জাবিতে পাখি সংরক্ষণে মেলা

0

জোবায়ের, জাবি প্রতিনিধিঃ পাখি সংরক্ষণে গণ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পাখির নিরাপদ আবাস তৈরীর লক্ষ্য নিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো ‘পাখিমেলা-২০১৯’।

দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে পাখি সংরক্ষণে সচেতনতার লক্ষ্যে মেলার আয়োজন করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ।

শুক্রবার (১১ জানুয়ারী) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন প্রাঙ্গনে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বেলুন উড়িয়ে এ মেলার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘পাখির অভয়ারণ্য নিশ্চিত করতে হলে সুন্দর এবং প্রয়োজনীয় পরিবেশ ধরে রাখতে হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখির বসবাস উপযোগী পরিবেশ অক্ষুন্ন রাখা হয়েছে। এ কারণে প্রতি বছর শীত মৌসুমে পরিব্রাজক পাখি নিয়মিত ভাবে এখানকার জলাশয়ে আসে। পাখি মেলায় এসে বাচ্চারা নানা প্রজাতির পাখির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। এতে পাখির প্রতি মমত্ব এবং সংযোগ বাড়ছে।’

উপাচার্য তাঁর ভাষণে বিগত শতকের ষাট এবং সত্তর দশকের ঢাকার স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই সময়ে ঢাকা সবুজ ছিল। অনেক জলাশয় ছিল। সেখানেও পাখি আসতো। পাখির ডাকে ঘুমভাঙত। এখন সেই ঢাকা নেই। জলাশয় ভরাট, ইট, পাথর, কংক্রিটের নানাবিধ কাজের মধ্যদিয়ে মানুষ সবুজ প্রকৃতি ও পাখ-পাখালির ঢাকার পরিবেশ নষ্ট করেছে। এখন সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদেও সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’

ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এ টি এম আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ, পাখি মেলা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান প্রমুখ।

এ দিকে পাখি মেলার উদ্বোধনের আগে বিগ বার্ড বাংলাদেশ এ্যাওয়ার্ড, কনজার্ভেশন মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড ও সায়েন্টিফিক পাবলিকেশন এ্যাওয়ার্ড ২০১৯ প্র্রদান করা হয়। নতুন ও দুর্লভ প্রজাতির পাখির সন্ধান পাওয়ায় এবার বিগ বার্ড বাংলাদেশ এ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন যথাক্রমে শফিকুর রহমান শুভ্র, মো. কায়েস ও তৌকির হাসান হৃদয়। কনজারভেশন মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন রাহুল এম ইউসুফ, আদিব মুমিন আরিফ ও আব্দুল্লাহ আল ওয়াহিদ।

এছাড়া সায়েন্টিফিক পাবলিকেশন এ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন মুনতাসির আকাশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম পুরষ্কৃতদের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন। পাখি মেলারবিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় পাখি দেখা প্রতিযোগিতা, পাখি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিশু-কিশোরদের পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, টেলিস্কোপ ও বাইনোকুলারস দিয়ে শিশু-কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষণ, স্টল সাজানো প্রতিযোগিতা, অডিও-ভিডিও এর মাধ্যমে পাখিচেনা প্রতিযোগিতা, পাখি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান।

Leave A Reply

Your email address will not be published.