তাহিরপুরে ২হাজার টন পাথর ও ৫০টন কয়লাসহ মাদকদ্রব্য পাচাঁর, ৪টন জব্দ

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেনা বিজিবি। কারণ একাধিক মামলার আসামীরা নিজেদেরকে বিজিবি ও পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে বিজিবির সামনে দিয়ে ভারত থেকে ওপেন ইয়াবা,মদ,গাঁজা,হেরুইন,কয়লা,পাথর,গরু,ঘোড়া ও অস্ত্র পাচাঁর করার পর নামে-বেনামে করছে চাঁদাবাজি।

এলাকাবাসী জানায়,আজ ০১.১২.১৮ইং শনিবার ভোর ৪টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত উপজেলার বালিয়াঘাট সীমান্তের ১১৯৬ ও ১১৯৭নং পিলার সংলগ্ন লালঘাট ও লাকমা এলাকা দিয়ে চোরাচালানী কালাম মিয়া,জানু মিয়া,জিয়াউর রহমান জিয়া,আব্দুল হাকিম ভান্ডারী,ইদ্রিস আলী,কাসেম মিয়া,এহসান মিয়া,মানিক মিয়া,খোকন মিয়া,তানঞ্জু মিয়া,রহমত আলী ও বাবুল মিয়াগং ভারত থেকে ২০মে.টন কয়লা,২হাজার পিছ ইয়াবা ও ২০কার্টন অফিসার চয়েজ মদ পাচাঁর করে চুনখলার হাওরে নৌকা বোঝাই করে ওপেন নিয়ে যায়। আর ৪মে.টন(৬৩ বস্তা) কয়লা আটক করে বিজিবি।

অপরদিকে টেকেরঘাট সীমান্তের ১১৯৮নং পিলার সংলগ্ন টেকেরঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছন দিয়ে ল্যাংড়া বাবুল,বদিউজ্জামাল, দূরবীনশাহ,আবুল মিয়া,মংলা মিয়াগং ৩০মে.টন কয়লা ও ৮৫০পিছ ইয়াবা পাচাঁর করে বড়ছড়া শুল্কষ্টেশনসহ পুটিয়া,বিন্দারবন্দ ও বালিয়াঘাট,তেলিগাঁও,দুধেরআউটা,বানিয়াগাঁও,বৈঠাখালী নিয়ে মজুত করে। এছাড়া লাকমাছড়া ও টেকেরঘাটছড়া দিয়ে চোরাচালানী জহির মিয়া,মোক্তার মিয়া, হাছান আলী,তিতু মিয়াগং ভারতে ভিতরে থেকে ২হাজার মে.টন চুনাপাথর ও বল্ডার পাথর ৪৫টি ট্রলি দিয়ে পাচাঁরে করে ১০টি স্টিলবডি ইঞ্জিনের নৌকা বোঝাই করে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের সামনে অবস্থিত পাটলাই নদী দিয়ে নিয়ে যায়। সরকার লক্ষলক্ষ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হলেও ভারত থেকে ১ট্রলি পাথর পাচাঁরের জন্য টেকেরঘাট কোম্পানী কমান্ডার আনিসুল হক ও হাবিলদার মাসুদের নামে ১৫০টাকা,১ বস্তা কয়লা থেকে ১২০টাকা ও বালিয়াঘাট ক্যাম্প কমান্ডার দিলোয়ার ও হাবিলদার হুমায়ুনের নামে একই হারে চাঁদা নেওয়াসহ থানার নামে ১ট্রলি পাথর থেকে ৮০টাকা,১বস্তা কয়লা থেকে ৫০টাকা করে চাঁদা নিচ্ছে বালিয়াঘাট ও টেকেরঘাট ক্যাম্পের বিজিবি সোর্স কয়লা,মাদক ও চাঁদাবাজি মামলার আসামী কালাম মিয়া,জিয়াউর রহমান জিয়া,ইদ্রিসআলী,আব্দুল হাকিম ভান্ডারী ও ইসাক মিয়াসহ থানার সোর্স অস্ত্র মামলার আসামী ইয়াবা ব্যবসায়ী ল্যাংড়া বাবুল।

এব্যাপারে সোর্স ল্যাংড়া বাবুল ও কালাম মিয়া বলেন,আমরা হলাম বিজিবি ও পুলিশের সোর্স,পত্রিকায় লেখালেখি করে কোন লাভ হবেনা, তাছাড়া সব মালামাল এলাকা ছাড়া হয়েগেছে কোন প্রমান নাই। টেকেরঘাট বিজিবি কোম্পানী কমান্ডার আনিসুল হক বলেন,আমার পক্ষে চোরাচালান বন্ধ করা সম্ভব না,এব্যাপারে আমার কিছু বলার নাই। সুনামগঞ্জ ২৮ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক মাকসুদুর রহমান বলেন,সীমান্ত এলাকায় বিজিবি কোন সোর্স নাই,চোরাচালান বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।