জগন্নাথে ‘সরস্বতী পূজা ২০১৯’ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় পূজা কমিটির উদ্যোগে ‘সরস্বতী পূজা ২০১৯’ উপলক্ষে আজ (২০ ফেব্রুয়ারি-২০১৯, বুধবার, বেলা ১২টায়) ‘আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর সমাবেত সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, “ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে এধরনের অনুষ্ঠানে অংশ্রহণ বাংলাদেশের ঐতিহ্য।

এখন আমরা ভ্রাতৃত্বের মনোভাব নিয়ে সকল ধর্মীয় উৎসবে সবাই মিলে পালন করতে পারছি। কিন্তু ২০০১-২০০৬ সালে দেশ বিপথে চলে গিয়েছিল। সেই বিপথ আর বিপদ থেকে উন্নয়নের মহাসড়কে পৌছাতে সক্ষম হয়েছি একমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বের ফলে।”

তিনি আরো বলেন, জাতির জনক সারাজীবন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টায় নিয়োজিত ছিলেন। হানাহানি বাদ দিয়ে আমরা পরবর্তী প্রজন্মকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে যেতে পারি, বিদ্যা-জ্ঞান নির্ভর অর্থনীতি বাস্তবায়ন করতে পারি।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, “বাঙালি ও বাঙালিত্ব অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধকে জাগ্রত রাখতে সকল ধর্মের মানুষকে এই ধরনের অনুষ্ঠানগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। অতীতকালের যে কোন সময়ের থেকে বর্তমান সময়ে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পেয়েছে সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে। পরমত সহিষ্ণুতা, পরমধর্ম এগুলোর প্রতি সহানুভতিশীল হতে হবে। জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা তখনই বাস্তবায়িত হবে যখন জাতির জনকের সাম্যের বাংলাদেশে সকলে মিলেমিশে চলতে পারবে।”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় পূজা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. প্রিয়ব্রত পাল-এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এম. পি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়া, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ,

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কেন্দ্রীয় পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. অরুন কুমার গোস্বামী। আলোচনা শেষে নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি ও বাঁশি বাজানসহ বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।