২৮ বছর পর মন্ত্রী হল কুড়িগ্রাম জেলায়

রুহুল সরকার, রাজীবপুর ওরৌমারী (কুড়িগ্রাম )প্রতিনিধিঃ গত তিন দশক ধরে কোন মন্ত্রী হয়নি কুড়িগ্রাম জেলায় অবশেষে এবার মন্ত্রিপরিষদে একজন সদস্য পেয়েছে।

কুড়িগ্রাম ৪ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ জাকির হোসেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী না থাকায় জাকির হোসেন এই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। আজ রোববার বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম নতুন মন্ত্রীদের তালিকা ঘোষণা করার সময় এ কথা বলেন।

কুড়িগ্রাম জেলা থেকে সর্বশেষ কেউ মন্ত্রী ছিল ২৮ বছর আগে। ১৯৯০ সালে জাতীয় পার্টির মাঈদুল ইসলাম মুকুল ছিলেন এই জেলার সর্বশেষ কোনো মন্ত্রী। ‘৯০ সালের পর বিএনপি বা আওয়ামী লীগের আমলে এই জেলার কোনো সাংসদই মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাননি।

নতুন দায়িত্ব পাওয়া জাকির হোসেন স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে আস্থা রেখে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন তা যথাযথভাবে পালনে সর্বদা চেষ্টা করবো। কুড়িগ্রামের সকলকে নিয়ে এই জেলার উন্নয়নে কাজ করাই হবে আমার মূল লক্ষ। সকলের দোয়া ও সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি। দীর্ঘদিন পর এই জেলার কোনো সাংসদ মন্ত্রিপরিষদে স্থান খুশি এলাকার মানুষ। রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলায় মিষ্টি সাধারণ মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেছেন আ’লীগ নেতাকর্মীরা ।

রৌমারী উপজেলা শহরের ব্যবসায়ী শাহাজামাল উদ্দিন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তাঞ্চলখ্যাত রৌমারী থেকে জাকির হোসেনকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য করায় আমরা অনেক খুশি।

রৌমারী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ এস এম হুমায়ুন কবির বলেন, শিক্ষা নদী ভাঙ্গন যোগাযোগ ব্যাবস্থা সহ বিভিন্ন দিক থেকে পিছিয়ে পড়া বিচ্ছিন্ন এ এলাকা থেকে জননেতা জাকির হোসেনকে মন্ত্রী করায় আমরা গর্বিত। এখন থেকে দেশের সাথে এগিয়ে যাবে পিছিয়ে এ জনপথ।

সাংবাদিক কুদ্দুস বিশ্বাস বলেন, দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া দরিদ্র জেলা কুড়িগ্রাম। এর মধ্যে মন্ত্রীর নিজ আসনটির (রাজীবপুর রৌমারী ও চিলমারী) তিনটি উপজেলাই দেশের সবচেয়ে দরিদ্র এলাকা। সারা দেশে উন্নয়ন হলেও কুড়িগ্রাম জেলায় দারিদ্র্যতা বেড়েছে। ২৮ বছর পর প্রতিমন্ত্রী পাওয়ায় তার প্রতি প্রত্যাশা স্বভাবতই বেশি থাকবে। এই এলাকার উন্নয়ন তিনি সর্বোত চেষ্টা করবেন এই আশা করি।

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার লেখক ও গণকমিটির প্রতিষ্ঠাতা নাহিদ হাসান নলেজ বলেন, আমাদের সমস্যা অফুরন্ত এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন নতুন প্রতিমন্ত্রী এটিই চাওয়া।

জাকির হোসেনের নির্বাচনী আসন কুড়িগ্রাম-৪। রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলা নিয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসন গঠিত। জাকির হোসেন মন্ত্রিপরিষদের স্থান পাওয়ায় শুধু এই আসনের মানুষ নন পুরো জেলার মানুষই উচ্ছ্বসিত। তিনি আরও বলেন পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমানে দারিদ্র্যের শীর্ষে থাকা জেলা কুড়িগ্রাম এই দারিদ্রতা থেকে মুক্ত না হলে উন্নয়ন সম্ভব নয়। ।

রাজীবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনের সাংসদ এখন মন্ত্রী এচেয়ে খুশির খবর আর হয় না এলাকার উন্নয়ন কল্পে তিনি নানা উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলেও আশাবাদ জানান।