সিলেটে লন্ডনী কইন্যা নিয়ে টানাটানি কাজীসহ ৮জনের বিরুদ্ধে মামলা

আবুল হোসেন, সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলেটে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে পরস্ত্রী লন্ডনী কাইন্যা বাগিয়ে নেয়ার চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় একজন নিকাহ রেজিষ্ট্রার কাজী-সহ ৮জনকে আসামী করে আদালতে মামলা হয়েছে। পাশপাশি নারীলোভী এ প্রতারক চক্রকে গ্রেফতারের জোর দাবি জানানো হয়েছে। সম্প্রতি সিলেটে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ দাবি জানানো হয়। জানা গেছে, গত বছরের ২৫ জুলাই সুনামগঞ্জের ছাতক নয়ারাজারগাঁওয়ের মিয়াজান যুক্তরাজ্য প্রবাসী কন্যা ফাতেমা বেগম রুনির বিয়ে হয়।

নগদ ৩ লাখ টাকার পরিশোধের মাধ্যমে ৬লাখ টাকা দেন-মোহরানায় ফাতেমাকে বিয়ে ওকরেন সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার গহরপুর সুলতানপরের মরহুম চান মিয়ার পুত্র ছালেহ আহমদ। বিয়ের স্বামী-স্ত্রীর সংসার ভালই চলছিল। কিন্তু এ সংসারে বাধ সাধেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিশচা) সিলেট-এর সাধারণ সম্পাদক পরিচয়দানকারী শাহ লোকমান। শাহ লোকমান।

অলী (৩৪)সিলেট নগরীর সুবিদবাজহার এরাকাধীঢন লন্ডনী রোডেস্থ অগ্রণী ১২০ –শাহী ভিলার শাহ আহমদ আলীর পুত্র ও নিরাপদ সড়ক চাই নিশচা সিলেট-এর সাধারণ সম্পাদক। ‘লম্পট ও নারীলোভী’ শাহ লোকমানের কু-নজর পড়ে ছালেহ আহমদের স্ত্রী লন্ডনী কইন্যা ফাতেমা বেগম রুনির উপর।

শাহ লোকমান আলী ও তার সহযোগীরা নানা জালিয়াতির মাধ্যমে ছালেহ আহমদ ও ফাতেমা’র বিয়ের কাবিনের একস্থানে ‘নাই’ শব্ধের স্থলে ‘হ্যা’ লিখে একটি নিকাহনামার একটি ভ’য়া নকল ও এ ই নকল মূলে গত ১০অক্টোবর একটি তালাকনামা সৃষ্টি করে। পরে তাদের সৃজিত ওই কাবিনামা মূলে গত ১২ অক্টোবর শাহ লোকমান আলীর নামে ছালেহ আমদের স্ত্রী লন্ডনী কইন্যা ফাতেমা বেগম রুনির আরেকটি নিকাহনামা সৃজন করে। নতুনভাবে সৃজিত এই কাবিননামা মূলে লন্ডনী কইন্যা ফাতেমা বেগম রুনিকে নিজ স্ত্রী বলে দাবি করছেন নিশচা সেক্রেটারী শাহ লোকমান আলী। তার এ দাবির বিরীতেই দায়ের করা হয় এ মামলা।

অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, এ বছরের ১লা জুলাই লন্ধসঢ়;রনডনী কইন্যা ফাতেমা বেগম রুনি যুক্তরাজ্যেই অবস্থান করছিলেন। এ অবস্থায় তিনি কিভাবে যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনকে পাশ কাটিয়ে বাংলাশের ডাকযোগে ছালেহ আহমদেও নামে তালাকনামার নোটিশ প্রেরন করলেন। নোটিশ প্রেরণ পরবতী ফাতেমা বেগম বাংলাদেশে এস গত ১৪ অক্টোবর পর্র্যন্ত স্বামী ছালেহ আহমদের ঘরে ও বিছান্ধাসঢ়;য়ই অবস্থান করছিলেন এবং ১৪ অক্টোবরই স্বামী ছালেহ আহমদ নিজ স্ত্রী ফাতেমা বেগম রনিকে ইংল্যন্ডের পথে বিমানে উঠিয়ে বিদায় জানান।

এ অবস্থায় ফাতেমা বেগম রুনির বাংলাদেশ থেকে ছালেহ আমদের প্রতি তালাকের নোটিশ প্রেরন, তালাকনামা ও নিকাহনামাকে সম্পর্ন প্রতারনা ও জালিয়াতি আখ্যায়িত করে ফাতেমার স্বামী ছালেহ আহমদ গত ২৫ নভেম্বর সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৫ম আদালতে নিশচা সিলেট সেক্রোটারী শাহ লোকমান আলী ও সিলেট নগরীর ১২ নর্ং ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিষ্ট্রার মাজেদ খান হেলালী ওরফে এম.কে হেলালী-সহ ৮জনকে আসামী করে জালিয়াতি ও প্রতারনার একটি মামলা করেন।

মামলার অপর আসামীরা হচ্ছেন,সুনামগঞ্জের ছাতক নয়া রাজারগাঁওয়ের মিয়াজান আলীর মেয়ে লন্ডনী কইন্যা ফাতেমা বেগম রুনি (২২), সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুরের সৈয়দ সাবু মিয়ার পুত্র সৈয়দ সানী আহমদ (৩৮), সিলেটের দক্ষিণ সুরমার হায়দরপুরের হাজী তাহিদ উল্যাহর পুত্র মামুন হোসেন (৩৪), দক্ষিণ সুরমার পিরোজপুরের উমের আহমদ রেজার পুত্র আব্দুল মুকিত চৌধুরী রাজা ওরফে রেজা (৩৫) ও একই উপজেলার ফরিদপুরের মৃত আব্দুর রহিমের পুত্র আব্দুল মনাফ (৩৬)।

মামলা দায়েরে কওের রফাতেমার স্বামী ছালেহ আহমদ গত ২৯ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে জালিয়াত ও পরস্ত্রী আত্মসাত চক্রের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার ও প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।