ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের কিছু শেখার নেই

আপনার কাছ থেকে কী শিখবো? কী শেখার আছে, আপনার কাছে কিছু শিখবো না। শিখলে জাপান, সিঙ্গাপুর অথবা মালয়েশিয়ার কাছ থেকে শিখবো। যারা পৃথিবীতে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। মনে প্রশ্ন জাগে কোন দিক দিয়ে আপনারা (ভারত) আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে, দুর্গন্ধ, ট্রাফিকজ্যাম, জনসংখ্যার আধিক্য পরমতসহিষ্ণুতা কোন দিক দিয়েই তো ভাল অবস্থানে নেই। তারপরও কেন ভারতের কাছ থেকে আমাদের আমলাদের শিখতে হবে? এমন প্রশ্ন গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছে।

এদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান আমলাদের ভারতে প্রশিক্ষণের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাজমহল দেখা ও বউয়ের জন্য শাড়ি কেনা ছাড়া ভারতে আমলাদের প্রশিক্ষণে পাওয়ার কিছু নেই। গত ৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

Advertisement

এদিকে সাবেক প্রধান হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা বলেন, ‘দেশে প্রশিক্ষণ দেয়ার যথেষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে, তারপরেও কেন ভারতে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হচ্ছে তার যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছি না। আমলাদের প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের দ্বারস্থ হওয়ায় আমি আশ্চর্য হয়েছি।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। পূর্বের তুলনায় প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা যথেষ্ট উন্নত হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সামরিক বাহিনীতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। যেখানে প্রতিবছর বিদেশিরা এসে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। আমি মনে করি ভারতে গিয়ে আমলাদের প্রশিক্ষণের কোনো প্রয়োজন নেই।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘কর্মকর্তাদের যদি দক্ষতার অভাব থাকে তাহলে কারণ, বিগত দশ থেকে বার বছর আমলাদের নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি সবকিছুতে স্বচ্ছতার অভাব ছিল। এগুলো হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। যার ফলে অদক্ষ লোক নিয়োগ পেয়েছে। তারপরেও আমি মনে করি, ভারতে গিয়ে আমলাদের প্রশিক্ষণ নেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।’

এর আগে বাংলাদেশের ১৮০০ কর্মকর্তার ভারতে প্রশিক্ষণের বিষয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, ‘দেশের ১৮০০ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভারতে ট্রেনিং নেবেন। কী নেবেন? যে দেশে দুধের চেয়ে গোমূত্রের দাম বেশি, সে দেশ থেকে বাংলাদেশ কী শিখবে?’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘তারা তো আমার দেশের গণতন্ত্র মুক্তির কথা বলে না। আসলে দেশের গণতন্ত্রকে আমাদেরই ফিরিয়ে আনতে হবে। আর তা করতে হলে ভারতের যে চক্রান্ত, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আর এটা কোনও সহজ কাজ নয়।’