কেশবপুরে শীত ও ঘন কুঁয়াশা উপেক্ষা করে কৃষক-কৃষানিরা ইরি-বোরো ধানের চারা রোপনে ব্যাস্ত

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কেশবপুরে শীত ও ঘন কুঁয়াশা উপেক্ষা করে ভোর থেকে কৃষক-কৃষানিরা ইরি-বোরো ধানের চারা রোপনে ব্যাস্ত সময় পার করে চলেছেন।

এখন ইরি-বোরো চাষের ভরা মৌসুম। উপজেলা কৃষি অফিসার মহাদেব চন্দ্র সানা জানান, কেশবপুর উপজেলায় এবার ১৬ হাজার ৫ শত হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। যা গতবছরের তুলনায় এবার ৫ শত হেক্টর জমি বেশি। কৃষকরা ঘরে বসে না থেকে পুরো দমে নেমে পড়েছে ধানের চারা রোপনের কাজে। উপজেলার অধিকাংশ মৎস্য ঘের মালিকরা তাদের ঘেরের পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে কৃষকদের জমি ধান চাষের উপযোগী করে দেওয়ায় বছরের খোরাক যোগাড় করতে কৃষকরা শীত উপেক্ষা করে ভোর রাত থেকে সন্ধ্যাপর্যন্ত ধানের চারা রোপনে ব্যস্তসময় পার করছে।

মৌসুম শুরু হওয়ার আগে ভাগে কেশবপুরে শুরু হয়েছে ইরি বোরো ধান চাষের আগাম প্রস্তুতি। কালবৈশাখীর কবল থেকে নিরাপদে ধান ঘরে তোলার জন্য কৃষকরা আগাম বীজতলা তৈরী ও ধানের চারা রোপন শুরু করেছে। কেশবপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চল জুড়ে তাই এখন চলছে ইরি বোরো ধানেরচারা রোপনের মহোৎসব।

গতবছর অতিবৃষ্টি ও কপোতাক্ষের উপচে পড়া পানিতে কেশবপুরের প্রায় শতাধিক গ্রাম পানি বন্ধী হয়ে পড়ায় অধিকাংশ নীচু আবাদী জমি উজানের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আমন ধানের চাষ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল অনেক কৃষকরা। সে কারণে কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বোরো ধান আবাদে মনযোগ দিয়েছিল এবং ফলনও বাম্পার হয়েছিল। এবছর জলাবদ্ধতা না থাকায় কৃষকরা আগাম ইরি-বোরো ধানের চাষ শুরু করেছে। তাই বাধ্য হয়ে কুয়াশার চাঁদরে ঢাকা শীতের বৈরীতা উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি মাঠের কাদা-জলে ভিজে ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে।

একজন শ্রমিকের মুল্য ২/৩ শত টাকা হওয়ায় কষ্টের তুলনায় তাদের পারিশ্রমিক অতি নগন্ন বলে কৃষকরা তাদের ক্ষোভের কথা প্রকাশ করেন।