গলাচিপা উপজেলায় বইছে আ’লীগ সম্ভাব্য প্রার্থীদের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনী হাওয়া

মাহামুদুল হাসান, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই গলাচিপা উপজেলায় বইছে আওয়ামী লীগ সম্ভাব্য প্রার্থীদের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনী হাওয়া।

ইতিমধ্যে গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন শহর-বন্দর, হাট বাজারগুলোতে বইছে রঙ্গিন ব্যানার, পোষ্টারের ছড়াছড়ি এবং সবখানেই চলছে নির্বাচনী আলাপচারিতা। সুধীজনের টেবিলে এবং প্রশাসনের এখন একটাই আলোচনা কে হতে যাচ্ছে গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী। প্রার্থীদের সমর্থকদের প্রতিটি প্রার্থীদের স্বপক্ষে তৎপরতা এবং বিভিন্ন নাম দিয়ে সৌজন্য পোষ্টারে ছেঁয়ে গেছে গলাচিপা জনপদ।

Advertisement

সাংগঠনিক ভাবে আওয়ামী লীগের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য এস.এম শাহজাদার সমর্থিত প্রার্থীদের দৌঁড়ঝাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটি সদস্যদের মধ্যে চলছে তীব্র যুদ্ধ। কেউ কেউ ছুটে চলছেন জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের পিছনে লোবিং জোরদার করছে, আবার কেউ কেউ চেয়ে আছেন নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সমর্থনের আশায়।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের আলোকে যে সমস্ত প্রার্থীরা দলের একনিষ্ঠ কর্মী এবং দুঃসময়ে দলের স্বার্থে কাজ করেছে তাদেরকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে এবং তৃণমূলের সভাপতি/সম্পাদক, উপজেলার সভাপতি/সম্পাদক ও জেলা কমিটির সভাপতি/সম্পাদকদের প্রস্তাবিত প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা যায়।

আসন্ন আগামী মার্চ/১৯ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলায় আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ৫ জনপ্রার্থী উল্লেখ যোগ্য। প্রার্থীরা হলেন (১) সাবেক আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মো: হারুন অর রশিদ (২) বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারুণ্যের অহংকার ও ত্যাগী নেতা মু. সামসুজ্জামান লিকন (৩) উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ উপ কমিটির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এবং যুব সমাজের অংহকার মো. শাহিন শাহ (৪) উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও উচ্চ শিক্ষিত, সদালাপী সহকারী অধ্যাপক মেহেদী মাসুদ জুয়েল (৫) সাবেক ছাত্রনেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শওকত হোসেন ভুলু উল্লেখযোগ্য প্রার্থী।

এছাড়া উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান বিনয়ী স্বভাব সদালাপী ব্যক্তি মো: মতিউর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি এ্যাডভোকেট শামীম মিয়ার নাম উপজেলা চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তপন বিশ্বাস ও সাবেক ছাত্র নেতা জি এম শাহীন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে ওয়ানা মার্জিয়া নিতু ইতিমধ্যে ব্যানার দিয়ে প্রার্থীতা ঘোষণা প্রদান করেন।

সংবাদকর্মীর বিশ্লেষণে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় ও সাংগঠনিক ভাবে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মো: সামসুজ্জামান লিকনের তৃণমূলে কর্মীদের মাঝে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। এছাড়া তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে উপজেলা পরিষদের ১২ টি ইউনিয়নের ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম যথা-গ্রামীণ রাস্তাঘাট নির্মাণ, প্রাথমিক শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন, পুল, কালভার্টসহ নানা ধরণের ব্যাপক উন্নয়নের সুনাম রয়েছে।

অপরদিকে সাবেক দক্ষ উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে মো: হারুন অর রশিদের নাম সর্বজন স্বীকৃত। এছাড়া আওয়ামী লীগের সংগঠক এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে তার রয়েছে বিশেষ পরিচিতি। বিশ্লেষণে জানা যায়, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ কমিটির নেতা মো: শাহিন শাহ এর পক্ষে রয়েছে ব্যাপক যুব সমর্থন। এছাড়া দলের সাংগঠনিক দক্ষতায় তার সুনাম রয়েছে।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান সংসদ সদস্য এস.এম শাহজাদার স্বপক্ষে নির্বাচনের পূর্বে এস.এম শাহাজাদার সমর্থনে বিভিন্ন বাজার, গ্রাম, ইউনিয়ন, শহর, উপজেলা পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে মেহেদী মাসুদ জুয়েল গত ৩০ শে ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এস.এম শাহজাদার বিজয়ে তার ভূমিকা জনমনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে বলে জানা যায়।

তবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মহোদয় জনাব এস.এম শাহজাদা গলাচিপা উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি বিশেষ বর্ধিত সভায় বক্তব্যে তিনি জানান যে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে তার ব্যক্তিগত কোন পছন্দের ব্যক্তি বা কোন প্রার্থীনেই। দল যাকে মনোনয়ন দেবে এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তার পক্ষেই দলীয় নেতা কর্র্মীরা মাঠে কাজ করবে বলে তিনি জানান।

অপরদিকে গত সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্রীয় ভাবে বিএনপি প্রশ্নবিদ্ধ এবং গত নির্বাচনকে প্রত্যাহার করায় উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি’র দলীয় কোন প্রার্থীর নাম বা পোষ্টার, ব্যানার দেখা যায় না। বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতৃবৃন্দ জানায় কেন্দ্রীয় নির্দেশনা না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তাদের কোন গুরুত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে না এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনা না আসার পর্যন্ত কোন মন্তব্য করতে রাজি নয় বলে তারা জানায়।

এছাড়া অন্যান্য দলের প্রার্থী হিসেবেও কারো পোষ্টার, ব্যানার চোখে পড়ে নি। আগামী মার্চেই সারা দেশে কয়েক দফায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে ঘিরে সরকারি দলের তৎপরতাকে দলের নেতাকর্মীরা যেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে তেমনি ভাবে সাধারণ ভোটাররা উপজেলা নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

সর্বোপরি সরকারি দলের প্রার্থী হিসেবে কে পাবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার মনোনয়ন সেই নিয়েই চলছে ব্যাপক বিশ্লেষণ।