বাগমারার নির্বাচনী হালচাল এনামুলের শুক্র তুঙ্গে, শনির দশায় আবু হেনা

আসাদুজ্জামান, বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে ঘিরে সারা দেশের ন্যায় রাজশাহীর বাগমারা আসনেও বয়ছে নির্বাচনী ঝড়ো হাওয়া। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই উত্তাপ ছড়াচ্ছে। জমে উঠেছে জম জমাট প্রচারনা। এই আসনে তিন জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও মূলত নৌকা আর ধানেরশীষের প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসন জুড়ে কেবল উঠেছে নৌকার সুর। বিগত দশ বছরের আ’লীগ সরকারের আমলে রক্তাক্ত বাগমারার দূর্নাম থেকে মুক্ত হয়ে শান্তির বাগমারায় পরিণীত এবং রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুৎ, ব্রীজ-কালভাটসহ সর্বপুরি উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফলে জনমনে উঠেছে নৌকার বিজয়ের সুর। নৌকার পক্ষে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করে গণসংযোগ করছেন এই আসনের মহাজোট সমর্থিত আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিঃ এনামুল হক। প্রচারনা শুরুর পর থেকেই দিনরাত ছুটে চলেছেন উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে।

ইঞ্জিঃ এনামুল হকের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এক কাতারে দাঁড়িয়েছে বাগমারার সর্বস্তরের নেতা-কর্মী। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকল ভেদাভেদ ভুলে নৌকার প্রার্থী এনামুল হককে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে দলীয় বিরোধের জের থেকে বিভক্ত হয়ে পড়া উপজেলা আ’লীগের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সেই সাথে বাগমারাকে বিএনপি-জামায়াতের কবল থেকে বাঁচাতে, উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে এবং নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে তাঁরা নিয়েছেন শপথ। মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী ইঞ্জিঃ এনামুল হকসহ অন্যান্য নেতা- কর্মীরা

নৌকার পক্ষে ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট প্রার্থনা আর গণসংযোগের সময় তুলে ধরছেন বিএনপি প্রার্থী আবু হেনার কুকর্মের ফিরিস্তি। তাঁদের দাবি, ২০০৮ সালের পূর্বে বিএনপি সরকারের সময়ে বাগমারা ছিল রক্তাক্ত জনপদ। সৃষ্টি করেছেন বাংলা বাহিনী, লালন-পালন করেছেন সর্বহারা আর সন্ত্রাসীদের। তৎকালীন সময়ের সংসদ সদস্য আবু হেনাই সেই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। আবু হেনার কারনে হত্যাকান্ডের শিকার হতে হয়েছে জনপ্রতিনিধি সহ অনেক মানুষকে। একটি বারও এর প্রতিবাদ করেননি তিনি। অপর দিকে বিএনপি তথা ঐক্যফন্টের মনোনীত প্রার্থী দুই দুবারের এই আসনের সাংসদ আবু হেনা দলীয় মনোনয়ন পেলেও নির্বাচনী এলাকায় তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি তিনি। শুরু থেকেই পড়েছেন কর্মী সংকটের মধ্যে। দীর্ঘ দিন থেকে দল ক্ষমতার বাহিরে থাকা, মনোনয়ন আর অন্তর দন্দ্বের কারণে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ায় নির্বাচনী প্রচারণায় পড়েছে চরম বিপদে।

এলাকা থেকে দীর্ঘ দিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণের মাঝে জনপ্রিয়তা না থাকায় ভোটের মাঠে ভালো ভাবে মিছিল, মিটিং কিংবা পথসভাও করতে পারছেন না। প্রায় সবখানেই প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন। এই আসনের সাংসদ মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী ইঞ্জিঃ এনামুল হক তাঁর বিরুদ্ধে থাকা উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু, তাহেরপুর পৌর মেয়র আবুল কালাম, ইউপি চেয়ারম্যান মুকবুল মৃধা, আকবর আলী, আলমগীর, মোস্তফা কামালসহ উপজেলা আ’লীগের সকল পর্যায়ের নেতা-কমীকে এককাতারে এনে চালাচ্ছেন জোর প্রচারনা। ছুটে চলেছেন উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে।

আর বিএনপি প্রার্থী আবু হেনা প্রচারণার চিত্র একেবারেই ভিন্ন। বাগমারা আসনের মনোনয়ন পেলেও রাজশাহী শহরে থেকে চালাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণা। এ নিয়ে বিএনপি সমর্থক সহ উপজেলার অন্যান্য ভোটারেরাও চরম হতাশ। তারা অভিযোগ করেন যে তার দলের নির্বাচনী পোস্টার লাগাতেই দিচ্ছে না আওয়ামীলীগ। গায়েবী মামলা, ধোরপাকর সহ নানা অভিযোগ রয়েছে তাদের। তারা আরো বলেন নির্বাচনী লেভেল প্রেইং ফিল্ড নাই। শত অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না। বর্তমানে বাগমারাই এভাবেই চলছে প্রচারনা।