ঘটনার ৩ দিন পার হলেও উদ্ধার হয়নি সেই আগ্নেয়াস্ত্র

0

নোমান মাহমুদ, সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ সাভারের পৌর এলাকা শাহীবাগে গোলাগুলির ঘটনার ৩দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি ঐ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ পথচারী ২ যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়েরকৃত মামলায় সুনির্দিষ্টভাবে একটি লাইসেন্সকৃত শর্টগান থেকে গুলি ছোড়ার কথা উল্লেখ থাকলেও এখনো উদ্ধার হয়নি সেই লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১০ই জানুয়ারি) দুপুর ১২টা নাগাদ সাভারের পৌর এলাকা শাহীবাগে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসময় আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ছোড়া গুলিতে ৩ জন নারীসহ ৪ যুবক গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনার পরপরই আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এঘটনায় ১০ই জানুয়ারি রাতেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এনে সাভার মডেল থানায় দায়ের করা হয় পৃথক দুটি মামলা। এর মধ্যে গুলিতে আহত দুই যুবকের বড় ভাই মো. ইসমাইলের দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগ করা হয় সাভার উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা কামাল উদ্দিন মাদবরের ছেলে রাসেল মাদবর ও তার লোকজন চাঁদার দাবিতে শাহীবাগ এলাকার ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ইউনুস পারভেজকে মারধর করে এবং এক পর্যায়ে দৌড়ে বাসা থেকে তার পিতার লাইসেন্সকৃত শর্টগান এনে ইউনুস পারভেজকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এসময় তার ছোড়া গুলিতে পথচারীসহ ৪ যুবক ও ৩ জন নারী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়।

অন্যদিকে একই ঘটনায় অভিযুক্ত রাসেল মাদবরের পিতা আ.লীগ নেতা কামাল উদ্দিন মাদবর তার দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শত্রুতা থেকে সাভার পৌর যুবদলের সহ-সভাপতি ইউনুস পারভেজ ও তার লোকজন ঘটনার দিন দুপুর ১২টা নাগাদ তার ছেলে রাসেল মাদবর ও ভাতিজা জাহাঙ্গীরকে মারধর করে এবং এক পর্যায়ে তার ছেলে ও ভাতিজা দৌড়ে বাসার ভিতরে চলে গেলে ইউনুস পারভেজ ও তার লোকজন শর্টগান, পিস্তলসহ বিভিন্ন অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে কামাল উদ্দিন মাদবরের বাসা লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

তবে আওয়ামীলীগ নেতার দায়েরকৃত মামলায় হামলার সময় আত্বরক্ষার্থে নিজের লাইসেন্সকৃত শর্টগান ব্যবহারের কোন কথা কিংবা ঐ ঘটনায় গুলিতে কারও আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়নি। যদিও গুলিতে আহতরা আ.লীগ নেতার লাইসেন্সকৃত অস্ত্রের গুলিতেই গুলিবিদ্ধ হয়েছে কিনা তা নিশ্চিৎ হওয়া যাবে ঐ শর্টগানটি উদ্ধার ও আগ্নেয়াস্ত্রটির ব্যালাস্টিক পরিক্ষার (আগ্নেয়াস্ত্রের রাসায়নিক পরিক্ষা) পর।

এবিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আওয়াল জানান, গোলাগুলির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এছাড়া এই ঘটনায় এখনো কোন অস্ত্র উদ্ধার হয়নি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.