গোলাগুলির ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা, দেশ ছাড়লো যুবদল নেতা

নোমান মাহমুদ, সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ বৃহস্পতিবার (১০ই জানুয়ারি) দুপুরে সাভারের পৌর এলাকা শাহীবাগে গোলাগুলির ঘটনায় সাভার মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত ইসমাইল (২৬) ও ইস্রাফীল (২৫) নামে দুই যুবকের বড় ভাই মো. ইয়াসিন বাদি হয়ে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন মাদবরের ছেলে মো. রাসেল আহম্মেদ মাদবরসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা (মামলা নং-৩৯) এবং পৌর যুবদলের সহ-সভাপতি ইউনুস পারভেজসহ অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জনকে আসামী করে উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা কামাল উদ্দিন মাদবর একটি মামলা (মামলা নং-৩৫) দায়ের করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে মামলা দুটি দায়ের করা হয়। তবে মামলায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।

মামলায় আহত ইসমাইল ও ইস্রাফীলের বড় ভাই মো. ইসমাইল অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহীবাগের জনৈক মোল্লার দোকানের সামনে চাঁদার দাবিতে রাসেল মাদবর ও তার লোকজন ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ইউনুস পারভেজ ও তার কর্মচারীদের মারধর করতে করতে এক পর্যায়ে বাসা থেকে লাইসেন্সকৃত শটগান এনে ইউনুস পারভেজকে লক্ষ করতে থাকে। এসময় ৪ যুবকসহ ৩ জন নারী গুলিবিদ্ধ হয়।

অপরদিকে উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও রাসেল মাদবরের পিতা কামাল উদ্দিন মাদবর তার দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগ করেছেন, যুবদল নেতা ইউনুস মাদবরের সাথে তার দীর্ঘদিন যাবত রাজনৈতিক বিরোধ ছিলো। এরই জের ধরে ইউনুস পারভেজ ও তার লোকজন বৃহস্পতিবার দুপুরে তার ছেলে রাসেল মাদবর (২৫) ও ভাতিজা জাহাঙ্গীরকে (৩৫) মারধর ও তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এর কিছুক্ষন পর আবারও ইউনুস পারভেজ ও তার লোকজন কামাল উদ্দিন মাদবরের বাসা লক্ষ্য করে শর্টগান ও পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়ে। তবে মামলার অভিযোগে গুলিতে কারোও আহত হওয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেননি।

এদিকে গোলাগুলির ঘটনার পর গতকাল ( ১০ই জানুয়ারি ) রাতেই যুবদল নেতা ইউনুস পারভেজ দেশ ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী আসমা বেগম।

এবিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা পৃথক দুটি মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিৎ করে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।