আসল-নকল হিজড়াদের উৎপাতে অতিষ্ঠ ডেমরাবাসী

সালে আহমেদ, ডেমরা প্রতিনিধিঃ বেপরোয়া চাদাঁবাজিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে তৃতীয় লিঙ্গের নকল হিজড়া, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ডেমরার হিজড়া গ্রুপের সদস্যরা।তাদের অত্যাচারে ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী বাসীর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

রাজধানীর সর্বত্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই হিজড়া বাহিনী। সাম্প্রতিককালে হিজড়াদের সবচেয়ে বেশি অত্যাচার চলছে ডেমরা ও যাত্রাবাডী থানা এলাকায়। তারা বাসাবাড়ি, দোকানপাট, ব্যবসা কেন্দ্র এমনকি অফিসে অফিসেও হানা দিচ্ছে। ধার্য করে দিচ্ছে চাঁদার টাকা। টাকা দেওয়া না হলে তুলকালাম কাণ্ড ঘটাচ্ছে তারা। অশ্রাব্য গালাগাল, নগ্ননৃত্য প্রদর্শন, ভাঙচুর, মারধর করাসহ নানা রকম কাজে মেতে ওঠে তারা।

মানুষের আচার-অনুষ্ঠান এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে এরা এমনভাবে হস্তক্ষেপ শুরু করেছে যা অতীতের সকল কিছুকে ঠিঙ্গিয়ে গেছে। একটি নতুন সমস্যা হচ্ছে হিজড়া নয় এমন লোকেরাও এখন হিজড়ার অভিনয় করে পাড়ায় পাড়ায় হয়রানি শুরু করেছে। এখন সামাজিক অনুষ্ঠানসমূহে হিজড়ার উপস্থিতি একপ্রকার নিশ্চিত।

জন্ম-মৃত্যু, বিবাহ, বিনোদনসহ সকল অনুষ্ঠানে যেকোন একটা সময়ে হিজড়ারা উপস্থিত হবেই, কারো মাফ নেই। ওদের চাহিদা আগে হাজারের মধ্যে ছিল। এখন কোন কোন ক্ষেত্রে ওরা লাখ টাকা ও দাবি করছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নজু মাদবর বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও সুফল পাওয়া যায় না, যে কারণে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে তারা। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, হিজড়াদের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হিজড়া উন্নয়ন শিল্পী পরিষদের আহবায়ক দিপালী হিজড়া অভিযোগ করেন, প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া প্রকৃত হিজড়ারা এখন হিজড়া বেশি চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লিঙ্গচ্ছেদ করে কৃত্রিমভাবে হিজড়ায় রুপান্তর হওয়া পুরুষরা জোট বেধে প্রকৃত হিজড়াদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। এরা চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধের সাথেও জড়িত।

হিজড়াদের চাঁদাবাজির মধ্যে নবজাতক শিশু নাচানো অন্যতম। শিশু নাচানোর নাম করে হাজার হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে।উল্লেখ্য যে, গত বছরের মার্চ মাসে রাজধানীর শনিরআখডায় একটি বাড়িতেও হিজড়ারা এভাবেই হানা দিয়ে ১৫ দিনের এক নবজাতকে বাথরুমের বালতির পানিতে চুবিয়ে রেখে দরজা আটকিয়ে রেখে দেয়।

বামৈল এর বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান (অনন্ত) জানান, হিজলারা দুষ্টু দুষ্টু কথা বলে এদের আচরনে আমরা মাঝে মাঝে হতভম্ব হয়ে পড়ি। হিজলাদের আশালীন মন্তব্য ও আচরনে নিদ্বিদায় পকেটের টাকা দিতে বাধ্য হয় সবাই।

ডেমরায় হিজড়া বাহিনীর নেতা লায়লার অধীনে রয়েছে কয়েকশত আসল ও নকল হিজড়া। তার অধীনে থেকে ডেমরার বিভিন্ন স্পটে চাদাবাজি চালায়। রাজধানীতেই ৩০ গ্রুপের এই হিজড়া সদস্যরা মাসে প্রায় ২ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে থাকে। ফুটপাথের পান-বিড়ি দোকান থেকে শুরু করে আধুনিক শপিং মলের ব্যবসায়ীরাও চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পান না।

সায়দাবাদ টার্মিনাল, যাত্রাবাড়ী ,ডেমরা বাজার, স্টাফ কোয়াটার মার্কেট তারাবো বাজার, বামৈল বাজার, কোনাপাড়া বাজারসহ শতাধিক পয়েন্ট রয়েছে তাদের চাঁদাবাজির। দোকানপ্রতি তারা ৫ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়।

কোনাপাড়ার বাসিন্দা ও স্কুল শিক্ষক আবুল হাসান আবুল জানান, হিজড়াদের নোংরা-অশ্লীল আচরণ, প্রকাশ্য এবং গোপন সকল ধরনের চাদাবাজি থেকে মুক্তি চাই।

ইমরান হোসেন নামের এক চাকুরীজীবি বলেন, সন্মান জনক ভাবে নগরে বসবাস ও চলাফেরা করতে চাই। তাদের মধ্যে ৭০% যারা ইচ্ছাকৃত হিজরা হয়েছে, আসল যারা হিজড়া তাদের উৎপাত সহনশীল কিন্তু এই নকল হিজড়ারাই সমস্যা তৈরী করছে।

চাঁদাবাজ হিজড়া চক্রের সদস্যরা দিনভর চাঁদা সংগ্রহে ব্যস্ত থাকলেও রাত হলেই তারা অন্যরকম অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। কোনো পথচারীকে একা পেলেই ছিনতাই চালায়। পুলিশও ভয় পায় হিজড়াদের। কেননা প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায় না।

উপরন্তু কখনো কোনো হিজড়াকে আটক করলে তাদের বাহিনীর সদস্যরা ছুটে আসে। তারা থানা ঘেরাও করে, ভাঙচুর চালায়, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে। সে কারণে কেউ থানায় এলে পুলিশ মীমাংসা করে ফেলার পরামর্শ দেয়।