বরিশাল-১ আসনে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এম.পি- আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র বিকল্প নেই

মোঃ ইদ্রিস খান, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ বরিশাল আসন-১ গৌরনদী- আগৈলঝাড়ায় একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গতকাল রাতে নগরবাড়ী সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অরুন বাড়ৈ’র সভাপতিত্বে আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে (বুধার) এর উঠান বৈঠকে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিষ্ট অজয় দাস গুপ্ত বলেন বরিশাল-১ আসনের উন্নায়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে নৌকায় মার্কায় ভোট দিন।

বিগত দিনে গৌরনদী- আগৈলঝাড়ায় ১৯৯১ সালে প্রথম এমপি হন। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ থাকা কালীন সময়ে গৌরনদী- আগৈলঝাড়ায় সাড়ে ৮’শ কোটি টাকার ব্যপক উন্নয়ন করেছিলেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। ২০১৪ সালে নির্বাচিত হয়ে স্থাণীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের চেয়াম্যান হয়ে এলাকায় বিশেষ বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। শুধু গৌরনদী আগৈলঝাড়ার উন্নায়ন করেননি তিনি দক্ষিনবঙ্গের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ভাই খ্যাত বর্তমান সংসদ সদস্য, ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা বৃহত্তর বরিশালের মুজিব বাহিনীর প্রধান, পার্বত্য শান্তি চুক্তির রূপকার, জাতীয় সংসদের সাবেক চীফ হুইপ, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপিত আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ।

তিনি জাতির জনকের ভাগ্নে ও সাবেক মন্ত্রী, কৃষক কুলের নয়নমনি এবং বৃহত্তর বরিশালের উন্নায়ন পরিকল্পনার রূপকার শহীদ অবদুর রব সেরনিয়াবাত এর পুত্র। তার রেখে যাওয়া স্মৃতিবিজড়িত উন্নায়ন পরিকল্পনা এবং চিন্তা চেতনা বাস্তবায়নের যোগ্য উত্তসূরী ও দক্ষিণ বাংলার অন্যতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জনগনের আশির্বাদপুষ্ট এই রাজনীতিবিদ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে পিতা অবদুর রব সেরনিয়াবাতসহ ভাই-বোন আত্মীয়-স্বজন ও পুত্র শুকান্ত বাবুকে ঘাতকরা নৃশংসভাবে হত্যা করে। সেই হৃদয় বিদায়ক দৃশ্য প্রত্যক্ষ ভাবে অবোলকন করে দিশেহারা হয়ে অলৌকিকভাবে বেচে গিয়ে অজানা পরিমন্ডলের অভিযাত্রী হন তিনি। অনেক ভয়-ভীতি, শোক বিহবল অবুঝ হৃদয়কে দোলা দিতে থাকে সর্বক্ষন। পিতা-পুত্র, মামা-মামী, বোন-ভগ্নিপতি সব হারিয়ে রিক্ত-নিঃস্ব হয়ে পরেন।

এঅবস্থায় অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে সংগ্রামের মধ্যে লক্ষ জনতার অফুরান্ত হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা ও হৃদয় এর পরশে, মাটির টানে, রক্তের বন্ধনে সকল ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে ফিরে আসেন জনাতার মাঝে আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। এর পর থেকে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তিনি রয়েছেন রাজপথে। ১৯৯০ সালের স্বেরাচারী সরকারে পতনের পর ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বচনে বরিশাল-১ আসন থেকে এমপি হন। ১৯৯৬সালে অনেক আন্দোলন সংগ্রামের পর দেশের ক্রান্তিলগ্নে আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় আসে। জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রধান মন্ত্রী হন। আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ্ধসঢ়; পূনরায় নির্বাচিত হয়ে আওয়ামিলীগ সরকারের চীফ হুইপ হন। স্বাধীনতা বিরোধীদের মদদে অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নষ্ট করার লক্ষে পার্বত্য চট্রগ্রামের দুর্গম পাহাড়িদের উচকে দেয়। এর পর শুরু হয় সন্ত্রাসীদের আনাগোনা ও ভয়ঙ্কর তান্ডব। এই ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্তের কারনে পাহাড়ী বাঙালীদের ভূল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। ফলে বিনষ্ট হয় উভয় পক্ষের ঘড়বাড়ী ও জানমালের। সেটি রূপ নেয় সংঘাতের এবং ক্ষতিগ্রস্থ হয় পার্বত্য অঞ্চলের কর্মরত হাজার হাজার সামরিক ও বেসামরিক নিরহ মানুষের।

জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর তনয়া প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হুমকীর মুখে দেখে এই জটিল ও কঠিন সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নেন। এই জটিল সমস্য সমাধানের জন্য আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র উপর গুরুদায়িত্ব অর্পন করেন। তিনি দক্ষতার সাথে অকল্পনীয় ভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করে পার্বত্য শান্তি চুক্তির মাধ্যমে ১৪ হাজার কিলোমিটার বিধ্বস্ত সবুজ শ্যামল পাহার ও অফুরান্ত লীলাভূমি আমাদের প্রানপ্রিয় মাতৃভূমি পার্বত্য অঞ্চল পুর্ণ উদ্ধার করেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকান্ডের পর পার্বত্য চট্টগ্রামে এক রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। এই সংঘাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ বহু লোক হতাহত হয়। হাজার হাজার উপজাতি জনগোষ্ঠী পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে উদ্বাস্তু হয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ছিল এক অশান্ত জনপদ। ১৯৭৫ পরবর্তী ১৯৯৬ পর্যন্ত সরকারগুলো তাদের ভ্রান্তনীতির কারণে এবং আন্তরিকতার অভাবে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেনি। ১৯৯৬ সালে জনগণের ভোটে আওয়ামীলীগ নির্বাচিত হয়ে এই সংঘাত নিরসনে মনোযোগ দেয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাথে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর ফলে প্রায় সুদীর্ঘ ২২ বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে বয়ে চলে শাস্তির সুবাতাস। এ জন্য এই চুক্তি শান্তি চুক্তি নামে সর্বাধিক পরিচিত। শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ্ধসঢ়; এবং শান্তি বাহিনীর পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা সন্তু লারমা।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার চুক্তির শর্তসমূহ বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখায়নি। ফলে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন স্থিমিত হয়ে পড়ে। ২০০১ সালে আগৈলঝাড়ায় সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়েছে। এ এলাকার মানুষ রামশীলে আশ্রয় নিয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোটকে ভোট দিলে পূর্ণরায় আবার দেশে সংখ্যালঘু নির্যতন হবে। এরপর ২০০৯ সালে পূণরায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শান্তি চুক্তির অবাস্তবায়িত ধারাসমূহ বাস্তবায়ন এবং পার্বত্য এলাকার সর্বস্থরের জনগণের উন্নয়নে নানামুখী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি হিসেবে খাগড়াছড়ি জেলায় ৩০টি বিভাগ, রাঙ্গামাটি জেলায় ৩০টি এবং বান্দরবান জেলায় ২৮টি জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার যথাযথভাবে পার্বত্যবাসী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণকে সাংবিধানিক ভাবে স্বীকৃতি দেয়।

