তানোরে যুদ্ধাপরাধীর অর্থে জামায়াত-বিএনপিকে চাঙ্গা

আলিফ হোসাইন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর তানোরে দীর্ঘদিন পরে যুদ্ধপরাধী রাজাকারদের মধ্যে ফের তালিকা ও গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ফের তৃণমূলের যুদ্ধপরাধী ও রাজাকারদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারে বলে তাদের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তানোরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি জামায়াত-বিএনপিকে চাঙ্গা করতে এসব রাজাকারগণ তাদের পিছনে বিপুল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে এসব রাজাকারগণ নিজেদের নিরাপদ রাখতে আওয়ামী লীগ যেনো কোনো ভাবেই বিজয়ী হতে না পারে সেই জন্য বিএনপি-জামায়াতের প্রচার-প্রচারণায় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। এসব রাজাকারদের মধ্যে অন্যতম হলো তানোর পৌর এলাকার ধান তৈড়গ্রামের বাসিন্দা ও প্রসিদ্ধ কীটনাশক ব্যবসায়ী তিনি ইতি মধ্যে তানোর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও তানোর পৌর মেয়রকে প্রচার-প্রচারণার জন্য বিপুল অঙ্কের টাকা দিয়েছেন বলে সাধারণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।

তানোরে জামায়াত-বিএনপির রাজনীতিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন। ইতিমধ্যে রাজাকারদের তালিকা প্রণয়ন করতে নতুন পরিকল্পনা ও কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাবলে মানুষের মূখে মূখে এমন খবর প্রচার হচ্ছে। এ খবর প্রচারের পর থেকেই এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি এলেও চরম অস্বস্থিতে রয়েছেন যুদ্ধপরাধী রাজাকারগণ। এসব রাজাকার এবং যুদ্ধপরাধীদের অধিকাংশ বিএনপি ও জামায়াত মতাদর্শী বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় অসমর্থিত একাধিক সুত্রগুলো বলছে, দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার এবারের তালিকায় সমাজের প্রভাবশালী যুদ্ধপরাধী রাজাকার যারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষের উপর অকথ্য নির্যাতন ও তাদের অর্থ সম্পদ লুটপাট এবং অসংখ্য মানুষকে জিম্মি করে তাদের সহায়-সম্পদ লুটপাট করে যারা রাতারাতি অগাধ ধনসম্পত্তির মালিক পৈতৃক ভিটেবাড়ি দখল ও নারীর সম্ভ্রম হানীসহ নানা অপরাধ করেছে তাদের নাম অর্ন্তভুক্ত করা হচ্ছে।

যুদ্ধপরাধী এসব রাজাকারের দেশ বিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ডের কারণে তানোরে নিঃস্ব হয়েছে অনেক পরিবার অনেকে ছেড়েছে পৈতৃক ভিটেমাটি। দেশ স্বাধীনের পর ওই সবমানুষ তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে দেশে ফিরে আসলেও ফিরে পায়নি তাদের রেখে যাওয়া ধন-সম্পদ ও পৈতৃক ভিটেমাটি এসব যুদ্ধপরাধীরা দখল করে নিয়েছে। আইনগত দুর্বলতা ও সরকারের সদ ইচ্ছার অভাবে এতদিন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। মহাজোট সরকার গঠনের পর এসব যুদ্ধপরাধীদের বিচারের দাবীতে নামবে। নামে প্রচুর দরখাস্ত জমা পড়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন দপ্তরে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক রাজাকার দেশ স্বাধীনের পর তাদের খোলস পাল্টিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যোগদান করে রাতারাতি ওই সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী হয়ে গেছেন। অভিযুক্ত এসব রাজাকারদের সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাকর্মীর। যে কারণে তানোরের যুদ্ধপরাধীদের দাপট এতই বেশী তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ মূখ খুলে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। এদের অনেক সমাজের মাথা মুরুব্বি হয়ে আছেন। বিগত নির্বাচনে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আশার পর এখানকার আপামর জনসাধারণ রাজাকারদের বিচারের দাবীতে ক্রমেই সোচ্চার হয়ে উঠে।

তানোরের রাজাকার অধ্যুাষিতগ্রাম বলে পরিচিত ধানতৈড় গ্রামের বাসিন্দা এসব রাজাকার প্রতি মাসে নিয়মিত ভাবে বিভিন্ন স্থানে আর্থিক সুবিধা দিয়ে ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছেন বলে এলাকায় প্রচার আছে।

এদিকে ধানতৈড় গ্রামের বাসিন্দারা সরেজমিন অনুসন্ধান করে এসব রাজাকারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারি সংস্থার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গুলো স্বপ্রণোদিত হয়ে এসব যুদ্ধপরাধীদের বিচারে এগিয়ে আশার দাবি জানান।

অভিযোগ উঠেছে, যুদ্ধপরাধী ও রাজাকারগণ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি চাঙ্গা রাখতে বিভিন্ন সময় আর্থিক সয়াহতা দিয়েছে এবং এখনও দিচ্ছে। তাঁরা চেষ্টা করছে আগামীতে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি যেন রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় আসতে না পারে এমন খবরের প্রচার রয়েছে।

এ ব্যাপারে তানোর থানা ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম বলেন, দেশের যেকোনো নাগরিক ইচ্ছে করলে যুদ্ধপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। আর কারো বিরুদ্ধে এমন লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করাহবে।