মোট বেতনের ১৬% কর্তন জিলবাংলা সুগার মিলে শ্রমিকদের মাঝে চরম অসন্তোষ

সাহিদুর রহমান, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে জিল বাংলা সুগার মিলে শ্রম আইন লঙ্ঘন করে মিল কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের মাসিক মোট বেতনের শতকরা ১৬ টাকা কর্তন করায় মিলের শ্রমিকদের মাঝে চরম অসন্তোষ ও টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শ্রমিকরা বেতন কমের প্রতিবাদ করায় চাকরি থেকে বদলি ও বরখাস্তসহ নানা ভাবে হয়রানি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে মিল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। জানা যায়, এ মিলে স্থায়ী ও অস্থায়ী মৌসুমী শ্রমিকসহ মোট প্রায় এক হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তা রয়েছে। নিয়মানুযায়ী এসব শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করার কথা থাকেলও মিল কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের বকেয়া বেতনভাতা নগদ ক্যাশে শতকরা ১৬টাকা কর্তন করে বেতন ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

এতে শ্রমিকদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এতে মিল ব্যাবস্থাপনার সঙ্গে শ্রমিক কর্মচারিদের মধ্যে যে কোন মুহুর্তে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কার করছেন স্থানীয় সুধীমহল। জিলবাংলা চিনি কলে বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গেলে সাবেক শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম বাচ্চু জানান,“পূর্নাঙ্গ বেতন উঠানো পেমেন্ট সিটে আমাদের সই নেওয়া হয় কিন্তু মোট বেতনের শতকরা ১৬ পারসেন্ট কমের আরেকটা সীট দেখিয়ে আমাদের বেতন দেওয়া হচ্ছে”।

ওয়ার্কশপ শ্রমিক রায়হান জানান, অফিস অর্ডারে বলা হয়েছে, ব্যাংক একাউন্ট না থাকলে আপনাদের কারো বেতন দেওয়া হবে না, সেজন্যই আমরা ১৫শ টাকা খরচ করে ব্যাংক একাউন্ট খুলি। আমাদের একাউন্টে বেতন না দিয়ে নগদ ক্যাশে ১৬ পারসেন্ট কম দিয়ে বেতন দিচ্ছে। শ্রমিক আব্দুল ছাত্তার জানান, আমার পরিবারের সদস্যর সংখ্যা ৫-৭ জন। আমার আয়ের উপরে সংসার চলে। কিন্তু দুঃখের বিষয় তিন-চার মাস পর পর এক মাসের বেতন পাই, তার পরেও ১শ টাকার মধ্যে ১৬ টাকা কম দিচ্ছে মিল কর্তৃপক্ষ। আমি বাধ্য হয়ে টাকা কম নিচ্ছি কারণ আমার অভাবের সংসার।

কর্মরত শ্রমিক বদিউজ্জামান, সোলমান কবির, রায়হান ও রুহুল আমিন বাচ্চু মিয়াসহ অনেকেই জানান কেউ কেউ অভাবের তাড়নায় ১৬% লেস দিয়ে বাধ্য হচ্ছে বেতন নিতে। আর আমরা বেতন না নিয়ে এর প্রতিবাদ করে এর কারণ জানতে চাইলে স্যার আমাদের কোন সদুত্তর না দিয়ে চাকরী থেকে অনত্র বদলি ও বরখাস্তের হুমকি দিয়েছে।

এ বিষয়ে জিলবাংলা সুগার মিলের মহাব্যবস্থাপক(অর্থ) এর কাছে জানাতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বেতন সম্পর্কে কোন কথা বলতে পারবনা যা বলার এমডি স্যারকে বলেন”। জিলবাংলা সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক(এমডি) এ এসএম মুতিউল্লাহ “১৬% কর্তনের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, মিলের আর্থিক সংকট ও জটিলতার কারনে ব্যাংক হিসাব নম্বরে বেতনভাতা প্রদান না করে নদগ ক্যাশে পরিশোধ করা হচ্ছে”।