ভারত প্রত্যাগত ১২ হাজার ২২৩টি উপজাতীয় শরণার্থী পরিবারের ৬৪ হাজার সদস্যকে ইতোমধ্যেই পুনর্বাসিত করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। ২০ বছর পূর্বে যারা চাকরির স্থান ত্যাগ করেছিল তাদের পুনরায় চাকরিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগের শর্ত শিথিল করে তাদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়। শান্তি চুক্তির পর বিভিন্ন ধরনের ১৭৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। সম্প্রতি রাঙ্গামাটিতে একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও রাঙ্গামাটিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। পার্বত্য শান্তি চুক্তি এই মহান নেতা আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর কাছে দেশের জন্য অবিস্মরণীয় অবদান শান্তি চুক্তি ২১ অতিবাহিত হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট এই চুক্তি বিরোধীতা করেছিল। যেদিন চুক্তি স্বাক্ষর হয় সেদিন তিন পার্বত্য জেলায় তারা হরতাল ডেকেছিল যাতে চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব না হয়। বিএনপি নেত্রী তখন বলেছিল এই চুক্তি স্বাক্ষর হলে ফেনী পর্যন্ত দেশ ভারতের দখলে চলে যাবে। তিনি আরও বলেন, পার্বত্য সমস্যাকে আমরা রাজনৈতিকভাবে সমাধানের করেছি।

পৃথিবীর অন্য যে কোন দেশে এধরনের সমস্যা সমাধানে অন্য কোন দেশকে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে নিয়োগ করে থাকে। কিন্তু আমরা কোন তৃতীয় পক্ষ নিয়োগ না করেই সমস্যার সমাধান করেছি। কারণ আমরা মনে করি এটি আমাদের ভূখন্ডের সমস্যা এখানকার মানুষগুলো আমাদের এবং তাদের সমস্যাও আমাদেরই, সমাধান আমাদেরকেই করতে হবে এই ভেবেই শান্তিচুক্তি করেছিলেন। পার্বত্যাঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ, সৌন্দর্য ও বৈচিত্যময় জীবনধারাকে বজায় রেখে এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে পার্বত্য পর্যটন শিল্প বিকাশের ধারাকে অব্যাহত রাখার সকল প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে সরকার।

এছাড়াও, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে দেশি এবং বিদেশি এনজিওসমূহের কার্যক্রম, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পার্বত্যাঞ্চলে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ, ভারত ও মায়ানমারের সাথে যোগাযোগ সড়ক, অরক্ষিত সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা বিধান, অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার, পার্বত্যাঞ্চলে মোতায়নরত সেনাবাহিনীকে ছয়টি স্থায়ী সেনানিবাসে প্রত্যাবর্তন, সামাজিক উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। শান্তি চুক্তির পর থেকে সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলে শান্তির সুবাতাম বইতে শুরু করেছে। এই কৃতিত্বের আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র কাছে জাতি চীরঋণী। দক্ষিন বাংলার উন্নায়নের দিকপাল হিসাবে আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর রাজনৈতিক পদমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হউক সাংগঠনিক ভাবে এটাই আমাদের সকলের কাম্য। তার রাজনৈতিক দুরদর্শিতা. সততা. নিষ্ঠা এবং উন্নয়নের কর্মকান্ড এই এলাকার মানুষের গর্ব করার মত।

১৯৭৫ সালে স্বজন হারানোর বেদনা এখনো তাকে অশ্রুশিক্ত করে। তার পরেও বেচে আছেন ৩ পুত্র ১কন্যা ও দক্ষিন বাংলার লক্ষ কোটি মানুষের ভালবাসা নিয়ে। তাই আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে পুর্ণরায় নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এ আসনে আগামী নির্বাচনে আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র কোন বিকল্প নেই বলে বক্তারা বলেন। নির্বাচনি উঠান বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত, উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মত্যুর্জা খান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির হোসেন সেরনিয়াবাত, জাতীয় শ্রমিক লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিন এর সাধারন সম্পাদক আহসান হাবিব মোল্লা, উপজেলা আওয়ামিলীগের সমন্বায়ক আবু সালেহ লিটন সেরনিয়াবাত, আওয়ামিলীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন মোল্লা, গৈলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম টিটু, যুবলীগ সাধারন সম্পাদক অনিমেষ মন্ডল,ছাত্রলীগ সভাপতি মিন্টু সেরনিয়াবাত, গৈলা ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ড মেম্বর মশিউর রহমান সরদার প্রমূখ।