আমাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে বিবেচনা করবেন: সৌদি যুবরাজ

বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পুলওয়ামাতে আরডিএক্স বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি নিয়ে ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স’র গাড়ি বহরে আত্মঘাতী হামলায় ভারতীয় ৪৪ সেনা নিহত হয়। এই বহরে ৭০টি গাড়ির মধ্যে একটি বাস সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়ে যায়। হামলার পর জঙ্গিগোষ্ঠী জয়েশ-ই-মোহাম্মদ ঘটনার দায় স্বীকার করেছে।

কাশ্মীরে এই হামলা পর থেকে পাকিস্তান-ভারতের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায় করে ভারত। আর হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আবারো বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষে মেজরসহ ভারতের চার সেনা নিহত হয়েছেন।

নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে নিহত হয়েছে সন্দেহভাজন দুই বিচ্ছিন্নতাবাদী। তাদের আশ্রয়দাতাও সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে। সবমিলে ৭ জন নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

তবে এই হামলা দায় নিতে রাজি নয় পাকিস্তান। এই মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হুশিয়ারি দিয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, পাকিস্তানের হাত থাকার কথা না ভেবে নিজেদের ত্রুটি নিয়ে মাথা ঘামাক ভারত। কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতীয় সেনাবহরে আত্মঘাতী হামলায় পাকিস্তানের উপর দায় চাপানোর দু’দিন পর রবিবার কড়া জবাব দিল পাকিস্তান।

এদিকে ভারত যখন জঙ্গি হামলা ঠেকাতে ব্যস্ত। তখন পাকিস্তান ব্যস্ত সৌদি যুবরাজকে নিয়ে। রবিবার দুই দিনের সফরে পাকিস্তানে গিয়েছেন সৌদি যুবরাজ।

এই সফরে মধ্যে দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে। সেই লক্ষে সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি দুই হাজার পাকিস্তানিকে মুক্তি দিতে নির্দেশ দিয়েছে সৌদি আরব। পাকিস্তানে চলমান সফরে এই বন্দি মুক্তির ঘোষণা দিলেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

যুবরাজকে স্বাগত জানিয়ে রবিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রধানমন্ত্রীর ভবনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ইমরান খান।

অনুষ্ঠানে যুবরাজকে ইমরান খান বলেন, সৌদি আরবে তিন হাজার পাকিস্তানি বন্দি রয়েছেন। তারা খুবই দরিদ্র। দেশে পরিবার-পরিজনকে ফেলে রেখে তারা কাজের খোঁজে সেখানে গিয়েছেন। যদি তাদের বিষয়টি আপনি বিবেচনায় নিতেন।

জবাবে সৌদি যুবরাজ বলেন, সৌদি আরবে আমাকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে বিবেচনা করবেন।

সৌদি আরবে প্রায় ২৫ লাখ পাকিস্তানি শ্রমিক রয়েছে জানিয়ে ইমরান খান বলেন, তারা বর্তমানে দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এসব শ্রমিকরা নিজেদের পরিবার সন্তানাদি ফেলে সৌদি আরকে কাজের খোঁজে যান। বছর কিংবা মাসের পর মাস তারা পরিবার থেকে দূরে থাকেন।

এ সময় যুবরাজ বলেন, আমি পাকিস্তানকে না বলতে পারি না। যতটা সম্ভব তাদের জন্য কাজ করব।

এ সময় ইমরান খান বলেন, সৌদি আরবের নাগরিকরা পাকিস্তানের ভাই। কষ্টের সময় যেন তাদের প্রতি একটু সুনজরে দেখা হয়, এটাই আমার অনুরোধ।

জবাবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, আসছে দিনগুলোতে পাকিস্তানের অর্থনীতি নিয়ে আমি আশাবাদী।