মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার মহাকবি-প্রফেসর ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন

আজিজুর রহমান / সোহানা ফেরদৌস সুইটি, কেশবপুর: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক আধুনিক বাংলা কাব্যের রূপকার মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার মহাকবি।

মাতৃভাষা ছাড়া প্রতিভা বিকাশ সম্ভব নয় তাই তিনি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মাতৃভাষায় সাহিত্য চর্চা শুরু করেন। সাহিত্যের মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম ধন্য এই সাগরদাঁড়ির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কপোতাক্ষ নদ।

এই কপোতাক্ষ নদ আর মধুসূদন” দু’জনার মধ্যে এক সময় গড়ে উঠেছিল ভালবাসার এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন। ২৩ জানুয়ারী সন্ধ্যায় মধু মেলার দ্বিতীয় দিনে সাগরদাঁড়ীর মধু মঞ্চে যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এ এম রফিকুন্নবীর সভাপতিত্বে ও পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উজ্জ্বল ব্যানার্জীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু, কেশবপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা সাদেক, বীর
মুক্তিযোদ্ধা যশোর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক কল্যাণের সম্পাদক একরাম-উদ-দ্দৌলা, যশোর মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের কলামিস্ট ও সভাপতি মোঃ
আমিরুল ইসলাম রন্টু, মণিরামপুর উপজেলার মদনপুর সম্মিলনী ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক সফিয়ার রহমান, যশোর উপ-শহর মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. শাহানাজ পারভীন, ঝিকরগাছা রঘুনাথনগর কলেজের সহকারী অধ্যাপক কবি হোসাইন নজরুল হক, ঝিকরগাছার কবি সাইফুদ্দিন সাইফুল, কেশবপুর উপজেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মফিজুর রহমান নান্নু প্রমুখ।

দেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ব বৃহৎ এই মেলায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প, কৃষি ও লোকজ সামগ্রীর সমাহার সহ বিভিন্ন প্রকার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

এবারের মেলায় সার্কাস, মৃত্যুকুপ, নাগরদোলা ছাড়াও কুঠির শিল্প ও গ্রামীন পসরার প্রায় ৫শ এর বেশী স্টল বসেছে। কবির জন্মজয়ন্তী ও মধুমেলা উপলক্ষ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মধুমেলায় উন্মুক্ত মঞ্চে প্রতিদিন মহাকবির জীবনীর উপর আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সার্কাস, ইঞ্জিন ট্রেন, মৃত্যুকুপ ও বিসিকের স্টল বসেছে।

প্রতিদিন কবির সৃষ্টি, সাহিত্য ও জীবনীর উপর বিষয় ভিত্তিক আলোচনায় অংশ গ্রহণ করবেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি সাহিত্যিকগণ। এ ছাড়া প্রতিদিন
সন্ধ্যায় মধু মঞ্চে দেশের বরেণ্য খ্যাতিমান শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করবেন।