‘গানের রাজা’ রিয়েলিটি শোতে অনিয়মের অভিযোগ, বিচারকের আসন ছেড়ে দিলেন কণ্ঠশিল্পী কোনাল

তরুণ কণ্ঠশিল্পী সোমনুর মনির কোনাল চ্যানেল আইয়ে শিশুদের রিয়েলিটি শো ‘গানের রাজা’ রিয়েলিটি শো’র বিচারকের আসন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এ শোটিতে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তিনি তার বিচারকের আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন। অনুষ্ঠানটিতে বিচারের রায় উপেক্ষা ও শিশুদের গান নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে। আর সেকারণে ‘গানের রাজা’র পরের পর্বগুলোয় আর দেখা যাবে না তাকে।

বিষয়টি নিয়ে কোনাল বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানে স্বাভাবিকভাবে বিচারকাজ চালানো যাচ্ছিল না। অনুষ্ঠান টিম শুরু থেকেই এ কাজে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। শুরুতে ছোটখাটো অনেক ব্যাপার মেনে নিয়েছি। পরে দেখলাম শিশুদের গান বাছাই করার ক্ষেত্রে অনিয়ম করছেন তারা। দেখা গেছে, বিচারকাজে তারা যে সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন, সেটাও মেনে নিতে হচ্ছে। তাহলে আর বিচারক থেকে লাভ কী?’

তিনি বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় তুলে ধরে বলেন, ‘মারাত্মক অনিয়ম হচ্ছে সেখানে। আমাদের সময়ে ৪০ শতাংশ ভোট দিতেন দর্শক। এখানে সেই সুযোগ নেই। এখন সবকিছু নির্ধারণ করেন প্রযোজক। একজন বিচারক বা দর্শক কখনো সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না।’

শুধু তাই নয় শীর্ষ ছয় থেকে বাদ পড়েছেন খুলনা বিভাগের প্রতিযোগী সালভিয়া আফরোজ জয়ীও অনিয়মের অভিযোগ জানিয়েছেন ‘গানের রাজা’র রিয়েলিটির বিরুদ্ধে ।

এ বিষয়ে তার মা লায়লা পারভীন বলেন, আমার মেয়ে সব ধরনের গানে পারদর্শী। খুলনার অন্য প্রতিযোগীদের থেকে সে ভালো নম্বর পেয়ে সেরা ছয়ে জায়গা করে নেয়। চক্রান্ত করে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। চ্যানেল আই ও অনুষ্ঠানটির সঙ্গে জড়িত এক কর্মী আমাকে বলেছেন, কাকে কাকে রাখা হবে, তা আগেই ঠিক করা হয়।

এদিকে, অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ‘গানের রাজা’র পরিচালক তাহের শিপন বলেন, ‘প্রতিযোগিতার বিচারক কোনাল ও ইমরানের নম্বরের ভিত্তিতেই প্রতিযোগীদের বিচার করা হয়েছে। তাদের সই করা নম্বরপত্র আমাদের কাছে আছে। চাইলে আমরা সেটা দেখাতেও পারব।’

বিষয়টি নিয়ে ‘গানের রাজা’র নির্বাহী প্রযোজক ইসমত আরা ইতি বলেন, ‘এটি একটি প্রতিযোগিতা। এখান থেকে স্বাভাবিক নিয়মে আমাদের কিছু প্রতিযোগীকে বাদ দিতে হয়। বিচারকরা যে নম্বর দিয়েছেন, তার ভিত্তিতেই ওই প্রতিযোগীকে বাদ দেয়া হয়েছে।’