এমপি আবু জাহিরকে মন্ত্রী দেখতে চান জেলাবাসী, এমপি মাহবুব আলীও আলোচনায়

নুর উদ্দিন সুমন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জ জেলার উন্নয়নে স্বাধীনতা পরবর্তী সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখায় আলহাজ্ব এডভোকেট মোঃ আবু জাহিরকে এবার মন্ত্রী দেখতে চান জেলাবাসী। তার সঙ্গে এবার নতুন করে জেলাবাসী আরো একজন কেও মন্ত্রিসভায় দেখতে চায়।

বিশেষ করে হবিগঞ্জ-৪ আসনের ২য় বারের সাংসদ এডভোকেট মাহবুব আলীকে তার নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন। এডভোকেট আবু জাহির এমপি গত ৩০ডিসেম্বর হবিগঞ্জ-৩ আসনে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেছেন হেভিওয়েট নেতা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তিনবারের সফল এমপি আলহাজ্ব এডভোকেট মোঃ আবু জাহির।

শেখ হাসিনার আস্থাভাজন আলহাজ্ব এডভোকেট মোঃ আবু জাহির বিজয়ী হওয়ার পরই তার সমর্থকরা ও জেলার সচেতন মানুষজন তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে তারা এই মত ব্যক্ত করেছেন। এডভোকেট আবু জাহির মন্ত্রিসভায় থাকছেনই এই কথাও জোর দিয়ে বলছেন তার সমর্থকরা। তবে মন্ত্রী হলে এডভোকেট আবু জাহির হাওর সহ জেলার উন্নয়নে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন বলে বিশ্বাস করেন তারা। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সমাবেশে তিনি তার যেসব পরিকল্পনার কথা জেলাবাসীকে জানিয়েছেন তা পূরণ করতে পারলে জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়ন মাইলফলক ছুঁয়ে যাবে বলে মনে করেন জেলাবাসী। তাই তাকে মন্ত্রী হিসেবেই চান তারা।

আলহাজ্ব এডভোকেট আবু জাহির বলেন আমাকে তৃতীয় বারের মত জনগণের সেবক হিসেবে এমপি নির্বাচিত করায় শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট। কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি আমার প্রাণপ্রিয় হবিগঞ্জ, লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জের সর্বস্তরের জনগণসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠন এবং অনলাইনে প্রচার প্রচারণায় আমাকে সাহস ও সমর্থন প্রদান করা প্রবাসীসহ সমর্থক, শুভানুধ্যায়ি সকলের প্রতি। এছাড়াও সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে জনগণের ভোট প্রদানে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখায় পুলিশ প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, সাংবাদিকসহ নির্বাচন কমিশনের সকল কর্মকর্তা কর্মচারিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন এই বিজয় জনগণের, এই বিজয় শেখ হাসিনার উন্নয়নের।

এদিকে সিলেট বিভাগের সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে এমপি নির্বাচি হয়েছেন এডভোকেট মাহবুব আলী। নৌকার জোয়ারে পাত্তাই পায়নি ধানের শীষ। তুলনামূলক তার আসনে ভোটের দিন রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনাও নেই। বেসরকারি প্রকাশিত ফলাফলে এডভোকেট মাহবুব আলীর নৌকা মার্কা ৩লাখ ১৪হাজার ৯শত ৯৩ভোট ও ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত অধ্যাপক আহমদ আব্দুল কাদের ধানের শীষ মার্কা ৪৬হাজার ৬শত ২০ভোট পেয়েছেন। ২লাখ ৬৮হাজার ৩৩৭ভোট বেশি পেয়ে এডভোকেট মাহবুব আলী এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

চুনারুঘাট-মাধবপুরবাসী এডভোকেট মাহবুব আলী এমপিকে মন্ত্রি সভায় কল্পনা করছেন তার সমর্থকরা। বিশেষ করে চুনারুঘাট-মাধবপুরবাসী তাকে নিয়ে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন। নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা এলাকাবাসীকে আহ্বান জানিয়ে ছিলেন তাকে চুনারুঘাট-মাধবপুর থেকে নির্বাচিত করার জন্য।

মাহবুব আলীর সমর্থকরা জানান, আওয়ামী লীগের অতীতের মন্ত্রিসভায় জননেতাদের মধ্যে যারা একাধিকবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন তাদের অনেকেই মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছিলেন। তাই এবার এডভোকেট মাহবুব আলীর সেই সুযোগ আসতে পারে। জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নে মাহবুব আলীর ভূমিকা চান তারা।

এডভোকেট মাহবুব আলীর ব্যক্তিগত সহকারি বেলাল মিয়া বলেন, আমাদের নেতাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন চুনারুঘাট মাধবপুরবাসী। তারা মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভায় নিজেদের নেতার স্থান চায়। আমরা এবার আশা করছি জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের মূল্যায়ন করবেন। চুনারুঘাট উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল কাদির লস্কর বলেন, আমাদের সৎ ও নির্লোভ নেতা এডভোকেট মাহবুব আলীকে আমরা মন্ত্রী দেখতে চাই। কারণ জননেত্রীর উপর আমাদের আস্থা আছে। তিনি এডভোকেট মাহবুব আলীকে অত্যন্ত স্নেহ করেন। এর প্রতিদান অবশ্যই আমরা এবার পাব। তিনি মন্ত্রী হলে চুনারুঘাট মাধবপুর তথা হবিগঞ্জ জেলা নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যাবে। জাতীয় উন্নয়নে উন্নত জেলার সমপর্যায়ে পৌঁছে যাবে। আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ জানাই যাতে আমাদের নেতাকে মন্ত্রী করা হয়।

এডভোকেট মাহবুব আলী মাধবপুর চুনারুঘাটসহ জেলাবাসীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, প্রিয়, মাধবপুর-চুনারুঘাটবাসী। আমাকে আবারো এমপি নির্বাচিত করায় শোকরিয়া জ্ঞাপন করছি মহান আল্লাহ্ তালার নিকট। কৃতজ্ঞতা, অভিনন্দন ও অভিবাদন জানাচ্ছি মাধবপুর-চুনারুঘাটের সর্বস্তরের জনগণসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের সকল প্রিয় নেতা কর্মীদের। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি এই বিজয় হলো আপনাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল। এই বিজয় আপনাদের, এই বিজয় দেশ উন্নয়নের, এই বিজয় দেশরত্ন শেখ হাসিনার উন্নয়নের। এবার আমার পরিকল্পনা পূরণ করতে চাই। হবিগঞ্জকে জাতীয় উন্নয়নে যুক্ত করতে চাই। জননেত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে আমাকে অতীতে স্নেহ করেছেন এবারও তার স্নেহ পাব আশা করি।