ভাইকে হারিয়ে বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে দুই বোনের আহাজারি

মো: রবিউল ইসলাম খান, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: ঘড়ির কাটায় তখন দুপুর ১২ টায়। লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের লাশ ঘরের পাশে একজন বৃদ্ধ আকাশের দিকে তাকিয়ে বাকরুদ্ধ অবস্থায় বসে আছে। তারই পাশে দুইজন মহিলা বৃদ্ধ লোকটিকে জড়িয়ে কান্না করছে।

মাঝে মাঝে তাদের কান্না জড়িত কন্ঠে ভেসে আসছে, নূর আলম ছিলো তাদের সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী, তাদের শত স্বপ্ন। পরিবারের সকল সদস্যর স্বপ্ন পূরন হতো নূর আলমের আয়ের মাধ্যমে। সেই ভাইটি এভাবে তাদের ছেড়ে চলে যাবে, কখনো ভাবতেও পারে নাই। কী হবে এখন তাদের সংসারের? কী হবে ভাইয়ের প্রতিবন্ধী ৬ বছরের ছেলের? সাত মাস বয়সী অপর ছেলে মিরাজ বুঝি আর কখনোই বাবা বলে ডাকতে পারবে না! এমন অনেক প্রশ্ন সেই দুই মেয়ের কন্ঠে।

তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বৃদ্ধ লোকটি সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত সিএনজি চালক নূর আলমের বাবা নূর মোহাম্মদ ও দুইবোন পাকি ও লাকি আক্তার।

নিহতের বৃদ্ধ বাবা নূর মোহাম্মদ বলেন, নূর আলম রাত তিনটায় সিএনজির গ্যাসের জন্য পাম্পে যায়। সেখান থেকে সে যাত্রী নিয়ে লক্ষ্মীপুর সদরহাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। নূর আলমের সিএনজি সদর উপজেলার মান্দারি ইউনিয়নের রতনপুর এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা মালবাহী ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট ১৪-০৬৭৭৭) তাঁর সিএনজিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে নূর আলমসহ ৬ যাত্রী নিহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

সিএনজি চালক নূর আলম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৬ নং ভাঙাখাঁ ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামের মাঝের বাড়ির নূর মোহাম্মদের একমাত্র ছেলে।

উল্লেখ্য, বুধবার (২৩ জানুয়ারি) ভোর ৫ টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রতনপুর গ্রামের লক্ষ্মীপুর-বেগমগঞ্জ সড়কে মালবাহী ট্রাক ও সিএনজিকে চাপা দেয়। এতে একই পরিবারের ৬ জনসহ সিএনজি চালক নূর আলম মারা যায়।