মধুসূদন পদক পাচ্ছেন কবি অধ্যাপক কাজী শওকত শাহী ও কবি এটি এম গিয়াস উদ্দিন

আজিজুর রহমান / সোহানা ফেরদৌস সুইটি, কেশবপুর: ২৫ জানুয়ারী শুক্রবার অমিত্রাক্ষর ছন্দের জনক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৫ তম জন্ম দিন।

১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারী যশোরের কেশবপুর উপজেলার কপোতাক্ষ নদতীরের সাগরদাঁড়ি গ্রামে জমিদার রাজ নারায়ণ দত্ত ও মাতা জাহ্নবী দেবীর পরিবারে জন্ম নেন শ্রী মধুসূদন দত্ত। তিনি বাংলা ভাষায় সনেট প্রবর্তনের মাধ্যমে মাতৃভাষাকে সমৃদ্ধ করেছেন বিশ্ব দরবারে।

তিনি সুদুর ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে বসে মাতৃভাষা বাংলা নিয়ে রচনা করেছেন অসংখ্য সাহিত্য কর্ম। মেঘনাধ বধকাব্য, শর্মীষ্ঠা নাটক, বুড়ো শালিকের ঘাঁড়ে রো নাটক, কৃষ্ণ কুমারী নাটকসহ অসংখ্য সাহিত্য কর্ম রচনা করেন অল্প সময়ে। ছেলেবেলায় নিজ গ্রামের একপাঠশালায় মাওলানা লুৎফর রহমানের কাছে শিশু মধুসূদন তার শিক্ষা জীবন শুরু করেন। কিন্তু গাঁয়ের পাঠশালায় তিনি বেশি দিন শিক্ষা লাভ করতে পারেননি।

পিতারাজনারায়ন দত্ত কর্মের জন্য পরিবার নিয়ে কলকাতার খিদিরপুরে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানে মধুসূদন দত্তকে চলে যেতে হয়। শেষ জীবনে অর্থাভাব, ঋণগ্রস্থ ও অসুস্থতায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবন দূর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। এরপর সকল চাওয়া পাওয়াসহ সকল কিছুর মায়া ত্যাগ করে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন কলকাতায় মাত্র ৪৯বছর বয়সে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

দিবসটি স্মরণে প্রতিবছর সংষ্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠ পোষকতায় যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম জয়ন্তি ও সপ্তাহব্যাপী মধু মেলার আয়োজন করা হয়। এবারও সাগরদাঁড়িতে মহাকবির জন্মজয়ন্তিতে বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়েছে।

মেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানূর রহমান জানান, এবার মধুসূদনপদক পাচ্ছেন যশোরের সাহিত্যিক ও কবি অধ্যাপক কাজী শওকত শাহী ও কবি এ টি এম গিয়াস উদ্দিন (মরনোত্তর)। ২৮ জানুয়ারী মধু মেলার শেষ দিনে তাদেরকে পদক প্রদান করা হবে।

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২৫ জানুয়ারী জন্ম বার্ষিকী থাকলেও এসএসসি পরীক্ষার কারণে এবার ২২ জানুয়ারী মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা।

৭ দিন ব্যাপী মধুমেলা উপলক্ষ্যে ২২ জানুয়ারী বিকালে ফিতা কেটে মধুমেলার শুভ উদ্ধোধন করেছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি।

এদিকে মধুমেলার ৩য় দিনে মধুমঞ্চে যশোর জেলার স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মোঃ নূর-ই-আলমের সভাপতিত্বে ওপাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উজ্জ্বল ব্যানার্জী এবং দৈনিক প্রতিদিনের কথা পত্রিকার সাংবাদিক উৎপল দের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য শ্রী পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখবেন খুলনা সরকারি বি এল কলেজের অধ্যক্ষ ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখবেন যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্ররুদ্র, যশোর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান, মধুসূদন একাডেমীর পরিচালক কবি খসরু পারভেজ, যশোর সম্পাদক পথিক কবি সোহেল শাহরিয়ার, যশোর টি.আই.বি এর সভাপতি সুকুমার দাস, চুকনগর কলেজের সহকারী অধ্যাপক হাশেম আলী ফকির, কেশবপুর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মশিয়ার রহমান, পাঁজিয়া মনোজ ধীরাজ একাডেমীর পরিচালক এম এ হালিম, মণিরামপুর মাইকেল মধুসূদন সাহিত্য সাংস্কৃতিক পরিষদের সম্পাদক কবি সন্তোষ কুমার দত্ত, মোঃ ওহাবুজ্জামান ঝন্টু প্রমুখ।

তারা “মধুসূদনের আন্তর্জাতিকতা ও আন্তর্জাতিক বিশ্বে মধুসূদন” বিষয়ের ওপর আলোচনা করবেন। এছাড়া মধু মেলার মাঠে মধু ভক্তদের আনন্দ উপভোগের জন্য সার্কাস, ইঞ্জিন ট্রেন, মৃত্যুকুপ, নাগোরদোলা, যাদুপ্রদর্শনী, কৌতুকসহ বিভিন্ন বিনোদনের সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া প্রতিদিন মধুমঞ্চে বিভিন্ন দলগত সংগীতানুষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের খ্যাতিমান কণ্ঠশিল্পীরা এখানে সংগীত পরিবেশন করছেন।

প্রতিবারের ন্যায় মেলায় আগতদের মাঝে মেলা আকর্ষণীয় করে তুলতে মেলার উন্মুক্ত মঞ্চে কবিতা আবৃতি, নাটক, যাত্রাপালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলার মাঠে বসেছে নানা ধরনের আকর্ষনীয় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। মধুমেলাকে ঘিরে ৩য় দিনে সাগরদাঁড়িতে দূর-দুরান্ত থেকে আসা মধু ভক্তরা আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেছে।