মৎস্যজীবীলীগ সভাপতি মনিরুজ্জামান রাসেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ দূর্গাপুর গ্রামের মানুষ

আশরাফুল ইসলাম, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীতে উপজেলা মৎস্যজীবীলীগ সভাপতি মনিরুজ্জামান রাসেলের দাদন ব্যাবসার স্বীকার হয়ে বসতবাড়ী ছাড়িয়ে এখন ঢাকায় ভুক্তভোগী পরিবাররা গুলো।

ক্ষমতাসীন দলের দাপট দেখিয়ে অত্যাচার নির্যাতন নানা ভাবে হয়রানি অব্যহত রেখেছেন এ পরিবারটি। উপজেলা মৎস্যজীবীলীগ সভাপতি মনিরুজ্জামান রাসেলের ৪ সদস্যে পরিবার তার বাবা মুনসুর আমিন তালুকদার, মাসাবেক ইউপি সদস্য আরজিনা বেগম পৃথক পৃথক ভাবে দাদন ব্যবসায় জড়িত ।

এলাকায় এ পরিবারটির নিকট দাদন গ্রহন কারী ১০ জনের অধিক ব্যক্তি নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন। বসতবাড়ী ও এলাকা ছাড়া হয়েছেন ৩ টি পরিবার তারা হলেন দূর্গাপুর গ্রামের হান্নানের ছেলে শরিফুল, হান্নানের আরেক ছেলে সবুজ, একই গ্রামের মোহাম্মাদের জামাই শাফি তাদের ঘরে তালা লাগিয়ে মালামাল বাহির করে নিয়ে গেছে রাসেল ও তার পরিবার।

উপজেলা মৎস্যজীবীলীগ সভাপতি মনিরুজ্জামান রাসেলের দাদন ব্যাবসার স্বীকার হয়ে বসতবাড়ী ছাড়া হয়ে এখন ঢাকায় পরিবার সহ মানববেতর জীবন যাপন করছে এ পরিবার গুলো। দাদনের টাকা পরিশোধ না করায় ভুক্তভোগীদের বসতবাড়ী হতে মালামাল বাহির করে নিয়ে ভুক্তভোগীদের বসতবাড়ীতে তালা লাগিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থাকা দাদন ব্যবসায় লিপ্ত এ পরিবারটি।

তাদের অমানুবিক অত্যাচারে আজ গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে মুখরহয়ে ফুসে উঠেছে। গত ২০ জানুয়ারী রবিবার মহদীপুর ইউনিয়নের নতুন বাজারে ভোক্তভোগী পরিবার গুলো ও স্থানীয়রা তাদের সকল ধরণে অপকর্ম ও দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবীতে এক মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধনটির নিউজটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর আজ ২২ জানুয়ারী নতুন বাজারে এক সংবাদসম্মলেনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান উপজেলা মৎস্যজীবীলীগ সভাপতি মনিরুজ্জামান রাসেল ও তার পরিবার। দাদনের টাকা নিয়ে এ পরিবারটির হাতে নির্যাতনের স্বীকার দূর্গাপুর গ্রামের লুৎফর ছেলে ফারুক জানান, তারা বিভিন্ন সময় সুদের টাকার জন্য মানুষকে মারধর করতো এর প্রতিবাদ করলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবাদকারীদের বিভিন্ন মামলা মোকাদ্দমায় জড়িয়ে হয়রানী করতো।

শামসুলের স্ত্রী জাহানারা জানান, আমার ছেলেদের মিথ্যা মামলায় আসামী করে বহুভাবে হয়রানী করেছে এই পরিবারটি। আছিরের ছেলে তারু ও তার স্ত্রী জানান, মিথ্যা ডাকাতি মামলায় তারুকে সহ কয়েকজনকে আসামী করে হয়রানী করা ছাড়াও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে রাসেল ও তার বাবা মা।

দূর্গাপুর গ্রামের সামাদের ছেলে মোকসেদ, মততাজের স্ত্রী, তছিরের স্ত্রী, আছিরের ছেলে লাল মিয়াসহ অনেকেই জানান, রাসেল একটি সেচ্ছাসেবী জনকল্যাণ মুলক সংগঠনের শ্লোগান দিয়ে রেজিষ্ট্রেন বিহীন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সংস্থার নামে এ দাদন ব্যবসা চালিয়ে আসছে এই বাজারসহ গ্রামটিতে।

দূর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মৃত ইব্রাহিমের ছেলে তাজু মিয়া জানান, দীর্ঘদিন হলো আমি এ এলাকায় আওয়ামীলীগের দলীয় পদে রয়েছি সে কিভাবে আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি হলো জানা নেই।

তিনি আরো বলেন দলের এবং স্পিকার এ্যাড. ফজলে রাব্বীর নাতি পরিচয় দিয়ে এলাকায় বিভিন্ন ভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে এদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ আজ অতিষ্ট হয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে প্রতিবাদে সামিল হয়েছে।

এ গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা তাতীলীগের সহ সভাপতি ওমৃত রহিম উদ্দিনের ছেলে তারা মিয়া জানান, এ পরিবারটির কারণে অত্র এলাকার মানুষ আওয়ামীলীগের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। দলের কথা তোলা হলে সাধারণ মানুষ এ পরিবারটি কর্মকান্ডের উক্ত দেন যা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।

পলাশাবাড়ী থানার একজন উদ্ধোতন কর্মকর্তাজানান, রাসেলের পরিবারের মিথ্যা অভিযোগের স্বীকার হয়ে স্থানীয়রা নানা ভাবে হয়রানী হচ্ছে এদের ভালো মুখোশের আড়ালে চলে সুদের ব্যবসা যাকে আমরা বলি দাদন ব্যবসা। এ পরিবারটি পুরোপুরি দাদন ব্যবসার সাথে জড়িত।

উল্লেখ্য ,এ পরিবারটির হাত থেকে উক্ত এলাকাটির সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও নির্যাতনের হতে রক্ষায় বর্তমান সরকার এবং প্রশাসনেরসহ দলীয় হাইকমান্ডের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা জরুরী হয়ে পড়েছে।