্তমান সভাপতি এম তমাল আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক রানাসহ যশোরের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতারা। জাতীয়পার্টি যশোর জেলা শাখার সভাপতি মোঃ শরিফুল ইসলাম সরু চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জহুরুল হক জহির, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর এর সভাপতি শহীদ জয় ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান। যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের (জেইউজে) সভাপতি সাজেদ রহমান,

সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। বিএমএ যশোর জেলা শাখার সভাপতি ডাঃ একেএম কামরুল ইসলাম বেনু, সাধারণ সম্পাদক ডাঃ এম এ বাশার। বাংলাদেশ পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির সভাপতি মামুনুর রশিদ বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক মোর্তজা হোসেন, যশোর জেলা স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সভাপতি এজেডএম সালেক, সাধারণ সম্পাদক শাহীন চৌধুরৗসহ দল মত নির্বিশেষে যশোরের সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। এ সময় সর্বস্তরেরে মানুষ শেষ বারের মত প্রিয় নেতাকে দেখতে ছুটে আসে টাউন হল ময়দানে,এবং ফুলের শুভেচ্ছায় সিক্ত করে চির বিদায় দেন এ নেতাকে। এর পর কারবালা কবরস্থানে এ নেতাকে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয়।

এর আগে সোমবার বেলা আড়াইটায় মরহুমের মরাদেহ বহনকারী হেলিকপ্টারটি যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে উপস্থিত রবিউল ইসলাম আকাশ জানান, তরিকুলের মরদেহ গ্রহণ করতে বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মী জড়ো হয়েছিলেন সেখানে। হেলিকপ্টার থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন জেলা বিএনপি নেতারা। সেখান থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহ নেওয়া হয় তরিকুল ইসলামের ঘোপের বাসভবনে। বেলা তিনটা ৫৫ মিনিটে তরিকুলের মরদেহ শেষবারের মতো আসে তার বাসভবনে।

এসময় কফিনের সঙ্গে ছিলেন বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। পরে মরহুমের মরাদেহ নেওয়া হয় যশোর ঈদগাহ ময়দানে। এর আগে ঢাকা থেকে মরদেহ নিয়ে হেলিকপ্টারে রওনা দেন তরিকুল ইসলামের দুই ছেলে শান্তুনু ইসলাম সুমিত ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ভাতিজা সোহান।
উল্লেখ, রোববার বিকাল ৫টা ৫ মিনিটে রাজধানীর অ্যাপলো হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন তরিকুল। বিএনপি নেতা দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগে ভুগছিলেন।