টেকনাফে স্বামীরা ধানের শীষের মিছিল করায় চার গৃহবধু ও এক ছাত্রী গ্রেফতারের অভিযোগ

জসিম উদ্দীন জিহাদ, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলায় স্বামীরা ধানের শীষের পক্ষে মিছিল করার দায়ে অন্ত:স্বত্ত্বাসহ চার গৃহবধূ এবং এক ছাত্রীকে আটক করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার ২৭ডিসেম্ব রাতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে এসব নারীদের আটক করা হয়। আটক কৃতরা হলেন, হ্নীলা দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি নাসির উদ্দীন রাজের স্ত্রী মুন্নি (তার সাত মাসের সন্তান রয়েছে), ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি জালাল উদ্দীনের স্ত্রী অন্ত:স্বত্ত্বা গোলতাজ বেগম, উপজেলা যুবদলের পশু সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক হেলাল উদ্দীনের স্ত্রী নাঈমা রাহাত, হ্নীলা দক্ষিণ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জহুর আলমের স্ত্রী খতিজা বেগম এবং বেড়াতে আসা ভাগিনী ছাত্রী আফরিনা।

আটককৃতদের পরিারের দাবি, বৃহস্পতিবার ২৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ৭টায় হ্নীলায় ধানের শীষের সমর্থনের একটি মিছিল বের করা হয়। এতে পুলিশ বাধা দিলে নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। তবে রাতে তাদের আটক করতে তাদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালায় পুলিশ। কিন্তু পুলিশ তাদের কাউকে বাড়িতে পায়নি। তাদের না পেয়ে চার নেতার স্ত্রী ও এক ভাগনিকে আটক করে নিয়ে যায়।

এছাড়াও আরো ছয়জন যুবদল নেতাকে আটক করে নিয়ে হয় বলে দাবি করা হয়েছে জেলা বিএনপি।

আটকৃতদের বিরুদ্ধে শুক্রবার ২৮ ডিসেম্বর পুলিশ বাদি হয়ে দু’টি মামলা দায়ের করে। এর একটি পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার মামলা, অন্যটি ইয়াবার মামলা। এর মধ্যে হ্নীলা দক্ষিণ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জহুর আলমের স্ত্রী খতিজা বেগম এবং বেড়াতে আসা ভাগিনী ছাত্রী আফরিনা, হ্নীলা দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি নাসির উদ্দীন রাজের স্ত্রী মুন্নি (তার সাত মাসের সন্তান রয়েছে) ও ছয়জন যুবদল কর্মীসহ ৫৯ জনকে পুলিশ কাজে বাধা দেয়ার মামলায় (নং- ৮৩০/১৮) আসামী করা হয় এবং ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি জালাল উদ্দীনের স্ত্রী গোলতাজ বেগম ও উপজেলা যুবদলের পশু সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক হেলাল উদ্দীনের স্ত্রী নাঈমা রাহাতের বিরুদ্ধে একটি ইয়াবা মামলা (৮২৯/১৮) দায়ের করা হয়।

এই দুই মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন এই আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বিবৃতিতে বলেন, টেকনাফ থানার ওসি একজন আওয়ামী লীগের ক্যাডারের ভূমিকা পালন করছেন। তিনি তফশীল ঘোষণার পর থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গণগ্রেফতার ও বাড়িঘর ভাংচুর করছে। শুধু তাই নয়; নিরীহ নেতাকর্মীদের আটক করে তাদের বিরুদ্ধে ইয়াবা ও অস্ত্র দিয়ে সাজানো মামলার দায়ের করেছেন। এবার ওসি তার জঘণ্য ভূমিকার শেষ নজির সৃষ্টি করেছেন।

স্বামীদের না পেয়ে অন্ত:স্বত্ত্বা স্ত্রী ও দুধের শিশুর মাকে আটক করে মিথ্যা ও সাজানো মামলা দায়ের করে সারাদেশেই জঘন্য নজির স্থাপন করলেন। আমি ওসির এই জঘন্য ভূমিকা ও সাজানো মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। এই অন্যায়ের বিচার আমরা দেশের কোনো প্রশাসনের কাছে পাবো না। তাই জনগণের কাছে এর বিচার দিলাম।

এই ব্যাপারে জানতে চেয়ে টেকনাফ মড়েল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদ্বিপ কুমার দাশের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি তার মোঠোফোন রিসিভ না করায় তার প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।

তবে টেকনাফের এক আ.লীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গৃবধুদের গ্রেফতাদের বিষয়টা ইতিমধ্যে জেলা আ.লীগের নেতাদের জানিয়ছি। এটা খুব লজ্জার এবং দুঃখজনক ঘটনা। তিনি আরো বলেন মাঝে মাঝে টেকনাফ থানার ওসি অতি বাড়াবাড়িতে জড়িয়ে যাচ্ছেন যা আ.লীগের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাড়াবে।