দখল দুষন আর পলি জমে গুরুদাসপুরের নন্দকুঁজা নদী এখন প্রায় মৃত

নাজমুল হাসান নাহিদ, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ দখল, দুষন ও পলি মাটি জমে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নন্দকুঁজা নদী এখন প্রায় মৃত। বর্ষা মৌসুমে পানি দেখা গেলেও বর্ষা শেষে আর থাকে না। গুরুদাসপুর পৌরসভার বর্জ্য, প্রতি বছর বিপুল পরিমানে পলি মাটি জমা হওয়া, নদীর দুপারের জায়গা দখল করে ব্যবসা-হাট-দোকান-পাট, নাটোর সুগার মিলের বর্জ্য ফেলার কারনে সংকুচিত হয়ে পড়ায় মরে যাচ্ছে গুরুদাসপুরের নন্দকুজা নদী।

বছরের ৬ মাস পানি থাকলেও উজানের রাজশাহী চারঘাটের বাধ ও নাটোর দয়রামপুরের সুইচগেট আটকানোর কারনে পানি প্রবাহ বন্ধ থাকে। এ কারনে নন্দকুজা নদী ছয়মাস শুকনো হয়ে থাকে। নানা কারনে অস্তিত্ব সংকটে থাকা নন্দকুজা নদীর সৌন্দর্য্য, পূর্বজৌলুশ ও স্বকীয়তা হারিয়ে খালে পরিনত হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. মোঃ রেদওয়ানুর রহমানের প্রবন্ধ থেকে পাওয়া তথ্যে জানাগেছে-প্রায় ২৯ বছর আগেও গুরুদাসপুরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত নন্দকুঁজা নদীতে বছর জুড়েই ৬-১২ ফুট পানি থাকত। ফলে বছর জুড়েই নৌ চলাচল করতো। কিন্তু বছরের পর বছর পলি জমে নদী ভরাট হয়ে গেছে।

পরিসংখ্যান মতে, প্রতি বছর ২২২ ১ /২ মিলিয়ন ঘনফুট পলি প্রবেশ করে ৫৩ মিলিয়ন ঘনফুট পলি বর্ষায় চলন বিলে ত্যাগ করে। অবশিষ্ট ২৬৯ ১ / ২ মিলিয়ন ঘনফুট পলি নদীতে স্থিতি থাকে। গুরুদাসপুর নদী রক্ষা কমিটির সদস ইমাম হাছাইন পিন্টু জানায়, ঐতিহ্যবাহী বন্দরনগরী আমাদের চাঁচকৈড় এর গা ঘেষে যাওয়া এই নন্দকুজা নদী আজ প্রায় মৃত।

কিন্তু এর কারন একটাই অপরিকল্পিত নগরায়ন, পৌরসভার বর্জ্য ফেলা, নদীর দুই পারের জায়গা দখল, অতিরিক্ত পলি মাটিজমা এবং সময় মত নদী খনন না করা এই কারনে আমাদের প্রান প্রীয় নদীতে মাছ ধরেছি গোসল করেছি। একটা সময় এই নদী দিয়ে আশপাশের সকল ব্যবসা বাণিজ্য চলতো নৌকা যোগে চলাচল করতো। কিন্তু আজকে এই নদী অবহেলার কারনে প্রায় মৃত।

এলাকাবাসী বলেন, আমাদের নন্দকুজা নদী আগে প্রচুর গভীর ছিলো। পদ্মারপলি পরে পরে এখন ভরাট হয়ে গেছে। এখন সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি এই নদীটা যেন নতুন করে খনন করা হয়। যেন এই নদীর পুরাতন যৌবন আবার ফিরে আসে।

গুরুদাসপুর নদী রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব জানান, আমরা চাই এই নদীটা যেন ভরাট না হয়। রাজশাহী চারঘাটের যে বাধটি আছে সেটা ভেঙ্গে দিলে এবং বড়াইগ্রামের যে বাধ আছে এই দুইটা বাধ ভেঙ্গে দিলে নদীতে পানি আসবে। এবং এই নদীতে ডেজিং করা দরকার কেননা নদীর যে সাবেক যৌবন সেটি যেন আবার ফিরে আসে। এই কারনেই নদীটা খনন করা দরকার এবং নদীরদু পাশের দখল-দুষন গুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, চলনবিল অধ্যোশিত আমাদের এই গুরুদাসপুর উপজেলা। আর এই উপজেলার অন্যতম একটি নদী নন্দকুজা নদী। পৌরসভার পাস দিয়ে চলে গেছে এই নদী।

আমাদের শরীরের রক্ত প্রবাহ যেমন গুরুত্বপুর্ন। তেমনি নদীর রাতে যেন কোনভাবে বাধা প্রাপ্ত না হয় দখল না হয়। আমাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে জেলাপ্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে যাতে করে এই নদীতেকেউ দখল দুষন না করতে পারে। তার জন্য আমরা সব সময় সজাগ। তবে যারা দখল দুষন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে আইন-আনুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।