বগুড়ায় আ’লীগ-বিএনপি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া: ব্যাপক সংঘর্ষ

খালিদ হাসান, বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সোনাতলায় আ’লীগ ও বিএনপি কর্মীদের ব্যাপক সংর্ঘষ হয়েছে। পুলিশ ও বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেছে। এসময় কমপক্ষে ১৫ টি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয় এবং আওয়ামী লীগ অফিস ছাড়াও ৬টি দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংর্ঘষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় চড়পাড়া ও পাকুল্যা বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংর্ঘষ চলে।

জানা গেছে, বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা কর্মসুচি ঘোষণা করেন। প্রতিপক্ষ নৌকা মার্কার কর্মী সমর্থকরা ধানের শীষের প্রার্থীকে প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়। বৃহস্পতিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই এনিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। নৌকা মার্কার কর্মী সমর্থকরা বগুড়া থেকে সোনাতলা যাওয়ার পথে বিভিন্ন পয়েন্টে অব্স্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশও সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়।

ধানের শীষের প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বেলা ১১টার দিকে বগুড়া শহর থেকে বিএনপি ও যুবদলের তিনশতাধিক নেতাকর্মী সাথে নিয়ে বগুড়া শহর থেকে সোনাতলার উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। পথে গাবতলী থানা পুলিশ কাজী রফিকুলের মোটরসাইকেল বহরে থাকা কর্মী সমর্থকদেরকে গাবতলী থানা এলাকার সুখানপুকুর এলাকায় আটকে দেয়। এঅবস্থায় কাজী রফিক অল্প সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে সোনাতলার উদ্দেশ্যে রওনা হলে সোনাতলা উপজেলা সৈয়দ আহম্মেদ কলেজ বটতলা এলাকায় নৌকা মার্কার কর্মী সমর্থক কাজী রফিকের গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং গাড়ি বহরে থাকা ২টি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। পরে পুলিশ কাজী রফিককে বিকল্প পথে সোনাতলা যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। এদিকে ২টি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়ার খবর পেয়ে সুখান পুকুরে আটকে থাকা কাজী রফিকের তিন শতাধিক কর্মী সমর্থক পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সোনাতলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। মোটরসাইকেল বহর চড়পাড়া বাজারে পৌছালে নৌকার কর্মী সমর্থকরা হামলা করে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ব্যাপক সংর্ঘষ। সংর্ঘষ চলাকালে ধানের শীষের শত-শত নারী পুরুষ লাঠি শোটা হাতে নিয়ে সংর্ঘষে লিপ্ত হয়।

এ সময় ধানের শীষের নেতাকর্মীর সংখ্যা অনেক বেশী হওয়ায় নৌকার কর্মী সমর্থকরা কোনঠাসা হয়ে পড়ে। ধানের শীষের নেতাকর্মীরা চড়পাড়া বাজারে আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর করে। ভাঙচুরে ধানের শীষের পক্ষে নারী কর্মীদেরকেও অংশ নিতে দেখা যায়। সংর্ঘষ চলাকালে অসংখ্য ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। কমপক্ষে ১৫টি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। চড়পাড়া বাজারে ৬টি দোকান ভাঙচুর করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌছে টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে বেলা তিনটার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংর্ঘষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা কমেন্ট মিয়া (৪৫) ও রফিকুল ইসলাম(৪০), ইউনুছ আলী(৪০) পুলিশের রাবার বুলেটের আঘাতে আহত হয়েছেন বলে জানাগেছে।

ধানের শীষের প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম বার্তা ২৪.কমকে বলেন, বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে সোনাতলা থানার ওসি ও ইউএনওকে জানানো হয়েছে বৃহস্পতিবারের কর্মসুচি ব্যাপারে। নৌকা মার্কার কর্মী সমর্থকরা এলাকায় যেতে দিবে না মর্মে আগে থেকেই প্রচার করে আসছিল। একারনে পুলিশকে জানানো হয়েছিল বিষয়টি। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতিইে নৌকা মার্কার কর্মী সমর্থকরা হামলা চালায় এবং মটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এব্যপারে সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম ফোন রিসিভ করে জানান তিনি রাজশাহীতে মিটিংএ আছেন।